hadith book logo

সম্পদে নারীর উত্তরাধিকার ইসলামই দিয়েছে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা

লেখকঃ মুহাম্মাদ আফীফ ফুরকান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

নারীর উত্তরাধিকার:

পূর্বেই আলোচিত হয়েছে, ইসলামী উত্তরাধিকার আইন ন্যায়বিচার ও সুষম বন্টনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশেষত: নারীর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ইসলাম যুগান্তকারী ও ন্যায়সঙ্গত বিধান দিয়েছে। যেখানে প্রাচীন রোমান সমাজে নারী একজন স্ত্রী হিসেবে কোনো অংশ পেত না। ইয়াহূদী বিধানে ছেলে থাকা অবস্থায় নারীর কোনো ধরনের অংশ নেই। আর ইসলামের আবির্ভাব পূর্ব জাহেলি সমাজের দিকে একটু দৃষ্টি দিলে ভেসে উঠে মায়ের জাতি-নারীর করুণ চিত্র। সম্পদে তার উত্তরাধিকার তো দূরের কথা; বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ নারীকেই মিরাছের সম্পদ হিসেবে পরিগণিত করা হতো। কুরআনুল কারীমে নারীর নামে নামকরণকৃত সূরা আন-নিসার ১৯নং আয়াত,

﴿يا أَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَحِلُّ لَكُمۡ أَن تَرِثُواْ ٱلنِّسَآءَ كَرۡهٗاۖ﴾ [ النساء : ١٩ ]

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারি হবে।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯]

এ করুণ বাস্তবতা ইঙ্গিত বহন করে, অন্যান্য সাধারণ অবস্থায় নারীকে সমাজের বোঝা মনে করা হতো। যুদ্ধে যেতে পারে না, জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে না, এ জাতীয় অজুহাত দেখিয়ে নারীকে সম্পূর্ণভাবে মিরাসের সম্পদ হতে বঞ্চিত করা হতো। এমন অবস্থায় ইসলাম সার্বজনীন ও কালজয়ী মানবিক বিধান দিয়ে নারীকে অবহেলা ও লাঞ্ছনার এই অতল গহ্বর থেকে উদ্ধার করে সম্মানের আসনে বসিয়েছে। দেখিয়েছে নতুন করে জীবন চলার আলোকিত পথ। কুরআনের শাশ্বত বাণীতে ঘোষিত হয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে নারীর প্রাপ্তির ঘোষণা।