১
বাংলাদেশের মাতৃভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
লেখকঃ মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
বাংলাদেশে মাতৃভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য:
ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক ধারণা থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথমত মূল উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষা ব্যবহার এবং তার সার্বিক উৎকর্ষ সাধন ও চর্চা করার অধিকার আদায় করা। এছাড়া পূর্ববর্তী রাজাদের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, এটি বৌদ্ধ যুগের পর ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী সেন রাজারা বাংলাভাষা চর্চা নিষিদ্ধ করেছিল। আর হিন্দু পুরোহিতরা এ কথা বলে বেড়াতো যে, যে ব্যক্তি বাংলাভাষায় কথা বলবে সে নরকে যাবে। তেমনি বৃটিশ ইংরেজরাও ইংরেজি ভাষা ও তাদের সংস্কৃতি এতদঞ্চলে চাপিয়ে দেওয়ার চরম ষড়যন্ত্র করেছিল। [খন্দকর কামরুল হুদা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেখ মুজিব, ১৯৯৫ খ্রি., পৃ. ৩২।] বাঙ্গালী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ নির্বিশেষে সকল ধর্মের বুদ্ধিজীবীরা সে নিষেধাজ্ঞা এবং ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বাংলাভাষায় বিবিধ সাহিত্য রচনা করে এ ভাষার ভাণ্ডার বিবিধ রতনে সমৃদ্ধ করেন। অতঃপর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের প্রাক্কালে তৎকালীন বিশ্বরাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চীন ও রাশিয়ার স্টাইলে ভাষাগত ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদঢ় করার লক্ষ্যে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ও তাদের তোষণকারী অনুসারীরা উর্দূকে জাতীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল ভাষাতত্ত্বের এক ভুল ব্যাখ্যার ছত্রছায়ায়। তারই প্রতিবাদে বাংলাভাষা আন্দোলন নতুনরূপে বেগবান হয় মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য। [. মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশের তারিখ, (ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স, ২০০১ খ্রি.), পৃ. ১৫।]
বাংলাভাষার জন্য আন্দোলনের অপর একটি উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে অফিস আদালতসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বকীয়তা ও পরিচিতি সারা বিশ্বে আরো উন্নত করা। এজন্য বাংলাভাষা আন্দোলনের অন্যতম শ্লোগান ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। [. রফিকুল ইসলাম, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, (ঢাকা: ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০০৪ খ্রি.), পৃ. ৫১।]
অপর একটি উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করার জন্য ভাষা আন্দোলন। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মুখের ভাষা উপেক্ষা করে অন্য একটি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা চরম অন্যায়, তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে বাংলাভাষা আন্দোলন শুরু হয়। যে জন্য এটি অবশেষে এতদঞ্চলের অবহেলিত জনতার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণ তথা স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রূপ নেয়।
বাংলাভাষার জন্য আন্দোলনের অপর একটি উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে অফিস আদালতসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বকীয়তা ও পরিচিতি সারা বিশ্বে আরো উন্নত করা। এজন্য বাংলাভাষা আন্দোলনের অন্যতম শ্লোগান ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। [. রফিকুল ইসলাম, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, (ঢাকা: ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০০৪ খ্রি.), পৃ. ৫১।]
অপর একটি উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করার জন্য ভাষা আন্দোলন। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মুখের ভাষা উপেক্ষা করে অন্য একটি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা চরম অন্যায়, তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে বাংলাভাষা আন্দোলন শুরু হয়। যে জন্য এটি অবশেষে এতদঞ্চলের অবহেলিত জনতার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণ তথা স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রূপ নেয়।