১
ছাহাবা ন্যায়নিষ্ঠতা ও সুমহান মর্যাদা
লেখকঃ মুস্তাফা কাসেম আব্বাস • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
শেষ কথা :
আমাদের কর্তব্য এ কথা জেনে রাখা যে, আমরা যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছাহাবী হবার মর্যাদা লাভের সুযোগ হাতছাড়া করেছি। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাই হবার সুযোগ অন্তত যাতে হাতছাড়া না করি। আমরা যেন তাদের মাঝে শামিল থাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদেরকে দেখার বাসনা পোষণ করেছেন। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَتَى الْمَقْبُرَةَ فَقَالَ « السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا » . قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ « أَنْتُمْ أَصْحَابِى وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ » . فَقَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ « أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَىْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ » . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ « فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ أَلاَ لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِى كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ أُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمَّ . فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ . فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا » .
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের উদ্দেশে বের হন। সেখানে তিনি বলেন, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে মুমিনদের ঘরের বাসিন্দারা। আল্লাহ চাইলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। আমার মন চায় যদি আমি আমার ভাইদের দেখতাম!’ ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, ‘তোমরা বরং আমার ছাহাবী। আর আমাদের ভাই হলো তারা, যারা এখনো আসে নি। আমি তাদের আগেই গিয়ে হাউযের কাছে তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকব। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের মধ্যে যারা পরে আসবে আপনি কিভাবে তাদের শনাক্ত করবেন? তিনি বললেন, তোমরা কি মনে করো তোমাদের কারো যদি একটি শুভ্র মুখ সাদা পা বিশিষ্ট ঘোড়া থাকে কালো ঘোড়াদলের মধ্যে সে কি তার ঘোড়াকে চিনবে না? তারা বললেন, জী হ্যা। তিনি বললেন, তারা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উত্থিত হবে যে অযূর পানির কারণে তাদের চেহারা ও হাত-পা উজ্জ্বল থাকবে। আমি হাউজে তাদের অগ্রবর্তী হয়ে অপেক্ষায় থাকব। আমার হাউজের কাছ থেকে কিছু লোককে এমনভাবে তাড়িয়ে দেয়া হবে যেভাবে হারিয়ে যাওয়া উটকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। আমি তাদের ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, তারা আপনার পরবর্তীকালে দীনকে পরিবর্তন করেছে। তখন আমি বলব, তবে দূর হও, তবে দূর হও, তবে দূর হও। [মুসলিম : ৬০৭; মুসনাদ আহমদ : ৯২৯২]
অতএব আমাদের করণীয় হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছাহাবীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা এবং তাঁদের অবলম্বিত পথের পথিক হওয়া। কবি বলেন,
وَتَشَبَّهُوا إِنْ لَمْ تَكُونُوا مِثْلَهُمْ
إِنَّ التَّشَبُّهَ بِالكِرَامِ فَلاَحُ
‘তোমরা যদিও তাদের মতো হতে পারবে না, তবুও তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো। কারণ, সম্মানিতদের সাদৃশ্য অবলম্বনও এক ধরনের সফলতা।’
হে আল্লাহ, তুমি আমাদেরকে নবীর ছাহাবীগণের মতো খাঁটি ঈমানদার এবং প্রকৃত ঈমান ও আমলওয়ালা হওয়ার তাওফীক দাও। আমীন।
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَتَى الْمَقْبُرَةَ فَقَالَ « السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا » . قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ « أَنْتُمْ أَصْحَابِى وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ » . فَقَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ « أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَىْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ » . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ « فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ أَلاَ لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِى كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ أُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمَّ . فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ . فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا » .
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের উদ্দেশে বের হন। সেখানে তিনি বলেন, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে মুমিনদের ঘরের বাসিন্দারা। আল্লাহ চাইলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। আমার মন চায় যদি আমি আমার ভাইদের দেখতাম!’ ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, ‘তোমরা বরং আমার ছাহাবী। আর আমাদের ভাই হলো তারা, যারা এখনো আসে নি। আমি তাদের আগেই গিয়ে হাউযের কাছে তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকব। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের মধ্যে যারা পরে আসবে আপনি কিভাবে তাদের শনাক্ত করবেন? তিনি বললেন, তোমরা কি মনে করো তোমাদের কারো যদি একটি শুভ্র মুখ সাদা পা বিশিষ্ট ঘোড়া থাকে কালো ঘোড়াদলের মধ্যে সে কি তার ঘোড়াকে চিনবে না? তারা বললেন, জী হ্যা। তিনি বললেন, তারা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উত্থিত হবে যে অযূর পানির কারণে তাদের চেহারা ও হাত-পা উজ্জ্বল থাকবে। আমি হাউজে তাদের অগ্রবর্তী হয়ে অপেক্ষায় থাকব। আমার হাউজের কাছ থেকে কিছু লোককে এমনভাবে তাড়িয়ে দেয়া হবে যেভাবে হারিয়ে যাওয়া উটকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। আমি তাদের ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, তারা আপনার পরবর্তীকালে দীনকে পরিবর্তন করেছে। তখন আমি বলব, তবে দূর হও, তবে দূর হও, তবে দূর হও। [মুসলিম : ৬০৭; মুসনাদ আহমদ : ৯২৯২]
অতএব আমাদের করণীয় হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছাহাবীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা এবং তাঁদের অবলম্বিত পথের পথিক হওয়া। কবি বলেন,
وَتَشَبَّهُوا إِنْ لَمْ تَكُونُوا مِثْلَهُمْ
إِنَّ التَّشَبُّهَ بِالكِرَامِ فَلاَحُ
‘তোমরা যদিও তাদের মতো হতে পারবে না, তবুও তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো। কারণ, সম্মানিতদের সাদৃশ্য অবলম্বনও এক ধরনের সফলতা।’
হে আল্লাহ, তুমি আমাদেরকে নবীর ছাহাবীগণের মতো খাঁটি ঈমানদার এবং প্রকৃত ঈমান ও আমলওয়ালা হওয়ার তাওফীক দাও। আমীন।