hadith book logo

মুহররম ও আশুরার ফযীলত

লেখকঃ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-মুনাজ্জিদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

রমযানের ক্বাযা অনাদায়ি থাকা অবস্থায় আশুরার সাওমের হুকুম কী?

রমযানের ক্বাযা আদায় না করে নফল সাওম রাখা যাবে কিনা এ ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। হানাফীদের নিকট জায়েয। কেননা রমযানের ক্বাযা সম্পন্ন করা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব নয়। বিলম্বে সম্পন্ন করার অবকাশ আছে। শাফে‘ঈ ও মালেকিদের নিকটও জায়েয তবে মাকরূহ হবে। কারণ, এতে ওয়াজিব আদায় বিলম্বিত হয়।

আল্লামা দুসূকি রহ. বলেন, মান্নত, ক্বাযা ও কাফ্ফারা জাতীয় ওয়াজিব সাওম অনাদায়ি রেখে নফল সাওম পালন করা মাকরূহ। সে নফল সাওমটি গাইরে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা মুআক্কাদাহ যেমন আশুরা, যিলহজের নয় তারিখের সাওম ইত্যাদি।

হাম্বলী ইমামগণের মতে রমযানের ক্বাযা আদায় করার পূর্বে নফল সাওম পালন করা হারাম। এমতাবস্থায় কেউ নফল সাওম রাখলে সহীহ হবে না এমনকি পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করার মত পর্যাপ্ত সময় থাকলেও বরং আগে ফরয আদায় করতে হবে। [আল-মওসুআ আল-ফিকহিয়্যাহ, খণ্ড ২৮, সওমুত তাতাব্বু‘]

সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য হচ্ছে, রমযানের পরপরই বিলম্ব না করে ক্বাযা সম্পন্ন করে নেওয়া। যাতে কোনোরূপ সমস্যা ছাড়াই আরাফা ও আশুরার সাওম পালনের সুযোগ পাওয়া যায়। কেউ যদি আরাফা ও আশুরার সাওমের ক্বাযা আদায়ের নিয়ত করে এবং এ নিয়ত রাত্র হতেই করে তাহলে সেটি তার জন্য যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ তার ক্বাযা আদায় হয়ে যাবে। আল্লাহর করুণা অনেক বিশাল।