সালাতুল কুসূফ (সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সালাত)
সালাত ও নামাজের বিধানদৈনন্দিন ৫ ওয়াক্ত সালাত, ওয়াক্ত, জামাআত, ক্বিরাআত, রুকু-সিজদা ও নফল সালাতের সুন্নাহসম্মত বিধান ও ফযিলত।
১০৪০
সহিহ বুখারীحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَجُرُّ رِدَاءَهُ حَتَّى دَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَدَخَلْنَا فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ، حَتَّى انْجَلَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَصَلُّوا، وَادْعُوا، حَتَّى يُكْشَفَ مَا بِكُمْ ".
আবূ বাকরাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু’আ করতে থাকবে।
১০৪৪
সহিহ বুখারীحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاسِ، فَقَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهْوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، وَهْوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الأُولَى، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ، فَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لاَ يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللَّهَ وَكَبِّرُوا، وَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا ". ثُمَّ قَالَ " يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، وَاللَّهِ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ أَنْ يَزْنِيَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِيَ أَمَتُهُ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا ".
‘আয়িশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, অতঃপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ’ করেন। অতঃপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ’ করেন এবং এ রুকূ’ও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং সিজদাও দীর্ঘক্ষন করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকা’আতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকা’আতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। অতঃপর তিনি লোকজনের উদ্দেশে খুত্বা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহ্র নিকট দু’আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সদকা প্রদান করবে। অতঃপর তিনি আরো বললেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহ্র চেয়ে অধিক অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহ্র কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং বেশী করে কাঁদতে।
১০৪১
সহিহ বুখারীحَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَقُومُوا فَصَلُّوا ".
১০৫৯
সহিহ বুখারীحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَزِعًا، يَخْشَى أَنْ تَكُونَ السَّاعَةُ، فَأَتَى الْمَسْجِدَ، فَصَلَّى بِأَطْوَلِ قِيَامٍ وَرُكُوعٍ وَسُجُودٍ رَأَيْتُهُ قَطُّ يَفْعَلُهُ وَقَالَ " هَذِهِ الآيَاتُ الَّتِي يُرْسِلُ اللَّهُ لاَ تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنْ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ وَدُعَائِهِ وَاسْتِغْفَارِهِ ".
আবূ মূসা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একবার সুর্যগ্রহণ হল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর পূর্বে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকু’ এবং সিজদা সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেনঃ এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা’আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহ্র যিকর, দু’আ এবং ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে।
৯০৪
সহিহ মুসলিমحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
কুতাইবাহ্ ইবনু সা’ঈদ ও ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ‘আবদুল মালিক ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) -এর সূত্রেথেকে বর্ণিতঃ
এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই. ফা. ৮৯৯, ই. সে. ৯১১)
৯০১
সহিহ মুসলিমحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نَحْزِرُ قِيَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ قَدْرَ قِرَاءَةِ الم تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الأُخْرَيَيْنِ قَدْرَ النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ قِيَامِهِ فِي الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَفِي الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ . وَلَمْ يَذْكُرْ أَبُو بَكْرٍ فِي رِوَايَتِهِ الم تَنْزِيلُ وَقَالَ قَدْرَ ثَلاَثِينَ آيَةً .
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা যুহর ও ‘আস্রের সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কিয়ামের (দাঁড়ানোর) পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা করতাম। যুহরের প্রথম দু’রাক’আতে তাঁর কিয়ামের পরিমাণ ছিল সূরাহ্ “আলিফ, লাম, মীম, তানযীলুল সিজদা” পাঠ করার পরিমাণ সময়। তার পরবর্তী দু’রাক’আত আমরা তাঁর কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি ঐ সূরার অর্ধেক পাঠ করার পরিমাণ সময়। আমরা ‘আস্রের দু’রাক’আতে তাঁর কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি যুহরের শেষের দু’রাক’আত তাঁর কিয়ামের পরিমাণ সময়। আর ‘আস্রের শেষ দু’রাক’আত তাঁর কিয়ামের পরিমাণ ছিল- প্রথম দু’রাক’আতের অর্ধেক পরিমাণ সময়। আবূ বাক্র ইবনু আবূ শাইবাহ্ তাঁর বর্ণনায় সূরাহ্ “আলিফ লাম মীম তানযীলের” উল্লেখ করেননি। তিনি কিয়ামের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাণ সময় উল্লেখ করেছেন। (ই. ফা. ৮৯৬, ই. সে. ৯০৮)
৯১১
সহিহ মুসলিমحَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْتُ وَصَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ { ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} حَتَّى قَرَأَ { وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ} قَالَ فَجَعَلْتُ أُرَدِّدُهَا وَلاَ أَدْرِي مَا قَالَ .
কুত্বাহ্ ইবনু মালিক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি সলাত আদায় করেছি এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সলাত আদায় করিয়েছেন। তিনি “কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ” অর্থাৎ- “কাফ, সম্মানিত কুরআনের শপথ”- (সূরাহ্ কাফ ৫০ : ১) পাঠ করলেন। তিনি “ওয়ান্ নাখ্লা বা-সিকা-তিন” অর্থাৎ- “লম্বা খর্জুর বৃক্ষ...”- (সূরাহ কাফ ৫০ : ১০) পর্যন্ত পাঠ করলেন। রাবী বলেন, আমিও তা পাঠ করলাম কিন্তু এর তাৎপর্য বুঝতে পারতাম না। (ই. ফা. ৯০৬, ই. সে. ৯১৮)
৯১৫
সহিহ মুসলিমوَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ عَنْ صَلاَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُخَفِّفُ الصَّلاَةَ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ هَؤُلاَءِ . قَالَ وَأَنْبَأَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بـ { ق وَالْقُرْآنِ} وَنَحْوِهَا .
সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) -এর সূত্রেথেকে বর্ণিতঃ
আমি জাবির ইবনু সামুরাহ্-এর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, তিনি হালকাভাবে সলাত আদায় করতেন। ঐসব লোকের মত (বড় বড় সূরাহ্ দিয়ে) সলাত আদায় করতেন না।
তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাতে সূরাহ্ কাফ বা এ আকারের সূরাহ্ পাঠ করতেন। (ই. ফা. ৯১০, ই. সে. ৯২২)
তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাতে সূরাহ্ কাফ বা এ আকারের সূরাহ্ পাঠ করতেন। (ই. ফা. ৯১০, ই. সে. ৯২২)
১৪৫৯
সুনানে আন-নাসায়ীأَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُخَوِّفُ بِهِمَا عِبَادَهُ»
আবূ বাক্রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, সূর্য এবং চন্দ্র হল আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন সমূহের দু’টি নিদর্শন, কারো মৃত্যু এবং কারো জন্মের জন্য তাদের গ্রহণ হয় না, এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদের দ্বারা তাঁর বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন।
১৪৬১
সুনানে আন-নাসায়ীأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ تَعَالَى، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَصَلُّوا»
আব্দুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো মৃত্য অথবা জন্মের কারণে চন্দ্র এবং সূর্য গ্রহণ হয় না, বরং তারা হল আল্লাহর নিদর্শন সমূহের দু’টি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন তাদের গ্রহণ দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে।
১৪৭৫
সুনানে আন-নাসায়ীأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَمْرَةَ حَدَّثَتْهُ، أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا، أَنَّ يَهُودِيَّةً أَتَتْهَا فَقَالَتْ: أَجَارَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، قَالَتْ عَائِشَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ النَّاسَ لَيُعَذَّبُونَ فِي الْقُبُورِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَائِذًا بِاللَّهِ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مَخْرَجًا فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَخَرَجْنَا إِلَى الْحُجْرَةِ، فَاجْتَمَعَ إِلَيْنَا نِسَاءٌ، وَأَقْبَلَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَلِكَ ضَحْوَةً فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ دُونَ رُكُوعِهِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ الثَّانِيَةَ، فَصَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ، إِلَّا أَنَّ رُكُوعَهُ وَقِيَامَهُ دُونَ الرَّكْعَةِ الْأُولَى، ثُمَّ سَجَدَ وَتَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالَ فِيمَا يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ يُفْتَنُونَ فِي قُبُورِهِمْ كَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: كُنَّا نَسْمَعُهُ بَعْدَ ذَلِكَ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
আমরাহ (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আয়েশা (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর কাছে এসে বললঃ আল্লাহ তাআলা আপনাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মানুষদের কি কবরে আযাব দেওয়া হবে? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তা থেকে আল্লাহ্র কাছে কায়মনোবাক্যে পানাহ চাচ্ছি। আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণের জন্য বের হলেন, ইতিমধ্যে সূর্যগ্রহণ লেগে গেল। তখন আমরা হুজরা থেকে বের হয়ে গেলাম, এসময় আমাদের পাশে অনেক মহিলা একত্রিত হয়ে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে ফিরে আসলেন তখন ছিল সূর্যোদয়ের এবং দ্বিপ্রহরের মধ্যবর্তী সময়। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন। তারপর দীর্ঘ রুকূ করলেন, এরপর তাঁর মাথা উঠালেন ও দাঁড়িয়ে গেলেন, পূর্ববর্তী দাঁড়ানো থেকে সংক্ষিপ্তভাবে। তারপর রুকূ করলেন পূর্ববর্তী রুকূর থেকে সংক্ষিপ্ত। পরে সিজদা করলেন, অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং অনুরূপই করলেন কিন্তু দ্বিতীয় রাকআতের রুকূ এবং দাঁড়ানো প্রথম রাকআতের রুকূ এবং দাঁড়ানো থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর সিজদা করলেন এবং সূর্যও আলোকিত হয়ে গেল। যখন সালাত শেষ করলেন মিম্বরের উপরে বসলেন এবং তাঁর খুতবার মধ্যে বললেন যে, নিশ্চয় মানুষ তাদের কবরে দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায় পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আমরা তাঁকে এরপরে শুনতাম যে, তিনি কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেন।
১৪৮৮
সুনানে আন-নাসায়ীأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا خَسَفَتِ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ فَصَلُّوا كَأَحْدَثِ صَلَاةٍ صَلَّيْتُمُوهَا»
নু‘মান ইব্ন বশীর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন সূর্য এবং চন্দ্রের গ্রহণ লেগে যায়, তখন তোমরা সম্প্রতি আদায়কৃত সালাতের ন্যায় সালাত আদায় কর।
১১৭৭
সুনানে আবু দাউদحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، أَخْبَرَنِي مَنْ، أُصَدِّقُ وَظَنَنْتُ أَنَّهُ يُرِيدُ عَائِشَةَ قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قِيَامًا شَدِيدًا يَقُومُ بِالنَّاسِ ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ ثَلاَثُ رَكَعَاتٍ يَرْكَعُ الثَّالِثَةَ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى إِنَّ رِجَالاً يَوْمَئِذٍ لَيُغْشَى عَلَيْهِمْ مِمَّا قَامَ بِهِمْ حَتَّى إِنَّ سِجَالَ الْمَاءِ لَتُصَبُّ عَلَيْهِمْ يَقُولُ إِذَا رَكَعَ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . وَإِذَا رَفَعَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . حَتَّى تَجَلَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُخَوِّفُ بِهِمَا عِبَادَهُ فَإِذَا كُسِفَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ " .
‘আয়িশাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকু’ করে আবার দাঁড়ালেন। আবার রুকু’ করলেন এবং আবার দাঁড়ালেন। অতঃপর রুকু’ করলেন। এভাবে দু' রাক'আত সলাত আদায় করলেন এবং প্রত্যেক রাক'আতে তিনটি করে রুকু’ করার পর সাজদাহ্ করলেন। সলাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কতিপয় লোক অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাদের উপর পানি ঢালা হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু’ করার সময় 'আল্লাহু আকবার’; আর রুকু’ হতে মাথা উঠানোর সময় 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলেছেন এবং তাঁর সলাত অবস্থায়ই সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বললেনঃ সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ কারোর জন্ম বা মৃত্যুর কারণে হয় না, বরং তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন। তিনি এর দ্বারা স্বীয় বান্দাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং কখনো গ্রহণ হলে তোমরা সলাত আদায়ে মনোনিবেশ করবে।
সহীহঃ মুসলিম। কিন্তু (তিন রাক’আত) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (দুই রাক’আত)। যেমন বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। এছাড়া সামনে ১১৮০ নং এ আসছে।
সহীহঃ মুসলিম। কিন্তু (তিন রাক’আত) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (দুই রাক’আত)। যেমন বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। এছাড়া সামনে ১১৮০ নং এ আসছে।
১১৮০
সুনানে আবু দাউদحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خُسِفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَامَ فَكَبَّرَ وَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ فَاقْتَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِرَاءَةً طَوِيلَةً ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ قَامَ فَاقْتَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ .
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের দিকে বের হন। তিনি আল্লাহু আকবার বলে সালাত আরম্ভ করেন এবং লোকজন তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর তিনি লম্বা ক্বিরাআত পাঠ করেন, তারপর তাকবীর বলে রু’কুতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাতে অতিবাহিত করেন। এরপর মাথা তুলে "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ" বলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর আবার লম্বা ক্বিরাআত পড়েন, তবে তা প্রথমবারের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তাকবীর বলে দীর্ঘক্ষণ রুকু’ করেন, তবে তা প্রথমবারের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদা্হ্ ,রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ " বলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক’আতেও অনুরূপ করেন। এভাবে তিনি পুরো সলাত চার রুকু’ ও চার সাজদাহ্ সহকারে আদায় করেন। সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়।
সহিহঃ বুখারী ও মুসলিম।
সহিহঃ বুখারী ও মুসলিম।
১১৯১
সুনানে আবু দাউদحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لاَ يُخْسَفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَبِّرُوا وَتَصَدَّقُوا " .
৫৬০
জামে' আত-তিরমিজিحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى فِي كُسُوفٍ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَالأُخْرَى مِثْلُهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ وَأَبِي مَسْعُودٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَسَمُرَةَ وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَابْنِ عُمَرَ وَقَبِيصَةَ الْهِلاَلِيِّ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى فِي كُسُوفٍ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُسِرَّ بِالْقِرَاءَةِ فِيهَا بِالنَّهَارِ . وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَجْهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِيهَا كَنَحْوِ صَلاَةِ الْعِيدَيْنِ وَالْجُمُعَةِ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَرَوْنَ الْجَهْرَ فِيهَا . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يَجْهَرُ فِيهَا . وَقَدْ صَحَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَا الرِّوَايَتَيْنِ صَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . وَصَحَّ عَنْهُ أَيْضًا أَنَّهُ صَلَّى سِتَّ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . وَهَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ جَائِزٌ عَلَى قَدْرِ الْكُسُوفِ إِنْ تَطَاوَلَ الْكُسُوفُ فَصَلَّى سِتَّ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ فَهُوَ جَائِزٌ وَإِنْ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ وَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ فَهُوَ جَائِزٌ . وَيَرَوْنَ أَصْحَابُنَا أَنْ تُصَلَّى صَلاَةُ الْكُسُوفَ فِي جَمَاعَةٍ فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণকালে নামায আদায় করলেন। তিনি কিরা‘আত পাঠ করলেন, তারপর রুকূ করলেন, আবার কিরা‘আত পাঠ করলেন, তারপর রুকূ করলেন, আবার কিরা‘আত পাঠ করলেন, তারপর রুকূ করলেন, তারপর দুটি সাজদাহ্ করলেন। দ্বিতীয় রাক‘আতও তিনি এভাবেই আদায় করলেন।
-সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাউদ- (১০৭২), বুখারী ও মুসলিম।
-সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাউদ- (১০৭২), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
এ অনুচ্ছেদে আলী, ‘আয়িশাহ্, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, নুমান ইবনু বাশীর, মুগীরা ইবনু শু‘বা, আবূ মাসঊদ, আবূ বাকরা, সামুরা, ইবনু মাসঊদ, আসমা বিনতু আবূ বাক্র, ইবনু ‘উমার, কাবীসা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আবূ মূসা, ‘আবদুর রহমান ইবনু সামূরা ও উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ্।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে এও বর্ণিত আছে, “নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার রুকূতে চার রাক‘আত সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করেছেন।” ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। সূর্যগ্রহণের নামাযের কিরা‘আত প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। একদল বলেছেন, দিনের বেলা অপরিস্ফুট স্বরে কিরা‘আত পাঠ করবে। অপর দল বলেছেন, দুই ‘ঈদ ও জুমু‘আর নামাযের মত এ নামাযেও স্পষ্ট স্বরে কিরা‘আত পাঠ করবে। ইমাম মালিক, আহমাদ এবং ইসহাক উচ্চস্বরে কিরা‘আত পাঠের সমর্থক। ইমাম শাফিঈ বলেন, কিরা‘আত স্বরবে পড়বে না। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে উভয় মতই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যেমন, ‘তিনি চার রুকু‘তে দুই রাক‘আত নামায আদায় করেছেন।”
অপর বর্ণনায় আছে- “তিনি ছয় রুকু‘তে দুই রাক‘আত নামায আদায় করেছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে এর প্রতিটি পদ্ধতিই জায়িয। এটা সূর্যগ্রহণের সময়সীমার উপর নির্ভর করবে। গ্রহণ দীর্ঘায়িত হলে চার ছয় রুকু‘তে দুই রাক‘আত আদায় করাও জায়িয। আবার চার রুকু‘তে ও দীর্ঘ কিরা‘আতে দুই রাক‘আত আদায় করাও জায়িয। আমাদের সঙ্গীরা সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের নামায জামা‘আতে আদায় করার পক্ষে।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে এও বর্ণিত আছে, “নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার রুকূতে চার রাক‘আত সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করেছেন।” ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। সূর্যগ্রহণের নামাযের কিরা‘আত প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। একদল বলেছেন, দিনের বেলা অপরিস্ফুট স্বরে কিরা‘আত পাঠ করবে। অপর দল বলেছেন, দুই ‘ঈদ ও জুমু‘আর নামাযের মত এ নামাযেও স্পষ্ট স্বরে কিরা‘আত পাঠ করবে। ইমাম মালিক, আহমাদ এবং ইসহাক উচ্চস্বরে কিরা‘আত পাঠের সমর্থক। ইমাম শাফিঈ বলেন, কিরা‘আত স্বরবে পড়বে না। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে উভয় মতই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যেমন, ‘তিনি চার রুকু‘তে দুই রাক‘আত নামায আদায় করেছেন।”
অপর বর্ণনায় আছে- “তিনি ছয় রুকু‘তে দুই রাক‘আত নামায আদায় করেছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে এর প্রতিটি পদ্ধতিই জায়িয। এটা সূর্যগ্রহণের সময়সীমার উপর নির্ভর করবে। গ্রহণ দীর্ঘায়িত হলে চার ছয় রুকু‘তে দুই রাক‘আত আদায় করাও জায়িয। আবার চার রুকু‘তে ও দীর্ঘ কিরা‘আতে দুই রাক‘আত আদায় করাও জায়িয। আমাদের সঙ্গীরা সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের নামায জামা‘আতে আদায় করার পক্ষে।
৫৬১
জামে' আত-তিরমিজিحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاسِ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ وَهِيَ دُونَ الأُولَى ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَسَجَدَ ثُمَّ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَرَوْنَ صَلاَةَ الْكُسُوفِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . قَالَ الشَّافِعِيُّ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَنَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ سِرًّا إِنْ كَانَ بِالنَّهَارِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ بِتَكْبِيرٍ وَثَبَتَ قَائِمًا كَمَا هُوَ وَقَرَأَ أَيْضًا بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَنَحْوًا مِنْ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ تَامَّتَيْنِ وَيُقِيمُ فِي كُلِّ سَجْدَةٍ نَحْوًا مِمَّا أَقَامَ فِي رُكُوعِهِ ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَنَحْوًا مِنْ سُورَةِ النِّسَاءِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ بِتَكْبِيرٍ وَثَبَتَ قَائِمًا ثُمَّ قَرَأَ نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْمَائِدَةِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهَّدَ وَسَلَّمَ .
আয়িশাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুযে সূর্যগ্রহণ হল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে (জামা‘আতে) নামায আদায় করলেন। তিনি অধিক সময় ধরে কিরা‘আত পাঠ করলেন, তারপর রুকূ করলেন এবং দীর্ঘসময় রুকূতে থাকলেন, তারপর মাথা তুললেন (রুকূ’ হতে উঠলেন)। তিনি আবার দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করলেন কিন্তু প্রথমবারের চেয়ে কম লম্বা করলেন, তারপর রুকূতে গেলেন এবং দীর্ঘ সময় রুকূতে থাকলেন, কিন্তু আগের চেয়ে সংক্ষেপে করলেন। তারপর তিনি রুকূ থেকে মাথা তুলে সাজদাহ্তে গেলেন। তিনি দ্বিতীয় রাক‘আতও উল্লেখিত পদ্ধতিতে আদায় করলেন।
-সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাঊদ- (১০৭১), বুখারী ও মুসলিম।
-সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাঊদ- (১০৭১), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, সূর্যগ্রহণের নামায চার রুকূ ও চার সিজদায় আদায় করবে। শাফিঈ আরো বলেছেন, প্রথম রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা আল-বাকারার মতো যে কোন লম্বা সূরা পাঠ করবে। দিনে হলে নীরবে কিরা‘আত পাঠ করবে। তারপর রুকূতে গিয়ে কিরা‘আত পাঠের পরিমাণ সময় রুকূতে থাকবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে মাথা তুলে দাঁড়াবে এবং সূরা ফাতিহার পর সূরা আলে-ইমরানের মতো লম্বা সূরা পাঠ করবে। তারপর রুকূতে গিয়ে কিরা‘আত পাঠের পরিমাণ সময় রুকূতে থাকবে। তারপর ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা তুলবে। তারপর দুটি পূর্ণাঙ্গ সাজদাহ্ করবে এবং প্রত্যেক সাজদাহ্তে রুকূর পরিমাণ সময় থাকবে। অতঃপর দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহার পর সূরা আন-নিসার মতো লম্বা সূরা পাঠ করবে, তারপর কিরা‘আতের মতো লম্বা রুকূ করবে। তারপর আল্লাহু আকবার’ বলে মাথা তুলে দাঁড়াবে। তারপর সূরা মায়িদার মতো লম্বা সূরা পাঠ করবে, রুকূও কিরা‘আতের মতো লম্বা করবে। অতঃপর মাথা তুলবে এবং ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলবে। অতঃপর দুটি সাজদাহ্ করে, তাশাহ্হুদ পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নামায সমাপ্ত করবে।
৫৬২
জামে' আত-তিরমিজিحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عِبَادٍ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي كُسُوفٍ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .
সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করালেন। কিন্তু আমরা তাঁর (কির’আত পাঠের) কোন আওয়াজ শুনতে পাইনি।
যঈফ,ইবনু মাজাহ (১২৬৪)।
যঈফ,ইবনু মাজাহ (১২৬৪)।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
এ অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ সামুরার হাদীসটি হাসান, সহীহ। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করার কথা বলেছেন। ইমাম শাফিঈর এটাই মত (নিঃশব্দে কিরা’আত পাঠ করবে)।
১২৬১
সুনানে ইবনে মাজাহحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَقُومُوا فَصَلُّوا " .
আবূ মাসউদ (উকবাহ বিন আমর বিন সা’লাবাহ) (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানবজাতির মধ্যে কারো মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। অতএব তোমরা তা দেখলে সলাতে দাঁড়িয়ে যাও। [১২৬১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১২৬১] বুখারী ১০৪১, ১০৫৭, ৩২০৪; মুসলিম ৯১১-২, নাসায়ী ১৪৬২, আহমাদ ১৬৬৫২, দারিমী ১৫২৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
১২৬২
সুনানে ইবনে মাজাহحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَجَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَرَجَ فَزِعًا يَجُرُّ ثَوْبَهُ حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ فَلَمْ يَزَلْ يُصَلِّي حَتَّى انْجَلَتْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ أُنَاسًا يَزْعُمُونَ أَنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ إِلاَّ لِمَوْتِ عَظِيمٍ مِنَ الْعُظَمَاءِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا تَجَلَّى اللَّهُ لِشَىْءٍ مِنْ خَلْقِهِ خَشَعَ لَهُ " .
নু’মান বিন বাশীর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হয়। তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর পরিধেয় বস্ত্র হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মাসজিদে এসে পৌঁছেন। গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সলাতে রত থাকেন অতঃপর তিনি বলেন, এক দল লোক ধারণা করে যে, কোন মহান নেতার মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয়ে থাকে। আসলে তা নয়। কারো মৃত্যু অথবা জীবিত থাকার কারণে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোন সৃষ্টির উপর তাজাল্লী বিস্তার করেন তখন তা তাঁর ভয়ে ভীত হয়। [১২৬২]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১২৬২] নাসায়ী ১৪৮৫, ১৪৮৮-৯০; আবূ দাঊদ ১১৯৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১৪৯৩, ইরওয়াহ ১৩১, তালীক সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১৪০২। উক্ত হাদিসের রাবী জামিল ইবনুল হাসান বিন জামিল আল আতাকী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অপরিচিত। ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তিনি ভাল। ২. আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন।
১২৬৩
সুনানে ইবনে মাজাহحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَامَ فَكَبَّرَ فَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قِرَاءَةً طَوِيلَةً ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ " .
আয়িশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি বের হয়ে মাসজিদে চলে যান। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলেন এবং লোকজন তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, অতঃপর তাকবীর বলে দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, অতঃপর মাথা তুলে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ” বলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, তবে তা ছিল পূর্বের কিরাআতের তুলনায় কম দীর্ঘ। অতঃপর তাকবীর বলে রুকূ‘তে গিয়ে দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে তা পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ” বলেন। তিনি দ্বিতীয় রাকআতেও তাই করেন। তিনি মোট চার রাকআত সালাত পড়েন এবং তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে লোকেদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি আল্লাহ তাআলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করার পর বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নির্দেশসমূহের অন্তর্ভূক্ত দু’টি নিদর্শন। কারো জীবন-মৃত্যুতে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা তা দেখলে ভীত-সম্ভস্ত হয়ে সলাতে রত হও। [১২৬৩]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১২৬৩] বুখারী ১০৪৪, ১০৪৬-৪৭, ১০৫০, ১০৫৬, ১০৫৮, ১০৬৪, ১০৬৬, ১২১২, ৩২০৩; মুসলিম ৯০১-৫, ৯০২-৩; তিরমিযী ৫৬১, ৫৬৩; নাসায়ী ১৪৬৫-৬৬, ১৪৭০, ১৪৭২-৭৭, ১৪৮১, ১৪৯৪, ১৪৯৭, ১৪৯৯, ১৫০০; আহমাদ ১১৭৭, ১১৮০, ১১৮৭-৮৮, ১১৯০; আহমাদ ২৩৭৪৭, ২৩৯৫২, ২৪৭৮৪, ২৪৮২৩; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৪৪, ৪৪৬; দারিমী ১৫২৭, ১৫২৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬৫৮, সহীহ আবী দাউদ ১০৬৮, ১০৭১।
৪৪৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى بُصَاقًا فِي جِدَارِ الْقِبْلَةِ فَحَكَّهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلَا يَبْصُقْ قِبَلَ وَجْهِهِ فَإِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قِبَلَ وَجْهِهِ إِذَا صَلَّى.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) কিবলার দিকে দেয়ালে থুথু দেখতে পেয়ে উহাকে ঘষে তুলে ফেললেন। তারপর তিনি মুখমণ্ডল লোকের দিকে করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন নামায পড়ে সে যেন সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কারণ যখন নামায পড়ে তখন অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তার সামনে থাকেন। (বুখারী ৪০৬, মুসলিম ৫৪৭)
৪৪৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ بِقُبَاءٍ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ إِذْ جَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبَلُوهَا وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّامِ فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْكَعْبَةِ.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)থেকে বর্ণিতঃ
লোকজন কাবাগৃহে ফজরের নামাযে ছিলেন এমন সময় একজন আগন্তুক তাঁদের কাছে এলেন। তিনি (এসে) বললেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর (গত) রাত্রে কুরআন নাযিল হয়েছে। তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে (নামাযে) ‘কাবা’র দিকে মুখমণ্ডল করার জন্য। অতএব আপনারাও কাবার দিকে মুখ করুন। এটা শুনে তাঁরা ‘কাবা’-র দিকে ঘুরে গেলেন অথবা তাঁদের মুখ ছিল শামের দিকে। (বুখারী ৪০৩, মুসলিম ৫২৬)
৫০৪
বুলুগুল মারামوَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - جَهَرَ فِي صَلَاةِ الْكُسُوفِ بِقِرَاءَتِهِ، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَهَذَا لَفْظُ مُسْلِمٍ ، وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: فَبَعَثَ مُنَادِيًا يُنَادِي: الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ
আয়িশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহনের সলাতে [৫৪২] তাঁর কিরাআত সশব্দে পাঠ করেন এবং চার রুকু’ ও চার সাজদাহসহ দু’ রাক’আত সলাত আদায় করেন। এটা মুসলিমের শব্দ বিন্যাস। মুসলিমেরই অন্য বর্ননায় আছেঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সলাতের জামা’আতের ঘোষনার জন্য ঘোষনাকারী পাঠাতেনঃ (এই বলার জন্য) ‘আসসালাতু জামি’আহ (অর্থঃ) জামা’আতের সাথে সলাতের আদায়ের জন্য (হাজির হও)। [৫৪৩]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৪২] বুখারী এবং মুসলিমে (আরবী) শব্দটির উল্লেখ আছে।
[৫৪৩] বুখারী ১০৬৫, ১০৬৬, ১০৪৪, ১০৪৬, ১০৪৭, মুসলিম ৯০১
[৫৪৩] বুখারী ১০৬৫, ১০৬৬, ১০৪৪, ১০৪৬, ১০৪৭, মুসলিম ৯০১
৫০৭
বুলুগুল মারামَعَنْ عَلِيٍّ مِثْلُ ذَلِكَ
আলী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৫১০
বুলুগুল মারামوَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: مَا هَبَّتْ رِيحٌ قَطُّ إِلَّا جَثَا النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى رُكْبَتَيْهِ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا رَحْمَةً، وَلَا تَجْعَلْهَا عَذَابًا» رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَالطَّبَرَانِيُّ
ইবনু ‘আব্বাস (রা.)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাঁটু পেতে বসে পড়তেন আর এই বলে জিকির">দু’আ করতেন – হে আল্লাহ! তুমি একে আমাদের জন্য রহমত (কল্যাণপ্রসূ) কর আর তাকে তুমি ‘আযাবে পরিণত করো না। - শাফি’ঈ ও ত্ববারানী। [৫৪৮]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৫৪৮] নাসিরুদ্দিন আলবানী তাখরীজ মিশকাত (১৪৬৪) এর সনদ কে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন, সিলসিলা যইফা (৫৬০০) গ্রন্থে বলেছেন, এ সংক্রান্ত সবই মুনকার। ইমাম যায়লায়ী তাখরীজুল কাশশাফ (৩/৫৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হুসাইন বিন কায়েস রয়েছে যাকে ইমাম আহমাদ ও নাসায়ী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। এর অন্য একটি সনদ রয়েছে। আলবানীর সিলসিলা যয়ীফা (৪২১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন।
৫১৮
আল লু'লু ওয়াল মারজানحديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا رَأَى مَخِيلَةً فِي السَّمَاءِ أَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، وَدَخَلَ وَخَرَجَ، وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ فَإِذَا أَمْطَرَتِ السَّمَاءُ سُرِّيَ عَنْهُ، فَعَرَّفَتْهُ عَائِشَةُ ذلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا أَدْرِي، لَعَلَّهُ كَمَا قَالَ قَوْمٌ (فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ) الآية
‘আয়িশাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আকাশে মেঘ দেখতেন, তখন একবার সামনে আগাতেন, আবার পেছনে সরে যেতেন। আবার কখনও ঘরে প্রবেশ করতেন, আবার বেরিয়ে যেতেন আর তাঁর মুখমণ্ডল মলিন হয়ে যেত। পরে যখন আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করত তখন তাঁর এ অবস্থা দূর হত। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কারণ জানতে চাইলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি জানি না, এ মেঘ এমন মেঘও হতে পারে যা দেখে ‘আদ জাতি বলেছিলঃ অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে উক্ত মেঘমালাকে এগোতে দেখল। (আল আহকাফ (৪৬): ২৪) (বুখারী পর্ব ৫৯ : /৫ হাঃ ৩২০৬, মুসলিম ৯/৩ হাঃ ৮৯৯)
৫২৩
আল লু'লু ওয়াল মারজানحديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ أَنَّ يَهُودِيَّةً جَاءَتْ تَسْأَلُهَا، فَقَالَتْ لَهَا: أَعَاذَكِ اللهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَسَأَلَتْ عَائَشَةُ، رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَيُعَذَّبُ النَّاسُ فِي قُبُورِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَائِذًا بِاللهِ مِنْ ذلِكَ ثُمَّ رَكِبَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَاتَ غَدَاةٍ مَرْكَبًا، فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَرَجَعَ ضُحًى، فَمَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَيْنَ ظَهْرَانَي الْحُجَرِ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، وَقَامَ النَّاسُ وَرَاءَهُ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الرُّكوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ، ثُمَّ قَامَ، فَقَامَ قِيَامًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الرَّكوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ وَانْصَرَفَ، فَقَالَ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ، ثُمَّ أَمَرَهُمْ أَنْ يَتَعَوَّذوا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে এলো। সে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলল, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেয়া হবে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তা হতে আল্লাহ্র নিকট পানাহ চাই।
পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সলাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সাজদাহ্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সাজদাহ্য় গেলেন। অতঃপর সলাত শেষ করলেন। আল্লাহ্র যা ইচ্ছে তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকদের নির্দেশ দেন। (বুখারী পর্ব ১৬ : /৭ হাঃ ১০৪৯-১০৫০, মুসলিম ১০/২, হাঃ ৯০৩)
পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সলাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সাজদাহ্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সাজদাহ্য় গেলেন। অতঃপর সলাত শেষ করলেন। আল্লাহ্র যা ইচ্ছে তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকদের নির্দেশ দেন। (বুখারী পর্ব ১৬ : /৭ হাঃ ১০৪৯-১০৫০, মুসলিম ১০/২, হাঃ ৯০৩)
৫২৮
আল লু'লু ওয়াল মারজানحديث أَبِي مُوسَى قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَزِعًا، يَخْشَى أَنْ تَكُونَ السَّاعَةُ؛ فَأَتَى الْمَسْجِدَ فَصَلّى بِأَطْوَلِ قِيَامٍ وَرُكُوعٍ وَسُجُودٍ رَأَيْتُهُ قَطُّ يَفْعَلُهُ، وَقَالَ: هذِهِ الآيَاتُ الَّتِي يُرْسِلُ اللهُ، لاَ تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، وَلكِنْ يُخَوِّفُ اللهُ بِهِ عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذلِكَ فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَدُعَائِهِ وِاسْتِغْفَارِهِ
আবূ মূসা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় উঠলেন এবং কিয়ামাত সংঘটিত হবার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মাসজিদে আসেন এবং এর পূর্বে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকূ‘ ও সাজদাহ্ সহকারে সলাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেনঃ এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত বিহ্বল অবস্থায় আল্লাহ্র যিক্র, দু‘আ এবং ইস্তিগ্ফারের দিকে অগ্রসর হবে। (বুখারী পর্ব ১৬ : /১৪ হাঃ ১০৫৯, মুসলিম ১০/৫, হাঃ ৯১২)
১৪৮৫
মিশকাতুল মাসাবিহوَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ فِىْ عَهْدِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ يَوْمَ مَاتَ إِبْرَاهِيْمُ ابْنُ رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَصَلّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكَعَاتٍ بِأَرْبَعِ سَجَدَاتٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় যেদিন তাঁর ছেলে ইব্রাহীমের ইন্তিকাল হলো। এদিন সূর্যগ্রহণ হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনগণকে নিয়ে 'ছয় রুকূ' ও চার সাজদায় সলাত আদায় করালেন। (মুসলিম) [১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] সহীহ : মুসলিম ৯০৪, ইরওয়া ৬৫৬, ৬৫৯।
১৪৮২
মিশকাতুল মাসাবিহعَن عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: انْخَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلى عَهْدِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَصَلّى رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا نَحْوًا مِنْ قِرَاءَةِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيْلًا ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيْلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيْلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ فَقَالَ ﷺ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ايَتَانِ مِنْ ايَاتِ اللّهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِه فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذلِكَ فَاذْكُرُوا اللّهَ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ الله رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ ثُمَّ رَأَيْنَاك تَكَعْكَعْتَ؟ قَالَ ﷺ: «إِنِّىْ أُرِيْتُ الْجَنَّةَ فَتَنَاوَلْتَ عُنْقُودًا وَلَوْ أَخَذْتُه لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا وَأُرِيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ مَنْظرًا كَالْيَوْمِ قَطُّ أَفْظَعَ وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» . قَالُوا: بِمَ يَا رَسُولَ اللّهِ؟ قَالَ: «بِكُفْرِهِنَّ» . قِيلَ: يَكْفُرْنَ بِاللّهِ؟ . قَالَ: «يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ لَو أَحْسَنْتَ إِلى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ كُلَّه ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কালে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনগণকে সাথে নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাতে তিনি সূরাহ আল বাক্বারাহ্ পড়ার মতো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাঁড়ালেন। তারপর দীর্ঘ রুকু' করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। তবে এ দাঁড়ানো ছিল প্রথম দাঁড়ানো অপেক্ষা স্বল্প সময়ের। এরপর আবার লম্বা রুকু' করলেন। তবে তা প্রথম রুকূ অপেক্ষা ছোট ছিল। তারপর রুকূ' হতে মাথা উঠালেন ও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। তবে তা আগের দাঁড়ানোর চেয়ে কম। তারপর আবার দীর্ঘ রুকূ' করলেন। তবে এ রুকূ'ও আগের রুকূ' অপেক্ষা ছোট। তারপর মাথা উঠালেন ও সাজদাহ্ করলেন। এরপর সলাত শেষ করলেন। আর এ সময় সূর্য পূর্ন্ জ্যোতিময় হয়ে উঠে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন, সূর্য ও চাঁদ আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টো নিদর্শন। তারা কারও জন্ম-মৃত্যুতে গ্রহনযুক্ত হয় না। তোমরা এরূপ 'গ্রহণ' দেখলে আল্লাহ তা'আলার যিক্র করবে। সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে আমরা দেখলাম। আপনি যেন এ স্থানে কিছু গ্রহণ করেছেন। তারপর দেখলাম পেছনের দিকে সরে গেলেন। রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন, তখন আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। জান্নাত হতে এক গুচ্ছ আঙ্গুর নিতে আগ্রহী হলাম। যদি আমি তা গ্রহণ করতাম তাহলে তোমরা দুনিয়ায় বাকি থাকা পর্যন্ত সে আঙ্গুর খেতে পারতে। আর আমি তখন জাহান্নাম দেখতে পেলাম। জাহান্নামের মতো বীভৎস কুৎসিত দৃশ্য আর কখনো আমি দেখিনি। আমি আরো দেখলাম যে, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীই নারী। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কি কারণে তা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের কুফরির কারণে। আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরি করে থাকে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না; বরং স্বামীর সাথে কুফ্রী করে থাকে। তারা (স্বামীর) সদ্ব্যবহার ভুলে যায়। সারা জীবন যদি তুমি তাদের কারও সাথে ইহসান করো। এরপর (কোন সময়) যদি সে তোমার পক্ষ হতে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখে বলে উঠে। আমি জীবনেও তোমার কাছে ভাল ব্যবহার পেলাম না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] সহীহ : বুখারী ৫১৯৭, মুসলিম ৯০৭, নাসায়ী ১৪৯৩, মুয়াত্ত্বা মালিক ৬৪০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৪৯২৫, আহমাদ ২৭১১, দারিমী ১৫২৮, আবূ দাঊদ ১১৮৯, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৩৭৭, ইবনু হিব্বান ২৮৩২, ২৮৫৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৩০২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১১৪০, মুসনাদ আল বায্যার ৫২৮৬।
১৪৯০
মিশকাতুল মাসাবিহعَن سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُب قَالَ: صَلّى بِنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ فِي كُسُوفٍ لَا نَسْمَعُ لَه صَوْتًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সময় আমাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করেছেন। আমরা তাঁর আওয়াজ শুনতে পাইনি। (তিরমিযী, আবু দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ) [১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১১৮৪, আত্ তিরমিযী ৫৬২, নাসায়ী ১৪৯৫, আহমাদ ২০১৭৮, শারহু মা‘আনির আসার ১৯৫৬, ইবনু হিব্বান ২৮৫১, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২৪২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৩৪২। কারণ এর সানাদে সা‘লাবাহ্ বিন ‘ইবাদ আল ‘আবদী একজন মাজহূল রাবী যেমনটি ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেছেন।