১
হালাল উপার্জন
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
তাকওয়া অবলম্বন করা:
রিযকের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা এবং হালাল রিযকের উপায় অবলম্বন করা ও হারাম থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তার ইচ্ছা ও হিকমতের দাবি অনুসারে প্রত্যেককে রিযক প্রদান করেন। অতএব যার জন্য আল্লাহ যে পরিমাণ রিযক নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(আরবি)
যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। সূরা তালাক : (২-৩)
তিনি আরো বলেন :
(আরবি)
আর আল্লাহ যদি তার বান্দাদের জন্য রিয্ক প্রশস্ত করে দিতেন, তাহলে তারা যমীনে অবশ্যই বিদ্রোহ করত। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণে যা ইচ্ছা নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণ অবগত, সম্যক দ্রষ্টা। সূরা শুরা : (২৭)
ইবনে কাসির রহ. বলেছেন : কিন্তু আল্লাহ তাআলা প্রত্যেককে সে পরিমাণ রিযক প্রদান করেন, যাতে তার কল্যাণ নিহিত। এ ব্যাপারে তিনিই বেশী জানেন। অতএব যে সম্পদের উপযুক্ত তাকে তিনি সম্পদ দান করেন। আর যে অভাবের উপযুক্ত তাকে তিনি অভাবে রাখেন। এর দলিল হিসেবে ইমাম ইবনে কাসির উল্লেখ করেন :
أن رسول الله صلى الله عليه قال : " أتاني جبريل، فقال : يا محمد، ربك يقرأ عليك السلام، ويقول : إن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا بالغنى ولو أفقرته لكفر، وإن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا القلة ولو أغنيته لكفر، وإن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا بالسقم ولو أصححته لكفر، وإن من عبادي من لا يصح إيمانه إلا بالصحة ولو أسقمته لكفر "،
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমার কাছে জিবরিল এসে বলে : হে মুহাম্মদ, তোমার রব তোমার কাছে সালাম প্রেরণ করেছেন এবং তিনি বলেছেন : আমার কিছু বান্দা রয়েছে, সচ্ছলতা ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে অভাব দেই, তাহলে সে কুফরি করবে। আবার আমার কিছু বান্দা রয়েছে, অভাব ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে সচ্ছলতা দেই, তাহলে সে কুফরি করবে। আবার আমার কিছু বান্দা রয়েছে অসুস্থতা ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে সুস্থ করি তাহলে সে কুফরি করবে। আবার আমার কিছু বান্দা রয়েছে সুস্থতা ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে অসুস্থ করি, তাহলে সে কুফরি করবে। হাদিসটি দুর্বল, ইবনে জাওজি রহ. যদিও ইলাল গ্রন্থে এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এর অর্থ সহিহ, আর এ জন্যই ইমাম ইবনে কাসির হাদিসটি উল্লেখ করে কোন মন্তব্য করেননি।
এ ছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে, যার ফলে রিযক বৃদ্ধি পায়, যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা। বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
من سره أن يبسط له في رزقه وينسأ له في أثره فليصل رحمه .
যে তার রিযক বৃদ্ধি ও পশ্চাতে সুখ্যাতি কামনা করে, সে যেন রেহেম তথা আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট ও অবিচ্ছন্ন রাখে। (বুখারি ও মুসলিম)
অনুরূপ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য দান-সদকা করার ফলেও রিযক বৃদ্ধি পায়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, রিযকের প্রসস্ততা বা সচ্ছলতা দ্বারা সর্বপ্রথম উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার বরকত, বান্দাকে দেয়া তার সুখ ও শান্তি। অল্প সম্পদে যদি আল্লাহ কাউকে এসব নিআমত দান করেন, তাহলে তিনি প্রকৃত সচ্ছলতা ও প্রসস্ততা দান করেছেন। মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে এটাই প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(আরবি)
আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সূরা আরাফ : (৯৬)
(আরবি)
যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। সূরা তালাক : (২-৩)
তিনি আরো বলেন :
(আরবি)
আর আল্লাহ যদি তার বান্দাদের জন্য রিয্ক প্রশস্ত করে দিতেন, তাহলে তারা যমীনে অবশ্যই বিদ্রোহ করত। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণে যা ইচ্ছা নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণ অবগত, সম্যক দ্রষ্টা। সূরা শুরা : (২৭)
ইবনে কাসির রহ. বলেছেন : কিন্তু আল্লাহ তাআলা প্রত্যেককে সে পরিমাণ রিযক প্রদান করেন, যাতে তার কল্যাণ নিহিত। এ ব্যাপারে তিনিই বেশী জানেন। অতএব যে সম্পদের উপযুক্ত তাকে তিনি সম্পদ দান করেন। আর যে অভাবের উপযুক্ত তাকে তিনি অভাবে রাখেন। এর দলিল হিসেবে ইমাম ইবনে কাসির উল্লেখ করেন :
أن رسول الله صلى الله عليه قال : " أتاني جبريل، فقال : يا محمد، ربك يقرأ عليك السلام، ويقول : إن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا بالغنى ولو أفقرته لكفر، وإن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا القلة ولو أغنيته لكفر، وإن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا بالسقم ولو أصححته لكفر، وإن من عبادي من لا يصح إيمانه إلا بالصحة ولو أسقمته لكفر "،
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমার কাছে জিবরিল এসে বলে : হে মুহাম্মদ, তোমার রব তোমার কাছে সালাম প্রেরণ করেছেন এবং তিনি বলেছেন : আমার কিছু বান্দা রয়েছে, সচ্ছলতা ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে অভাব দেই, তাহলে সে কুফরি করবে। আবার আমার কিছু বান্দা রয়েছে, অভাব ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে সচ্ছলতা দেই, তাহলে সে কুফরি করবে। আবার আমার কিছু বান্দা রয়েছে অসুস্থতা ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে সুস্থ করি তাহলে সে কুফরি করবে। আবার আমার কিছু বান্দা রয়েছে সুস্থতা ব্যতীত যার ঈমান ঠিক থাকবে না, আমি যদি তাকে অসুস্থ করি, তাহলে সে কুফরি করবে। হাদিসটি দুর্বল, ইবনে জাওজি রহ. যদিও ইলাল গ্রন্থে এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এর অর্থ সহিহ, আর এ জন্যই ইমাম ইবনে কাসির হাদিসটি উল্লেখ করে কোন মন্তব্য করেননি।
এ ছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে, যার ফলে রিযক বৃদ্ধি পায়, যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা। বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
من سره أن يبسط له في رزقه وينسأ له في أثره فليصل رحمه .
যে তার রিযক বৃদ্ধি ও পশ্চাতে সুখ্যাতি কামনা করে, সে যেন রেহেম তথা আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট ও অবিচ্ছন্ন রাখে। (বুখারি ও মুসলিম)
অনুরূপ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য দান-সদকা করার ফলেও রিযক বৃদ্ধি পায়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, রিযকের প্রসস্ততা বা সচ্ছলতা দ্বারা সর্বপ্রথম উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার বরকত, বান্দাকে দেয়া তার সুখ ও শান্তি। অল্প সম্পদে যদি আল্লাহ কাউকে এসব নিআমত দান করেন, তাহলে তিনি প্রকৃত সচ্ছলতা ও প্রসস্ততা দান করেছেন। মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে এটাই প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(আরবি)
আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সূরা আরাফ : (৯৬)