hadith book logo

মিথ্যার প্রচলিত আকার-প্রকৃতি

লেখকঃ শামসুল হুদা আযীযুল হক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

মিথ্যা সুপারিশ

একজন বিজ্ঞ, জ্ঞানী ও বুযুর্গ ব্যক্তির একটি সুপারিশ-নামা আমার নিকট আসল। আমি তখন জেদ্দায় অবস্থান করছিলাম। পত্রে তিনি লিখেছেন, পত্রবাহক ওমুক দেশের নাগরিক। তবে তিনি আপনার দেশে যেতে চান। অতএব আপনি দূতাবাসে একটি সুপারিশ লিখে দেন, তাকে যেন আপনার দেশের একটি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়, এ সূত্রে যে তিনি আপনার দেশেরই নাগরিক এবং তার পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছে। এ মর্মে আপনার দেশের দূতাবাসে একটি দরখাস্তও জমা দেয়া আছে। অতএব, আপনি তার সুপারিশটি করে দেবেন।

পাঠকবৃন্দ! আপনারাই বলুন : ওখানে উমরা পালন হচ্ছে, হজ্জ আদায় হচ্ছে, তাওয়াফ ও সায়ী হচ্ছে, সে দেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও এধরনের মিথ্যা ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। মনে হয় যেন এসব ব্যাপার তাদের কাছে দ্বীনের কোনো অংশই না। আসল ব্যাপার হল দ্বীনের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

মানুষ এটা ধারণা করে নিয়েছে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাকে মিথ্যা মনে করে বললেই কেবল মিথ্যা হবে। আর ডাক্তারের কাছ থেকে মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট বানিয়ে নেওয়া, মিথ্যা সুপারিশনামা লিখিয়ে নেয়া অথবা মিথ্যা মামলা দায়ের করা, এগুলো যেন কোনো মিথ্যাই নয়। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন :

مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ

(সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে।) [সূরা কাফ : ১৮]

অর্থাৎ তোমাদের মুখ থেকে যা কিছু উচ্চারিত হয় তা তোমাদের আমলনামায় রেকর্ড করা হচ্ছে।