hadith book logo

ইসলামী আকীদা বিষয়ক কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

লেখকঃ শায়খ মুহাম্মাদ জামীল যাইনু • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

অসীলা ও তার প্রকারভেদ

২৪। প্রশ্ন: কিসের মাধ্যমে আল্লাহ্র অসীলা বা নৈকট্যের মাধ্যম গ্রহণ করা যায়?

২৪। উত্তর : অসীলা বা নৈকট্য গ্রহণের উপায় দুই ধরনের হয়ে থাকে, (১) বৈধ (২) অবৈধ।

(১) বৈধ ও পালনীয় অসীলা গ্রহণের উপায় হলো :

(ক) আল্লাহ্ তাআলার নাম ও গুনাবলির মাধ্যমে

(খ) সৎ কর্মের মাধ্যমে ও

(গ) জীবিত সৎ ব্যক্তিদের দুআর মাধ্যমে

আল্লাহ্ তাআলা বলেন :

وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوْهُ بِهَا

‘‘আল্লাহ্র জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম, অতএব তোমরা তাঁকে সেই সব নামেই ডাকবে।’’ সূরা আল আ‘রাফ : ১৮০

يَأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَابْتَغُوْا إِلَيْهِ الْوَسِيْلَةَ

‘‘হে মু‘মিনগণ! আল্লাহ্কে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ কর।’’ আল-মায়িদাহ্ : ৩৫

(অর্থাৎ তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর পছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ কর।)

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘‘(হে আল্লাহ্ !) আমি তোমার নিকট ঐ সমস্ত নামের (অসীলায়) মাধ্যমে প্রার্থনা করি যে সমস্ত নামে তুমি নিজের নামকরন করেছ।’’ (মুসনাদে আহ্মাদ)

রাসূল এবং অলীদের প্রতি আল্লাহ্র ভালবাসার ওসীলা এবং রাসূল ও অলীদের প্রতি আমাদের ভালবাসার ওসীলা গ্রহণ জায়েয। কেননা তাদের ভালবাসাও সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, আমরা এভাবে বলতে পারি : (হে আল্লাহ্ ! তোমার রাসূল ও অলীদের প্রতি ভালবাসার ওসীলায় আমাদেরকে সাহায্য কর এবং তোমার রাসূল ও অলীদের প্রতি তোমার ভালবাসার অসীলায় আমাদের রোগ মুক্ত কর।)’’

২। অবৈধ অসীলা গ্রহণের রূপ : মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা, তাঁর নিকট প্রয়োজনীয় বস্ত্ত চাওয়া। যেমন বর্তমানে কতক মুসলিম দেশে তা রয়েছে, এটি বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ তাআলা বলেন :

لاَ تَدْعُوْ مِنْ دُوْنِ اللهِ مَا لاَ يَنْفَعُكَ وَلاَ يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِيْنَ

‘‘আর আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যা তোমার উপকারও করে না, অপকারও করে না। যদি তা কর তবে তুমি অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’ সূরা ইউনুস : ১০৬ অর্থাৎ মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার অসীলা গ্রহণ করা। যেমন, কেউ বলল : ‘‘হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের মর্যাদার ওসীলায় আমার রোগ মুক্ত কর।’’ এ ধরনের কথাতেও চিন্তার বিষয় রয়েছে। কারণ, সাহাবায়ে কেরাম কখনো এ ধরনের অসীলা করেননি। খলীফা ওমর রা. রাসূলের মৃত্যুর পর তাঁর ওসীলা গ্রহণ না করে তাঁর জীবিত চাচা আববাসের দোআর অসীলা গ্রহণ করেছেন। অতএব, অতএব কেউ যদি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ কোন ব্যক্তির মধ্যস্থতার মুখাপেক্ষী, তবে উক্ত ওসীলা শিরকের পর্যায়ে যেতে পারে। যেমন : আমীর ও রাষ্ট্র প্রধান মধ্যস্থতার মুখাপেক্ষী। এটা প্রকৃত পক্ষে সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টি জীবের সাদৃশ্য স্থাপন করার ন্যায়।

ইমাম আবু হানীফা বলেন : ‘‘আমি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের মাধ্যমে প্রার্থনা করা মাকরূহ মনে করি।’’ (দুররে মুখতার)