hadith book logo

কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে মদপান ও ধূমপানের অপকারিতা

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

মদখোরের শাস্তি:

কারোর ব্যাপারে মদ অথবা মাদকদ্রব্য পান কিংবা সেবন করে নেশাগ্রস্ত হওয়া প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে। সে যতবারই পান করে ধরা পড়বে ততবারই তার ওপর উক্ত দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হবে। তবে তাকে এ জন্য কখনোই হত্যা করা হবে না। যা সকল গবেষক আলেমগণের ঐকমত্যে প্রমাণিত।

মু‘আওয়িয়া ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদখোর সম্পর্কে বলেন,

«إِذَا سَكِرَ وَفِيْ رِوَايَةٍ : إِذَا شَرِبَ الْـخَمْرَ فَاجْلِدُوْهُ، فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوْهُ، فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوْهُ، ثُمَّ قَالَ فِيْ الرَّابِعَةِ : فَإِنْ عَادَ فَاضْرِبُوْا عُنُقَهُ»

“যখন কেউ (কোনো নেশাকর দ্রব্য সেবন করে) নেশাগ্রস্ত হয়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন কেউ মদ পান করে, তখন তোমরা তাকে বেত্রাঘাত করবে। আবারো নেশাগ্রস্ত হলে আবারো বেত্রাঘাত করবে। আবারো নেশাগ্রস্ত হলে আবারো বেত্রাঘাত করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থবার বললেন, আবারো নেশাগ্রস্ত হলে তার গর্দান উড়িয়ে দিবে”। [আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৮২; তিরমিযী, হাদীস ১৪৪৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৬২০; নাসাঈ, হাদীস ৫৬৬১; আহমদ ৪/৯৬]

ইমাম তিরমিযী রহ. জাবির ও কাবীসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট চতুর্থবার মদ পান করেছে এমন ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে মেরেছেন, তবে হত্যা করেন নি।

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«أُتِيَ بِرَجُلٍ عِنْدَ النَّبِيِّ قَدْ شَرِبَ الْـخَمْرَ، فَجَلَدَهُ بِجَرِيْدَتَيْنِ نَحْوَ أَرْبَعِيْنَ، وَفَعَلَهُ أَبُوْ بَكْرٍ، فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ اسْتَشَارَ النَّاسَ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنُ بْنُ عَوْفٍ : أَخَفُّ الْـحُدُوْدِ ثَمَانُوْنَ، فَأَمَرَ بِهِ عُمَرُ»

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একদা জনৈক মদ্যপায়ীকে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে পাতা বিহীন দু’টি খেজুরের ডাল দিয়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুও তার খিলাফতকালে তাই করেছিলেন। তবে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন খলীফা হলেন তখন তিনি সাহাবীগণের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তখন আব্দুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন: সর্বনিম্ন দণ্ডবিধি হচ্ছে আশিটি বেত্রাঘাত। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাই বাস্তবায়নের আদেশ করেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭০৬; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৪৭৯]

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে এও বর্ণিত, তিনি বলেন,

«كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَضْرِبُ فِيْ الْـخَمْرِ بِالنِّعَالِ وَالْـجَرِيْدِ»

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্যপানের শাস্তি স্বরূপ মদ্যপায়ীকে জুতো ও খেজুরের ডাল দিয়ে পেটাতেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৪৭৯; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৬১৮]

আবু সাসান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন ওয়ালীদ ইবন উক্ববাহকেও তার নিকট উপস্থিত করা হলো। সে মানুষকে ফজরের দু’রাকাত সালাত পড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো: তোমাদেরকে আরো কয়েক রাকাত বেশি পড়িয়ে দেবো কি? তখন দু’জন ব্যক্তি তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিলো। তাদের একজন তার ব্যাপারে এ বলে সাক্ষ্য দিলো যে, সে মদ পান করেছে। অপরজন এ বলে সাক্ষ্য দিলো যে, সে তাকে বমি করতে দেখেছে। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন: সে মদ পান করেছে বলেই তো বমি করেছে? তখন তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন হে আলী! দাঁড়াও। ওকে বেত্রাঘাত করো। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার ছেলে হাসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন, হে হাসান! দাঁড়াও। ওকে বেত্রাঘাত করো। তখন হাসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাগাম্বিত স্বরে বললেন, বেত্রাঘাত সেই করুক যে উক্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আব্দুল্লাহ ইবন জাফর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন, হে আব্দুল্লাহ! দাঁড়াও। তাকে বেত্রাঘাত করো। তখন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বেত্রাঘাত করছিলেন আর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তা গণনা করছিলেন। চল্লিশটি বেত্রাঘাতের পর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন বেত্রাঘাত বন্ধ করো। অতঃপর তিনি বললেন,

«جَلَدَ النَّبِيُّ أَرْبَعِيْنَ، وَجَلَدَ أَبُوْ بَكْرٍ أَرْبَعِيْنَ، وَعُمَرُ ثَمَانِيْنَ، وَكُلٌّ سُنَّةٌ، وَهَذَا أَحَبُّ إِلَيَّ»

“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। আবু বকরও চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন; কিন্তু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আশিটি বেত্রাঘাত করেন। তবে চল্লিশটি বেত্রাঘাতই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭০৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৪৮১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৬১৯]