আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ। হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ। (লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আজান ও ইকামত
أذكار الأذان والإقامة
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো। কেবল "হাইয়্যা আলাস-সালাহ" ও "হাইয়্যা আলাল-ফালাহ" এর জায়গায় রাসূল (সাঃ) বলতেন, "লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ ﴿لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ﴾، حَيَّ عَلَى الْفَلَا ﴿لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ﴾، اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
উচ্চারণ
অনুবাদ
আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল। এসো সালাতের দিকে। এসো সফলতার দিকে। (পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার কোন ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া, এবং ভাল কাজ করার কোন ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া)। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই।
ফযিলত ও গুরুত্ব
যদি সে বিশুদ্ধ অন্তরে এসবই বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৬১১, সহীহ মুসলিম: ৩৮৫, সহীহ ইবনু হিব্বান: ১৬৮৫, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪১৬
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে এই দু’আ পাঠ করবেঃ
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়াআদতাহ।
ফযিলত ও গুরুত্ব
কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ (শাফায়াত) আবশ্যক হয়ে যাবে।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৬১৪
রাসুল (সাঃ) বলেন, যখন তোমরা মু’আযযীনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমারও তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
অনুবাদ
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে এমনভাবে সম্মানিত করুন, যেমনভাবে ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গকে সম্মানিত করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে যে সম্মান বা মর্যাদা প্রদান করেছেন, সে সম্মান বা মর্যাদা এমনভাবে বলবৎ রাখুন, যেমনভাবে ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের সম্মান বা মর্যাদা বলবৎ রেখেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত মহিমান্বিত।
ফযিলত ও গুরুত্ব
কারণ যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে। ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোন এক বান্দাকে দেয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
রেফারেন্স:সহীহ মুসলিম: ৩৮৪
যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে এই দোয়াটি পড়বে, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا
উচ্চারণ
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান, ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনান।
অনুবাদ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ কে রাসুল হিসেবে পেয়ে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে।
ফযিলত ও গুরুত্ব
এটি মুয়াজ্জিনের শাহাদাত (সাক্ষ্য) দেওয়ার পর বলতে হয়।
রেফারেন্স:সহীহ মুসলিম: ৩৮৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
ফযিলত ও গুরুত্ব
এই সময়ে যেকোনো নেক দোয়া করা যায়।
রেফারেন্স:সুনানে তিরমিযী: ২১২, সুনানে আবু দাউদঃ ৫২১
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য এই দোয়াটি করেছেন।
اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الْأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ
উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা আরশিদিল আইম্মাতা ওয়াগফির লিল মুয়াযযিনীন।
অনুবাদ
হে আল্লাহ! আপনি ইমামদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দিন।
ফযিলত ও গুরুত্ব
এটি একটি বরকতময় দোয়া যা ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে পড়া হয়।
রেফারেন্স:সুনানে আবু দাউদ: ৫১০, তিরমিযী: ২০৭