১
আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়; সমস্যা
লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়; সমস্যা
আমার জীবনের প্রথম বন্ধু আবদুল মালেক। অবুঝ বয়সে ও আর আমি একসঙ্গে মাদরাসায় যেতাম। আমার আর ওর বাড়ি থেকে খাবার আনত ওর বড় ভাই। আমি যখন দুনিয়ার ভালো-মন্দ কিছুই বুঝতাম না, তখন ও অনেক কিছুই বুঝত। ও প্রায়ই মাদরাসা পালিয়ে বাড়িতে যেত। পড়াশুনার বাইরের জগতের প্রতিই ওর ছিল যত আগ্রহ। বছর পার না হতেই সে মাদরাসায় না পড়ার জন্য নানা বাহানা খুঁজতে লাগল। অবশ্য ওর বাবা ওকে মাদরাসায় পড়ানোর জন্য চেষ্টায় কসুর করেন নি। একদিন সে সত্যিই মাদরাসাকে বিদায় জানাল।
মাদরাসা থেকে চলে যাবার পর অনেক বছর যাবত তার সঙ্গে আমার দেখা নাই। মক্তব ছেড়ে আমি একাডেমিক পড়াশুনা শেষ করলাম। ওর সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। বেচারার কথা যে মনে পড়ে না, তা নয়। আসলে ওর খবর নেয়ার তেমন সুযোগই ঘটেনি। একদিন বগুড়ার এক ইসলামী মাহফিলে হঠাৎ দেখা ওর সঙ্গে। ছোটবেলায় ও আমার বাড়ি থেকে আনা খাবারে আগ্রহ দেখাত বলে ওকে পেটুক বলে ডাকতাম। এতদিন পর সাক্ষাতেও সে বাল্যকালের কথাই মনে করিয়ে দিল। বলল, দোস্ত কিছু খাওয়া। আমি হেসে বললাম, যাক তাহলে অভ্যাসটায় খুব একটা হেরফের হয়নি। ওকে সম্ভবত চটপটি আর পাপড় খাওয়ালাম। তারপর পড়াশুনার খাতিরে চট্টগ্রাম চলে এলাম। তিন মাস পর বাড়ি এসে শুনি আবদুল মালেক আত্মহত্যা করেছে! বাপের ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহনন করেছে। শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। তারপর ওর বাবা-মা’র সাথে সাক্ষাৎ করলাম। সেদিনের বিবরণ শুনলাম তাদের কাছে। আবদুল মালেক নাকি বাবার ওপর রাগ করে তিনদিন না খেয়ে চতুর্থ দিনে এসে এ কাজ করে বসে। দিন তারিখ মিলিয়ে হিসেব করে দেখলাম আমার সাথে সাক্ষাতের দিনটি ছিল ওর মৃত্যুর আগের দিন। হতবাক হয়ে গেলাম। ইস যদি আমি ওকে পেট ভরে ভাত খাওয়াতাম। তিনদিনের অনাহারী ছিল বলেই বোধ হয় অবশেষে বাল্যবন্ধুকে পেয়ে অকপটে খাওয়ানোর আবদার করেছিল। আর তাকেই কি-না বাল্যকালের দোহায় দিয়ে পেটুক বলেছিলাম বলে আফসোসে দগ্ধ হতে লাগলাম।
আত্মহত্যা শব্দটির সঙ্গে অবশ্য পরিচয় এ ঘটনার অনেক আগে। আমাদের মহল্লার একটি পরিত্যক্ত বাসায় এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। কৈশোরের অবুঝ মনে সেদিন বড় বিস্ময় উপহার দিয়েছিল আস্ত একটি মানুষের নিষ্প্রাণ দেহ। তবে প্রকৃতপক্ষে ক্ষণকালের তালিবুল ইলম আবদুল মালেকের আত্মহননই প্রথম আমাকে বিপুলভাবে নাড়া দেয়। তখনই আমি শুনতে পাই আত্মহত্যা সম্পর্কে বাঙালী সমাজে প্রচলিত সত্য-মিথ্যা নানা কথা। ওর বাবা-মা'র কান্নাভেজা কণ্ঠ আমাকে বড়ই আবেগাপ্লুত করে। আমাকে দেখে তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, 'হায় একই রকম দু'টি বাচ্চা একসঙ্গে মাদরাসায় যেত। আর এখন একজন জান্নাতের পথিক 'মাওলানা' আর আমাদের ছেলেটা চিরস্থায়ী জাহান্নামী'! জন্মদাতা বাবা-মা'র মুখে সন্তানের চিরস্থায়ী জাহান্নামবাসী হবার কথা আমাকে প্রবলভাবে কাঁপিয়ে দেয়। আমার মনে প্রশ্ন জাগে আত্মহত্যাকারী মুসলিম কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবেন যেমন মনে করে আমাদের সমাজ? শুধু তাই নয়, আমি যখন আবদুল মালেকের কথা স্মরণ করে দু'আয় কেঁদে উঠি, তখন কেউ কেউ বলেন, 'ছি, ওদের জন্য দু'আ করতে নেই'। সে থেকেই আত্মহত্যা নিয়ে আমার কৌতূহল আর এ সম্পর্কে জানার পর এ নিয়ে লেখার এবং মুসলিম সমাজকে এ সম্পর্কে সঠিক কথা জানানোর আগ্রহ। পাঠক, আজ চলুন এ বিষয়েই জানা যাক নানা কথা।
মাদরাসা থেকে চলে যাবার পর অনেক বছর যাবত তার সঙ্গে আমার দেখা নাই। মক্তব ছেড়ে আমি একাডেমিক পড়াশুনা শেষ করলাম। ওর সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। বেচারার কথা যে মনে পড়ে না, তা নয়। আসলে ওর খবর নেয়ার তেমন সুযোগই ঘটেনি। একদিন বগুড়ার এক ইসলামী মাহফিলে হঠাৎ দেখা ওর সঙ্গে। ছোটবেলায় ও আমার বাড়ি থেকে আনা খাবারে আগ্রহ দেখাত বলে ওকে পেটুক বলে ডাকতাম। এতদিন পর সাক্ষাতেও সে বাল্যকালের কথাই মনে করিয়ে দিল। বলল, দোস্ত কিছু খাওয়া। আমি হেসে বললাম, যাক তাহলে অভ্যাসটায় খুব একটা হেরফের হয়নি। ওকে সম্ভবত চটপটি আর পাপড় খাওয়ালাম। তারপর পড়াশুনার খাতিরে চট্টগ্রাম চলে এলাম। তিন মাস পর বাড়ি এসে শুনি আবদুল মালেক আত্মহত্যা করেছে! বাপের ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহনন করেছে। শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। তারপর ওর বাবা-মা’র সাথে সাক্ষাৎ করলাম। সেদিনের বিবরণ শুনলাম তাদের কাছে। আবদুল মালেক নাকি বাবার ওপর রাগ করে তিনদিন না খেয়ে চতুর্থ দিনে এসে এ কাজ করে বসে। দিন তারিখ মিলিয়ে হিসেব করে দেখলাম আমার সাথে সাক্ষাতের দিনটি ছিল ওর মৃত্যুর আগের দিন। হতবাক হয়ে গেলাম। ইস যদি আমি ওকে পেট ভরে ভাত খাওয়াতাম। তিনদিনের অনাহারী ছিল বলেই বোধ হয় অবশেষে বাল্যবন্ধুকে পেয়ে অকপটে খাওয়ানোর আবদার করেছিল। আর তাকেই কি-না বাল্যকালের দোহায় দিয়ে পেটুক বলেছিলাম বলে আফসোসে দগ্ধ হতে লাগলাম।
আত্মহত্যা শব্দটির সঙ্গে অবশ্য পরিচয় এ ঘটনার অনেক আগে। আমাদের মহল্লার একটি পরিত্যক্ত বাসায় এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। কৈশোরের অবুঝ মনে সেদিন বড় বিস্ময় উপহার দিয়েছিল আস্ত একটি মানুষের নিষ্প্রাণ দেহ। তবে প্রকৃতপক্ষে ক্ষণকালের তালিবুল ইলম আবদুল মালেকের আত্মহননই প্রথম আমাকে বিপুলভাবে নাড়া দেয়। তখনই আমি শুনতে পাই আত্মহত্যা সম্পর্কে বাঙালী সমাজে প্রচলিত সত্য-মিথ্যা নানা কথা। ওর বাবা-মা'র কান্নাভেজা কণ্ঠ আমাকে বড়ই আবেগাপ্লুত করে। আমাকে দেখে তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, 'হায় একই রকম দু'টি বাচ্চা একসঙ্গে মাদরাসায় যেত। আর এখন একজন জান্নাতের পথিক 'মাওলানা' আর আমাদের ছেলেটা চিরস্থায়ী জাহান্নামী'! জন্মদাতা বাবা-মা'র মুখে সন্তানের চিরস্থায়ী জাহান্নামবাসী হবার কথা আমাকে প্রবলভাবে কাঁপিয়ে দেয়। আমার মনে প্রশ্ন জাগে আত্মহত্যাকারী মুসলিম কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবেন যেমন মনে করে আমাদের সমাজ? শুধু তাই নয়, আমি যখন আবদুল মালেকের কথা স্মরণ করে দু'আয় কেঁদে উঠি, তখন কেউ কেউ বলেন, 'ছি, ওদের জন্য দু'আ করতে নেই'। সে থেকেই আত্মহত্যা নিয়ে আমার কৌতূহল আর এ সম্পর্কে জানার পর এ নিয়ে লেখার এবং মুসলিম সমাজকে এ সম্পর্কে সঠিক কথা জানানোর আগ্রহ। পাঠক, আজ চলুন এ বিষয়েই জানা যাক নানা কথা।