বুলুগুল মারাম
৩. জানাযা
بلوغ المرام
৩/১ পরিচ্ছেদঃ
মৃত্যুর কথা অধিক মাত্রায় স্বরণ করার নির্দেশ
৫৩৪
বুলুগুল মারামعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ: الْمَوْتِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
আবূ হুরাইরা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – সর্বপ্রকার ভোগ – বিলাসের কর্তনকারী মৃত্যুকে অধিক হারে স্বরণ কর। - ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৫৭১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৭১] তিরমিযী ২৩০৭, নাসায়ী ১৮২৪, ইবনু মাজাহ ৪২৫৮, আহমাদ ৭৮৬৫।
৩/২ পরিচ্ছেদঃ
মৃত্যু কামনা করার বিধান
৫৩৫
বুলুগুল মারামوَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ يَنْزِلُ بِهِ، فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলে : হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যানকর হয়। [৫৭২]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৭২] বুখারী ৫৬৭১, ৬৩৫১, ৭২৩৩, মুসলিম ২৬৮০, তিরমিযী ৯৭১, নাসায়ী ১৮২০, ১৮২১, আবূ দাঊদ ৩১০৮, মাজাহ ৪২৬৫, আহমাদ ১১৫৬৮।
৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
মু’মিনের মৃত্যুর সময় কপাল ঘেমে যায়
৫৩৬
বুলুগুল মারামوَعَنْ بُرَيْدَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الْمُؤْمِنُ يَمُوتُ بِعَرَقِ الْجَبِينِ» رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
বুরাইদাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- মু’মিনের মৃত্যু ঘটে কপালের ঘামের সাথে। - ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৫৭৩]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৭৩] তিরমিযী ৯৮২, নাসায়ী ১৮২৮, ইবনু মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ২২৫১৩।
৩/৪ পরিচ্ছেদঃ
মরনাপন্ন ব্যক্তিকে (আরবি) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মনে করিয়ে দেয়া শরীয়াতসম্মত
৫৩৭
বুলুগুল মারামوَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -:
«لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَالْأَرْبَعَةُ
আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই) কালিমাহর তাল্কীন (স্মরণ করিয়ে) দাও। [৫৭৪]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৭৪] মুসলিম ৯১৫, তিরমিযী ৯৭৬, নাসায়ী ১৮২৬, অর্থাৎ : তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তির সামনে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে থাক যাতে করে এটাই তার জীবনের শেষ কথা হয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (আরবী) মৃত্যুর সময় যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে কোন একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে যদিও তার এর পূর্বে যাই হোক না কেন।
৩/৫ পরিচ্ছেদঃ
মরণাপন্ন ব্যক্তির নিকটে সূরা ইয়াসিন পাঠের বিধান
৫৩৮
বুলুগুল মারামوَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «اقْرَؤُوا عَلَى مَوْتَاكُمْ يس» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
মা‘কাল বিন ইয়াসির (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তিদের নিকট সূরা ‘ইয়াসীন’ পড়। -ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৫৭৫]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৭৫] আবূ দাঊদ ৩১২১, ইবনু মাজাহ ১৪৪৮, আহমাদ ১৯৭৮৯
ইবনু হিব্বান হাদিসটিকে সহীহ বললেও ইমাম সুয়ূত্বী জামেউস সগীর (১৩৪৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। তবে বিন বাযের ফাতাওয়া নূর আলাদ দারব (১৪/২৬১) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
আলবানী যঈফুল জামে (১০৭২) গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ শারহুল মুমতি (৫/২৪৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মতানৈক্য ও সমালোচনা রয়েছে। ইবনুল কাত্তান আল অহ্ম ওয়াল ইহাম (৫/৪৯) গ্রন্থে বলেন, এটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম নববী আল আযকার (১৯২) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল এতে দুজন মাজহূল রাবী রয়েছে। আলবানী আবূ দাঊদ (৩১২১), ইরওয়াউল গালীল (৬৮৮), তারগীব (৮৮৪), যঈফা (৫৮৬১) গ্রন্থসমূহে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
ইবনু উসাইমীন মাজমূ ফাতাওয়া (৭৪/১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
ইমাম নাবুবী মাজমু’ (৫/১১০) গ্রন্থে বলেন, তার ইসনাদ দুর্বল, তাতে দু‘জন মাজহুল ব্যক্তি রয়েছে।
আলবানী তাখরীজু মিশকাতিল মাসাবীহ (৫৮৯২) গ্রন্থে তার শেষের অতিরিক্ত অংশকে হাসান বলেছেন।
ইবনু হিব্বান হাদিসটিকে সহীহ বললেও ইমাম সুয়ূত্বী জামেউস সগীর (১৩৪৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। তবে বিন বাযের ফাতাওয়া নূর আলাদ দারব (১৪/২৬১) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
আলবানী যঈফুল জামে (১০৭২) গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ শারহুল মুমতি (৫/২৪৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মতানৈক্য ও সমালোচনা রয়েছে। ইবনুল কাত্তান আল অহ্ম ওয়াল ইহাম (৫/৪৯) গ্রন্থে বলেন, এটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম নববী আল আযকার (১৯২) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল এতে দুজন মাজহূল রাবী রয়েছে। আলবানী আবূ দাঊদ (৩১২১), ইরওয়াউল গালীল (৬৮৮), তারগীব (৮৮৪), যঈফা (৫৮৬১) গ্রন্থসমূহে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
ইবনু উসাইমীন মাজমূ ফাতাওয়া (৭৪/১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
ইমাম নাবুবী মাজমু’ (৫/১১০) গ্রন্থে বলেন, তার ইসনাদ দুর্বল, তাতে দু‘জন মাজহুল ব্যক্তি রয়েছে।
আলবানী তাখরীজু মিশকাতিল মাসাবীহ (৫৮৯২) গ্রন্থে তার শেষের অতিরিক্ত অংশকে হাসান বলেছেন।