hadith book logo

সমাজ বিপ্লবের ধারা

লেখকঃ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

মুক্তির একই পথ- দা‘ওয়াত ও জিহাদ

( طريق النجاة هو الدعوة والجهاد )

বন্ধুগণ!

সমাজ বিপ্লবের উপরোক্ত তিনটি ধারা প্রথমে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করে নিজেকে আদর্শ নমুনা হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু একাজ একেবারে নির্বিঘ্নে সম্ভব হবে না। যখনই উক্ত তিনটি ধারার দিকে আপনি জনগণকে দাওয়াত দিবেন এবং তা কায়েম করতে প্রয়াসী হবেন, তখনই আপনার সমাজ এমনকি আপনার পরিবার আপনার উপর ক্ষেপে যাবে। বরং বলা যেতে পারে যে, জাহেলিয়াত তার সমগ্র হাতিয়ার নিয়ে আপনার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় আপনাকে তিনটি বস্ত্ত সর্বদা মনে রাখতে হবে-

১. নিজেকে সব সময় জাহেলিয়াতের ময়দানে যুদ্ধরত সৈনিক মনে করা। ২. শাহাদাত পিয়াসী সৈনিকের বাঁচার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুতে সন্তুষ্ট থাকা। ৩. নিজের কর্ম ও আচরণ কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া। আল্লাহর ঘোষণা শুনুন-

أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللّهُ الَّذِيْنَ جَاهَدُواْ مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِيْنَ -

‘তোমরা কি ভেবে নিয়েছ যে জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ জানবেন না কে তোমাদের মধ্যে প্রকৃত মুজাহিদ, আর কে প্রকৃত ধৈর্যশীল?’ (আলে ইমরান ৩/১৪২)।

‘জিহাদ’ অর্থ আল্লাহর পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। ‘শহীদ’ অর্থ আল্লাহর পথে নিহত অথবা মৃত ব্যক্তি। জিহাদ মুমিনের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। যেখানেই সে অন্যায় দেখবে, সেখানেই সে প্রতিরোধ করবে। জিহাদকে বাদ দিয়ে মুমিন হিসাবে এ জগতে বেঁচে থাকা অসম্ভব। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘জিহাদ ও সংকল্প (অর্থাৎ হিজরত ও জিহাদের খালেছ নিয়ত) চিরদিন বাকী থাকবে’।৯ শয়তানের আয়ু অনেক দীর্ঘ। যতদিন শয়তান বেঁচে থাকবে, ততদিন তার বিরুদ্ধে জিহাদ বজায় থাকবে। জিহাদ থেকে যিনি পিছিয়ে আসবেন কিংবা অলসতা প্রদর্শন করবেন, তিনি শয়তানের সঙ্গে মিতালী করবেন এবং আল্লাহর গযবের শিকার হবেন। আল্লাহ বলেন,

يَآ أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اِسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الإِيمَانِ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ- قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيْرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِيْ سَبِيْلِهِ فَتَرَبَّصُوْا حَتَّى يَأْتِيَ اللّهُ بِأَمْرِهِ، وَاللّهُ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ -

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের বাপ-দাদা ও ভ্রাতা-ভগিনীদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমানের চাইতে কুফরকে অধিক ভালবাসে। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করে, তারা হ’ল সীমালংঘনকারী’।

৯. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৭১৫ ‘হজ্জ’ অধ্যায়; হা/৩৮১৮ ‘জিহাদ’ অধ্যায়।

‘(হে নবী!) আপনি বলে দিন যে, তোমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন, স্ত্রীগণ, আত্মীয়-স্বজন এবং ধন-সম্পদ যা তোমরা উপার্জন কর, ব্যবসা-বাণিজ্য যা তোমরা বন্ধ হয়ে যাবার আশংকা কর, ঘর-বাড়ী যা তোমরা অতিশয় প্রিয় মনে কর; এ সকল বন্তু যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ হ’তে তোমাদের নিকট অধিক প্রিয়তর হয়, তবে আল্লাহর ফায়ছালা এসে যাওয়া পর্যন্ত তোমরা অপেক্ষা কর। আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে কখনও পথ প্রদর্শন করেন না।’ (তাওবাহ ৯/২৩-২৪)।