১
নববর্ষ উদযাপন করার বিধান
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
রাহমানের বান্দারা মুশরিকদের উৎসবে যোগ দেয় না:
সূরা ফুরকানে আল্লাহ তাআলা বিশেষ বান্দাদের গুণাবলী উল্লেখ করেছেন, যাদেরকে তিনি রহমানের বান্দা বলে সম্বোধন করেছেন। তাদের একটি বিশেষ গুণ, তারা কখনো কাফেরদের উৎসবে যোগ দেয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَٱلَّذِينَ لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا ٧٢﴾ [ الفرقان : ٧٢ ]
“আর যারা উৎসবে উপস্থিত হয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়”। [সূরা ফুরকান: (৭২)]
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইব্ন সিরিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ খৃস্টানদের ঈদ [খৃস্টানদের ধারণা মতে ঈসা আলাইহিস সালাম যে দিন বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করেছেন, সে দিন তারা ঈদ উৎযাপন করত। সে ঈদের কথা আল্লাহ এখানে বলেছেন।], মুজাহিদ, রাবি ইব্ন আনাস ও দাহহাক রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ মুশরিকদের ঈদ। ইকরিমা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ “জাহেলি যুগে প্রচলিত তাদের একটি খেলনা”। আমর ইব্ন মুররাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ “রহমানের বান্দারা মুশরিকদের শিরকি কাজের দিকে ধাবিত হয় না এবং তাদের সাথে মিশে না”। শায়খুল ইসলাম ইব্ন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ এসব বাণী নকল করে বলেন: তাবেয়িদের এ অর্থ এবং যারা বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ শিরক বা জাহেলি যুগের মূর্তি, বা অশ্লীল মেলা ও যাত্রা, বা গানবাদ্য ইত্যাদি অর্থে কোন বৈপরীত্য নেই, কারণ পূর্বসূরিরা এভাবে তাফসির করতেন। তারা শ্রোতার অবস্থা ও প্রয়োজনের খাতিরে এক বস্তুকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করতেন। আর যারা বলেন: لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ অর্থ “তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না”, তাদের ব্যাখ্যা সঠিক নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ তিনি لَا يَشۡهَدُونَ بـِٱلزُّورَ বলেননি। অর্থাৎ ب উপসর্গ যোগে বলেননি। আরবরা কোথাও উপস্থিত হলে বলে: شهدت كذا আমি সেখানে উপস্থিত হয়েছি, অর্থাৎ شهد ক্রিয়ার সাথে ب উপসর্গ যোগ করেন না। ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
«أَنَّ الْغَنِيمَةَ لِمَنْ شَهِدَ الْوَقْعَةَ»
“যুদ্ধে যে উপস্থিত হবে তার জন্যই গণিমত”। [সুনানে সায়িদ ইব্ন মানসুর: (২৭৯১)] এভাবে তারা উপস্থিতির জন্য شهد ক্রিয়া ব্যবহার করেন ب উপসর্গ ব্যতীত। আর যখন কেউ বলে: شهدت بكذا তার অর্থ আমি তার সংবাদ দিয়েছি। অতএব আরবদের ব্যবহার থেকেও প্রমাণ হয় ﴿لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ﴾ অর্থ “তারা কাফেরদের উৎসবে উপস্থিত হয় না, যদি ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ “তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না” হত, তাহলে شهد ক্রিয়ার পর ب উপসর্গ যোগ হত, যেমন আরবদের রীতি। অতএব এখানে আল্লাহ কাফেরদের ঈদ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন রহমানের বান্দারা সেখানে হাজির হয় না। যখন তাদের ঈদ ও উৎসবসমূহ দেখা ও সেখানে উপস্থিত হওয়া সমীচীন নয়, তখন তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করা ও একাত্মতা পোষণ করা কত বড় জঘন্য অপরাধ সহজে অনুমেয়”। [ইকতিদাউস সিরাতুল মুস্তাকিম: (১/৪২৬)]
ইব্ন কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ অর্থ “তারা কাফেরদের উৎসবে উপস্থিত হয় না” স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। এ জন্য হয়তো আল্লাহ পরবর্তীতে বলেছেন: وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا “এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়”। [সূরা ফুরকান: (৭২)] অর্থাৎ তারা সেখানে উপস্থিত হয় না, যদি কখনো ঘটনাক্রমে তার পাশ দিয়ে যেতে হয়, তারা চলে যায়, কিন্তু তার কোন বিষয় দ্বারা নিজেদেরকে কলুষিত করে না। এ জন্য আল্লাহ বলেছেন: مَرُّواْ كِرَامٗا সম্মানের সাথে চলে যায়। একদা ইব্ন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু গানবাদ্যের পাশ দিয়ে সেগুলোকে উপেক্ষা করে অতিক্রম করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لقد أصبح ابن مسعود، وأمسى كريمًا» .
“ইব্ন মাসউদ সকাল ও সন্ধ্যা করেছে সম্মানের সাথে”। অতঃপর তাবেয়ি ইবরাহিম ইব্ন মায়সারাহ রাহিমাহুল্লাহ তিলাওয়াত করেন: وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا [এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়]”। [ইব্ন কাসির: (৬/১৩১)]
﴿وَٱلَّذِينَ لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا ٧٢﴾ [ الفرقان : ٧٢ ]
“আর যারা উৎসবে উপস্থিত হয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়”। [সূরা ফুরকান: (৭২)]
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইব্ন সিরিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ খৃস্টানদের ঈদ [খৃস্টানদের ধারণা মতে ঈসা আলাইহিস সালাম যে দিন বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করেছেন, সে দিন তারা ঈদ উৎযাপন করত। সে ঈদের কথা আল্লাহ এখানে বলেছেন।], মুজাহিদ, রাবি ইব্ন আনাস ও দাহহাক রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ মুশরিকদের ঈদ। ইকরিমা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ “জাহেলি যুগে প্রচলিত তাদের একটি খেলনা”। আমর ইব্ন মুররাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ “রহমানের বান্দারা মুশরিকদের শিরকি কাজের দিকে ধাবিত হয় না এবং তাদের সাথে মিশে না”। শায়খুল ইসলাম ইব্ন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ এসব বাণী নকল করে বলেন: তাবেয়িদের এ অর্থ এবং যারা বলেন: ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ শিরক বা জাহেলি যুগের মূর্তি, বা অশ্লীল মেলা ও যাত্রা, বা গানবাদ্য ইত্যাদি অর্থে কোন বৈপরীত্য নেই, কারণ পূর্বসূরিরা এভাবে তাফসির করতেন। তারা শ্রোতার অবস্থা ও প্রয়োজনের খাতিরে এক বস্তুকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করতেন। আর যারা বলেন: لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ অর্থ “তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না”, তাদের ব্যাখ্যা সঠিক নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ তিনি لَا يَشۡهَدُونَ بـِٱلزُّورَ বলেননি। অর্থাৎ ب উপসর্গ যোগে বলেননি। আরবরা কোথাও উপস্থিত হলে বলে: شهدت كذا আমি সেখানে উপস্থিত হয়েছি, অর্থাৎ شهد ক্রিয়ার সাথে ب উপসর্গ যোগ করেন না। ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
«أَنَّ الْغَنِيمَةَ لِمَنْ شَهِدَ الْوَقْعَةَ»
“যুদ্ধে যে উপস্থিত হবে তার জন্যই গণিমত”। [সুনানে সায়িদ ইব্ন মানসুর: (২৭৯১)] এভাবে তারা উপস্থিতির জন্য شهد ক্রিয়া ব্যবহার করেন ب উপসর্গ ব্যতীত। আর যখন কেউ বলে: شهدت بكذا তার অর্থ আমি তার সংবাদ দিয়েছি। অতএব আরবদের ব্যবহার থেকেও প্রমাণ হয় ﴿لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ﴾ অর্থ “তারা কাফেরদের উৎসবে উপস্থিত হয় না, যদি ﴿ٱلزُّورَ ﴾ অর্থ “তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না” হত, তাহলে شهد ক্রিয়ার পর ب উপসর্গ যোগ হত, যেমন আরবদের রীতি। অতএব এখানে আল্লাহ কাফেরদের ঈদ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন রহমানের বান্দারা সেখানে হাজির হয় না। যখন তাদের ঈদ ও উৎসবসমূহ দেখা ও সেখানে উপস্থিত হওয়া সমীচীন নয়, তখন তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করা ও একাত্মতা পোষণ করা কত বড় জঘন্য অপরাধ সহজে অনুমেয়”। [ইকতিদাউস সিরাতুল মুস্তাকিম: (১/৪২৬)]
ইব্ন কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ অর্থ “তারা কাফেরদের উৎসবে উপস্থিত হয় না” স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। এ জন্য হয়তো আল্লাহ পরবর্তীতে বলেছেন: وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا “এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়”। [সূরা ফুরকান: (৭২)] অর্থাৎ তারা সেখানে উপস্থিত হয় না, যদি কখনো ঘটনাক্রমে তার পাশ দিয়ে যেতে হয়, তারা চলে যায়, কিন্তু তার কোন বিষয় দ্বারা নিজেদেরকে কলুষিত করে না। এ জন্য আল্লাহ বলেছেন: مَرُّواْ كِرَامٗا সম্মানের সাথে চলে যায়। একদা ইব্ন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু গানবাদ্যের পাশ দিয়ে সেগুলোকে উপেক্ষা করে অতিক্রম করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لقد أصبح ابن مسعود، وأمسى كريمًا» .
“ইব্ন মাসউদ সকাল ও সন্ধ্যা করেছে সম্মানের সাথে”। অতঃপর তাবেয়ি ইবরাহিম ইব্ন মায়সারাহ রাহিমাহুল্লাহ তিলাওয়াত করেন: وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا [এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়]”। [ইব্ন কাসির: (৬/১৩১)]