hadith book logo

সূরা আল-ফাতিহা-এর তাফসীর

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওহহাব রহ. সূরা ফাতিহা থেকে যা চয়ন করেছেন:

এখানে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হচ্ছে যা শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওহহাব রহ. সূরা ফাতিহা থেকে চয়ন করেছেন:

১ - إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ এতে আল্লাহর তাওহীদ সাব্যস্ত হয়েছে।

২ - اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ এতে রাসূলের আনুগত্যের বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে।

৩- দীনের তিনটি রুকন রয়েছে। ভালোবাসা, আশা ও ভয়। প্রথম আয়াতে রয়েছে ভালোবাসা, দ্বিতীয়টিতে রয়েছে আশা, আর তৃতীয়টিতে রয়েছে ভয়।

৪- অধিকাংশ মানুষ প্রথম আয়াতের অর্থ জানা না থাকার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থাৎ যাবতীয় হামদ (প্রশংসা) ও যাবতীয় রুবুবিয়াত বা প্রভুত্ব কেবল জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত না করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।

৫- প্রথম যারা নি‘আমতপ্রাপ্ত তাদের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, প্রথম যারা রোষাণলে পড়েছে ও পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদের সম্পর্কে জানা।

৬- নি‘আমতপ্রাপ্তদের উল্লেখ করার মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক তাদের সম্মানিত করা ও প্রশংসা করা হয়েছে।

৭- রোষাণলপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টদের উল্লেখ কারার মাধ্যমে মহান আল্লাহর অপার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির বিষয়টি প্রকাশ লাভ করল।

৮- সূরা ফাতেহা হচ্ছে দো‘আ, তবে এর সাথে সাথে স্মরণ রাখতে হবে যে আল্লাহ তা‘আলা অমনোযোগী অন্তর থেকে দো‘আ কবুল করেন না।

৯ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ এ আয়াতাংশের মাধ্যমে ইজমা‘ তথা উম্মতের ঐকমত্য যে প্রমাণ তা সাব্যস্ত হলো।

১০- উক্ত বাক্য থেকে বুঝা যায় যে, মানুষকে যদি তার নিজের ওপর ন্যস্ত করা হয় তবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।

১১- এ আয়াতসমূহে তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

১২- এ আয়াতসমূহের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে শির্ক অসার বিষয়।

১৩- এ আয়াতসমূহের মাধ্যমে বিদ‘আতের অসারতা প্রমাণিত হলো।

১৪- সূরা আল-ফাতিহার কোনো একটি আয়াত যদি কেউ ভালোভাবে জানে তবে সে ফক্বীহ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচিত হতে পারে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা সবচেয়ে বেশি জানেন।