hadith book logo

রমযান মাসের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর কিছু শিক্ষা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

৪ রমযান:

সিইফুল বাহার অভিযান:

মুসলিমদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল এ রমযান মাস দিয়েই। মক্কা থেকে মদীনা হিজরতের পর হিজরী ১ম সালে হামজা ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নেতৃত্বে রমযান মাসে (মার্চ ৬২৩ খৃস্টাব্দ) ৩০জন মর্দে মুজাহিদের সমন্বয় ‘সিইফুল বাহার’ অভিযানে মুসলিমগণ সফলতা লাভ করেন। এ অভিযানের ফলে ইসলামের চিরশত্রু আবূ জাহলদের মনে ভীতির সঞ্চয় হয়। জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَ مِائَةِ رَاكِبٍ أَمِيرُنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الجَرَّاحِ نَرْصُدُ عِيرَ قُرَيْشٍ»، فَأَقَمْنَا بِالسَّاحِلِ نِصْفَ شَهْرٍ، فَأَصَابَنَا جُوعٌ شَدِيدٌ حَتَّى أَكَلْنَا الخَبَطَ، فَسُمِّيَ ذَلِكَ الجَيْشُ جَيْشَ الخَبَطِ، فَأَلْقَى لَنَا البَحْرُ دَابَّةً يُقَالُ لَهَا العَنْبَرُ، فَأَكَلْنَا مِنْهُ نِصْفَ شَهْرٍ، وَادَّهَنَّا مِنْ وَدَكِهِ حَتَّى ثَابَتْ إِلَيْنَا أَجْسَامُنَا، فَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِهِ، فَنَصَبَهُ فَعَمَدَ إِلَى أَطْوَلِ رَجُلٍ مَعَهُ، قَالَ سُفْيَانُ : «مَرَّةً ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِهِ فَنَصَبَهُ وَأَخَذَ رَجُلًا وَبَعِيرًا فَمَرَّ تَحْتَهُ» قَالَ جَابِرٌ : وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ القَوْمِ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ، ثُمَّ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ، ثُمَّ إِنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ نَهَاهُ وَكَانَ عَمْرٌو يَقُولُ : أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ، أَنَّ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ قَالَ لِأَبِيهِ : كُنْتُ فِي الجَيْشِ فَجَاعُوا، قَالَ انْحَرْ، قَالَ : نَحَرْتُ، قَالَ : ثُمَّ جَاعُوا، قَالَ : انْحَرْ، قَالَ : نَحَرْتُ، قَالَ : ثُمَّ جَاعُوا، قَالَ انْحَرْ قَالَ : نَحَرْتُ، ثُمَّ جَاعُوا، قَالَ : انْحَرْ، قَالَ : نُهِيتُ .

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনশত সাওয়ারীর একটি সৈন্যবাহিনীকে কুরাইশের একটি কাফেলার ওপর সুযোগমতো আক্রমন চালানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছিলেন আমাদের সেনাপতি। আমরা অর্ধমাস পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে অবস্থান করলাম। (ইতোমধ্যে রসদপত্র নিঃশেষ হয়ে গেল) আমরা ভীষণ ক্ষুধার শিকার হয়ে গেলাম। অবশেষে ক্ষুধার যন্ত্রনায় গাছের পাতা পর্যন্ত খেতে থাকলাম। এ জন্যই এ সৈন্যবাহিনীর নাম রাখা হয়েছে ‘জাইশুল খাবাত’ অর্থাৎ পাতা ওয়ালা সেনাদল। এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামক একটি প্রাণি নিক্ষেপ করল। আমরা অর্ধমাস ধরে তা থেকে খেলাম। এর চর্বি শরীরে লাগালাম। ফলে আমাদের শরীর পূর্বের ন্যায় হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেল। এরপর আবু উবায়দা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আম্বরটির শরীর থেকে পাঁজর ধরে খাড়া করালেন। এরপর তাঁর সাথীদের মধ্যকার সবচেয়ে লম্বা লোকটিকে আসতে বললেন। সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আরেক বর্ণনায় বলেছেন, আবু উবায়দা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আম্বরটির পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় ধরে খাড়া করালেন। এবং (ঐ) লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে এর নিচে দিয়ে অতিক্রম করালেন। জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, সেনাদলের এক ব্যক্তি (খাদ্যের অভাব দেখে) প্রথমে তিনটি উট যবেহ্ করেছিলেন। এরপর আবু উবায়দা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে (উট যবেহ্ করতে) নিষেধ করলেন। আমর ইবন দীনার রহ. বলতেন, আবু সালিহ রহ. আমাদের জানিয়েছেন যে, কায়স ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (অভিযান থেকে ফিরে এসে) তার পিতার কাছে বর্ণনা করছিলেন যে, সেনাদলে আমিও ছিলাম, এক সময়ে সমগ্র সেনাদল ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, (কথাটি শোনামাত্র কায়সের পিতা) সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এমতাবস্থায় তুমি উট যবেহ্ করে দিতে। কায়স রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, (হ্যাঁ) আমি উট যবেহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হয়ে গেল। এবারো তার পিতা বললেন, তুমি যবেহ্ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবেহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এবারো উট যবেহ্ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবেহ করেছি। তিনি বললেন, এরপরও আবার সবাই ক্ষুধার্ত হলো। সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, উট যবেহ করতে। তখন কায়স ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এবার আমাকে (যবেহ করতে) নিষেধ করা হয়েছে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৬১।]