সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে ভাগ্য লেখা
তাকদীর ও ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসতাকদীর বা ভাগ্যের ভালো-মন্দের উপর বিশ্বাস, আল্লাহর প্রজ্ঞা এবং তাকদীরের বাহানা দিয়ে আমল না ছাড়ার নির্দেশ।
২৬৫৩
সহিহ মুসলিমوَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي، كَثِيرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَفِي حَدِيثِهِمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ انْصَرَفَ وَعَلَى جَبْهَتِهِ وَأَرْنَبَتِهِ أَثَرُ الطِّينِ .
সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত তার পিতার সূত্রথেকে বর্ণিতঃ
তিনি (পিতা) বলেন, এক ব্যক্তি (রমাযানের) ২৭তম রাতে লায়লাতুল ক্বদ্র দেখতে পেল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখানো হয়েছে যে, তা রমাযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। (ই.ফা. ২৬৩০, ই.সে. ২৬২৯)
২১৫৬
জামে' আত-তিরমিজিحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُنْذِرِ الْبَاهِلِيُّ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَدَّرَ اللَّهُ الْمَقَادِيرَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা আকাশসমূহ ও যামীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই মাখলূকাতের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।
সহীহ, মুসলিম (৮/৫১)।
সহীহ, মুসলিম (৮/৫১)।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্ গারীব।
৭৯
মিশকাতুল মাসাবিহعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : «كَتَبَ اللّهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ» قَالَ : وَكَانَ عَرْشُهٗ عَلَى الْمَاءِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মাখলূক্বের তাক্বদীর লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেন, (তখন আল্লাহ্র ‘আরশ (সিংহাসন) পানির উপর ছিল। [১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৫৩।
৯৪
মিশকাতুল মাসাবিহعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللّهُ الْقَلَمُ فَقَالَ اكْتُبْ؟ قَالَ مَا أَكْتُبُ قَالَ اكْتُبِ الْقَدَرَ فَكَتَبَ مَا كَانَ وَمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى الْأَبَدِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا
উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ্ বললেন, কদ্র (তাক্বদীর) সম্পর্কে লিখ । সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল। তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি সানাদ হিসেবে গারীব। [১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] সহীহ: তিরমিযী ২০৮১, সহীহহুল জামি‘ ২০১৭, আহমাদ ৫/৩১৭। এটি ইমাম তিরমিযী (রহঃ)-এর উক্তির অর্থ সরাসরি উক্তি নয়। আর তিনি ‘‘ক্বদর (কদর)’’ অধ্যায়ের ২০/২৩ নং হাদীসে এর হুকুম সম্পর্কে বলেছেনঃ حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ مِنْ هذَا الْوَجْهِ (হাদীসটি এই সানাদে গরীব)। আর ‘‘তাফসীর’ অধ্যায়ের ২/২৩২ নং পৃষ্ঠায় এ সানাদেই হাদীসটি সংকলন করে বলেছেনঃ حَدِيْثٌ حَسَنٌ غَرِيْبٌ (হাদীসটি হাসান গরীব)। আপাতদৃষ্টিতে ইমাম তিরমিযীর উভয় উক্তির মাঝে অসঙ্গতি মনে হলেও মূলত তা নেই। গরীব হওয়ার কারণ ‘আবদুল ওয়াহিদ ইবনু সুলায়ম যিনি একজন দুর্বল রাবী। আর হাসান হওয়ার কারণ তিনি হাদীসটি বর্ণনায় কোন স্তরে একাকী হয়ে যাননি। তিনি (ওয়াহিদ ইবনু সুলায়ম) হাদীসটি ‘আত্বা ইবনু রিবাহ থেকে, তিনি (‘আত্বা ইবনু রিবাহ) ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ)থেকে, আর ওয়ালীদ তার পিতা ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ)থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ (রহঃ)-ও হাদীসটি তার মুসনাদের ৫/৩১৭ নং পৃঃ, ‘উবাদাহ্ ইবনু ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ্ এবং ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব উভয়ে ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ্ ইবনু সামিত থেকে এ সূত্রে সংকলন করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ কর্তৃক ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ)থেকে বর্ণিত এ হাদীসের আরও একটি সানাদ রয়েছে। অতএব, এ শাহিদ বর্ণনাগুলোর ভিত্তিতে হাদীসটি নিশ্চিতভাবে সহীহ। এ হাদীসটিই আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম তোমার নাবীর নূর সৃষ্টি করেছেন। ‘হে জাবির’ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ আমি উক্ত মিথ্যা হাদীসটির সানাদ জানার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি।