hadith book logo

নিয়ত অনুসারে পরিণতি

লেখকঃ সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

নিয়তের পারিভাষিক অর্থ

নিয়তের পারিভাষিক অর্থ দুটি :—

এক : কর্মের মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পার্থক্য নিরূপণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রদান। অর্থাৎ, কর্মের উদ্দেশ্য কি লা-শরিক এক আল্লাহর সন্তুষ্টি, নাকি সরাসরি আল্লাহ ভিন্ন অপর কারো সন্তুষ্টি, অথবা আল্লাহর সাথে সাথে ভিন্ন কেউ?—এভাবে পার্থক্য নিরূপণ। উদাহরণত: সালাত আদায়। নিয়তের মাধ্যমে সহজে আমরা পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম হই যে, বান্দা তা কি একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে, তার নির্দেশ পালনার্থে, তাকে ভালোবেসে, করুণা প্রাপ্তির আশায়, তার শাস্তির ভয়ে ভীত হয়ে সালাত আদায় করেছে, না তার আদায়ের পিছনে কাজ করেছে লোক-দেখানো, বা যশ-খ্যাতি প্রাপ্তির মত হীন উদ্দেশ্য।

দুই : ইবাদতের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করা। যেমন : যোহরের সালাতকে আসরের সালাত থেকে পৃথক করা। এবং রমজান মাসের রোজাকে অন্য মাসের রোজা থেকে পৃথক করা। অথবা ইবাদতকে অভ্যাসগত নিত্য-কর্ম থেকে ভিন্ন করে নেয়া। যেমন অপবিত্রতার গোসলকে পরিচ্ছন্নতা ও শীতলতা লাভের গোসল থেকে ভিন্ন করা।

امرئ অর্থ পুরুষ। তবে এখানে নারীরাও অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি শরিয়ার প্রচলিত সম্বোধন ধারা অনুসারে অর্থাৎ ইসলামি শরিয়া কোন ক্ষেত্রে মহিলার উল্লেখ ব্যতীত শুধু পুরুষের উল্লেখ করে বিধি-নিষেধ বর্ণনা করলে, সেখানে আদৌ এ উদ্দেশ্য করা হয় না যে, বর্ণিত বিধানটি শুধু পুরুষের জন্য প্রযোজ্য, মহিলার জন্য আলাদা বিধান রয়েছে। হ্যাঁ, মহিলার জন্য আলাদা বিধান প্রমাণ করে এমন কোন দলিল যদি থাকে, তাহলে তা স্বতন্ত্র। তা উক্ত সম্বোধন ধারার আওতাভুক্ত নয়।

الهجر- هِجْرَتُهُ থেকে গৃহীত। শব্দটির আদি অর্থ—ত্যাগ বা বর্জন ; এর বিপরীত শব্দ মিলন বা সংযোগ। পরবর্তীতে এর ব্যবহার প্রাধান্য পেতে থাকে এক স্থান ত্যাগ করে ভিন্ন স্থানে গমনের ক্ষেত্রে। শরিয়তের পরিভাষায় হিজরত হল—

مفارقة دار الكفر إلى دار الإسلام خوف الفتنة، وطلبا لإقامة الدين .

দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও ফেতনা হতে আত্মরক্ষার মহতী ব্রত নিয়ে দারুল কুফর ত্যাগ করে দারুল ইসলামে গমন। [বিনা বাধায় ইসলাম পালন করা যায় যে ভূমিতে, তাকে বলে দারুল ইসলাম ; অপরদিকে ইসলাম যেখানে অবাধ নয়, নানা প্রতিকুলতায় সীমাবদ্ধ, তাকে বলে দারুল কুফুর।]

دنيا দাল অক্ষরটি পেশ বা যের যুক্ত। তবে পেশ-যুক্তই অধিক প্রসিদ্ধ। অর্থ নিকটতর। পার্থিব জগৎকে দুনিয়া নামে অবহিত করা হয়েছে, কারণ, তা ধ্বংসের খুবই নিকটতর, কিংবা পরজগতের পূর্বে এই জগতের আবির্ভাব হয়েছে বিধায় তার ‘দুনিয়া’ নামকরণ করা হয়েছে। এখানে উদ্দেশ্য পার্থিব জগতের ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য-খ্যাতি ও পদবী—ইত্যাদি।

يُصِيْبُهَا অর্থাৎ তা লাভ করবে।

বিধান ও ফায়দা :—

অর্থ, মর্ম ও ব্যাপ্তির বিচারে হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মহিমান্বিত ও ব্যাপক। নি:সন্দেহে তা দ্বীনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। এ কারণে অনেক সালাফে সালিহীন (উত্তম পূর্ব-সুরী) এর গুরুত্ব, মাহাত্ম্য, ও তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। আল্লামা ইবনে রজব রহ. বলেন—

وبه صدر البخاري كتابه الصحييح، وأقامه مقام الخطبة له، إشارة منه إلى أن كل عمل لايراد به وجه الله فهو باطل لا ثمرة له في الدنيا ولا في الآخرة .

ইমাম বোখারি র. তাঁর কিতাব সহিহ বোখারির প্রারম্ভে ভূমিকা স্বরূপ হাদিসটির অবতারণা করে এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টিই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়—এমন সকল আমল বাতিল হিসেবে পরিত্যাজ্য, এ ধরনের আমল দুনিয়া ও আখেরাতে চূড়ান্তভাবে প্রতিফলশূন্য। [বোখারি] ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেছেন :—

هذا الحديث ثلث العلم، ويدخل في سبعين بابا من الفقه .

এ হাদিস দ্বীনের যাবতীয় উলুমের এক তৃতীয়াংশ, এবং ফিকাহ শাস্ত্রের সত্তুরটি অনুচ্ছেদে (প্রমাণ, প্রতিপাদ্য বা অন্য যে কোনভাবে) উল্লেখিত। [যাদুদ দায়িয়াহ : পৃষ্ঠা : ৬] ইমাম আহমদ রহ. বলেছেন :—

أصول الإسلام على ثلاثة أحاديث :