hadith book logo

রমযান মাসের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর কিছু শিক্ষা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

১০ রমযান:

ক- খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার মৃত্যু:

নবুওয়াতের দশম বছর রমযান মাসের ১০ তারিখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সঙ্গিনী, সুখে দুঃখে তাঁর পাশে দাঁড়ানো বন্ধু, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারিণী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মারা যান। এ বছরই রমযান মাসে। অন্য বর্ণনায় রজব মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কায় ছায়াদানকারী, একমাত্র অভিভাবক চাচা আবূ তালিব মারা যান। ফলে ইহিহাসের পাতায় এ বছরকে ‘আমুল হুযন’ তথা দুঃখের বছর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

মুহাম্মাদ ইবন সালেহ ও আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণিত, তারা বলেন,

«تُوُفِّيَتْ خَدِيجَةُ لِعَشْرٍ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ وَذَلِكَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِثَلَاثِ سِنِينَ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ بِنْتُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ سَنَةً» .

“খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হিজরতের তিন বছর পূর্বে রমযানের ১০ দিন অতিবাহিত হলে মারা যান, তখন তার বয়স ছিল ৬৫ বছর।” [তাবাকাত আল-কুবরা, ইবন ‘সাদ, (৮/২/১৮), মুদ্রণ: দারু সাদির, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ ১৯৬৮।]

খ- আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক ও ইমাম মুযানী রহ.-এর মৃত্যু:

১৮১ হিজরীর ১০ রমযান ইসলামের ইতিহাসে এক অনবদ্য মুজতাহিদ, আধ্যাত্মিক পুরুষ, বিশিষ্ট মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক রহ. মারা যান। [সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ৮/৪১৯।]

২৬৪ হিজরীর রমযান মাসে ইমাম শাফে‘ঈর অন্যতম ছাত্র আবূ ইবরাহীম ইসমাঈল ইবন ইয়াহইয়া ইবন ইসমাঈল ইবন আমর ইবন মুসলিম আল-মুযানী আল-মিসরী রহ. মারা যান। [সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ১০/১৩৬।]

রমযানে সৎ ও অসৎলোকদের মৃত্যু থেকে শিক্ষা:

পবিত্র রমযান মাসে খাদিজা আয়েশা, ফাতিমা, আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমসহ অনেক সাবাহী ও নেককার বান্দাহদের মৃত্যু হয়। তাদের মৃত্যু থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করতে পারি যে, একমাত্র আমলই নাজাতের মাফকাঠি। রমযানে আল্লাহ কবরের ‘আযাব মাফ করেন। এ মাসের অসংখ্য ফযীলত থাকায় নেককার বান্দাদের এ মাসে মৃত্যু আল্লাহর অশেষ নি‘আমত।

পক্ষান্তরে অনেক অত্যাচারী, যালিম যেমন, হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের মৃত্যু ইত্যাদি দ্বারা আল্লাহ বান্দাদেরকে সতর্ক করেন যে, যুলুম নির্যাতন করে কেউ আল্লাহর সীমা থেকে পার পেতে পারে না। একদিন না একদিন আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতেই হবে। তাছাড়া যালিমদেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া মুসলিমনের জন্য এক ধরণের বিজয়।

গ- মিসরে অভিশপ্ত ইয়াহুদীদের ওপর মুসলিমদের বিজয়:

১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাস। ইসরাইল ও মিসরের মধ্যে চলছিলো তুমুল যুদ্ধ। ইয়াহূদীরা মিসরের সিনাই অঞ্চল দখল করে নিয়ে যায়। মিসরের মুসলিমদের প্রতিরোধের স্রোতে ভেসে যায় অভিশপ্ত ইয়াহূদীর দল। অবশেষে ১০ই রমযান মুসলিমগণ চুড়ান্ত বিজয় লাভ করেন। ফিরে পান তাদের হারিয়ে যাওয়া সিনাই অঞ্চল।

শিক্ষা: আধুনিক যুগেও আল্লাহ তাঁর দীনদার মানুষকে সাহায্য করেন যেমনিভাবে তিনি সাহায্য করেছিলেন বদরের ময়দানে, শর্ত একটাই, তা হলো তাঁর দীনের দিকে ফিরে যাওয়া, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা।