১
আল্লাহর (দ্বীনকে) রক্ষা কর, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন
লেখকঃ সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
আল্লাহর (দ্বীনকে) রক্ষা কর, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا- أنَّهُ قَالَ : كُنْتُ خَلْفَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ : يَا غُلاَمُ، إنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ : اِحْفَظِ اللهَ يَحْفَظُكَ، اِحْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إذَا سَألْتَ فَاسْألِ اللهَ، وَإذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِا للهِ، وَاعْلَمْ أنَّ الأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَّنْفَعُوْكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوْكَ إلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ الله لَكَ، وَلَوِ اجْتَمَعُوْا عَلَى أَنْ يَّضُرُّوُكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوْكَ إلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الأقْلَامُ وَجُفَّتِ الصُحُفُ . ( رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح )
আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি একদা রাসূলুল্লাহ স.-এর পশ্চাতে বসা ছিলাম। তিনি বললেন : হে বালক ! আমি তোমাকে কিছু কথা শিখাচ্ছি—শোন! তুমি আল্লাহ (আল্লাহর বিধি-বিধান)-কে সংরক্ষণ কর, তাহলে তিনি তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। আল্লাহর বিধি-বিধানের সুরক্ষায় সচেষ্ট হও, তাহলে তুমি তাকে তোমার কাছে পাবে। যদি তুমি কিছু প্রার্থনা কর, তাহলে আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা কর। আর তুমি সাহায্য প্রার্থনা করলে আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা কর এবং জেনে রেখো, কোন বিষয়ে তোমার উপকারার্থে যদি সমগ্র মানব জাতি একত্রিত হয়, তবে তারা তোমার কোন-রূপ উপকার করতে সক্ষম হবে না। কেবল তাই হবে, যা আল্লাহ তাআলা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এবং যদি তারা সবাই কোন বিষয়ে তোমার অপকারকল্পে সমবেত হয়, তাহলেও তারা তোমার অপকার করতে পারবে না। তবে তা অবশ্যই ঘটবে, যা আল্লাহ তোমার বিপক্ষে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, শুকিয়ে গেছে লিপিকা (সুতরাং, কিছুই পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই)। [ইমাম তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন হাদিসটি হাসান ও সহিহ।]
হাদিস বর্ণনাকারী—হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মহান সাহাবি, উম্মাহর জ্ঞান তাপস ও তাফসির শাস্ত্রের অন্যতম পুরোধা রাসূল সা.-এর চাচা আববাস বিন আ. মুত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহ, তিনি ছিলেন কোরাইশী গোত্রের হাশেমী শাখার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। হিজরতের তিন বছর পূর্বে জন্মলাভ করেন। হিজরতের বছর পিতা-মাতার সাথে হিজরতের পুণ্যভূমি মদিনায় গমন করেন। দ্বীনের জ্ঞানের প্রশস্ততা ও গভীরতার জন্য রাসূল তাকে জিকির">দোয়া করেন। ইমাম বোখারি রহ. তার থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম স. একবার ইস্তেঞ্জায় প্রবেশ করেন। আমি তাঁর জন্য ওজুর পানি রেখে দিলাম। তিনি তা দেখে বললেন : কে রেখে দিল এটা ? তাকে অবহিত করা হলে তিনি এ বলে দোয়া করেন যে—
اللهم فقهه في الدين . وفي رواية : اللهم علمه الكتاب . وفي رواية أنه قال : اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل .
হে আল্লাহ, তাকে দ্বীনের জ্ঞান-প্রজ্ঞা দান করুন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহ ! তাকে কোরআন কারীমের জ্ঞান দান করুন। অপর রেওয়ায়েতে আছে, হে আল্লাহ ! তাকে ইসলাম ধর্মের জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং কোরআন ব্যাখ্যা করার মতো ব্যুৎপত্তি দান করুন। [বোখারি- ১৪৩ মুসলিম -২৪৭৭] মাসরুক র. বলেন :—
كنت إذا رأيت ابن عباس قلت : أجمل الناس، فإذا نطق قلت : أفصح الناس، فإذا تحدث قلت : أعلم الناس .
ইবনে আববাসকে দেখামাত্র আমার মনে যে ভাবনার উদয় হত, তা এই যে, মানুষের মাঝে তিনি অবয়বে-গঠনে সুন্দরতম ব্যক্তি। আর যখন তিনি কথোপকথন ও খুতবায় ব্যাপৃত হতেন, মনে হত, তিনি মানুষের মাঝে বিশুদ্ধতম বচন ও বর্ণনা-ভঙ্গির অধিকারী, অসাধারণ বাগ্মী। যখন দ্বীনের আলোচনায় মগ্ন হতেন, আমার মনে হত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তিনিই শীর্ষস্থানীয়। [যাদুদ দায়িয়াহ : ১১]
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় সাহাবিদের অন্যতম। তাফসীর শাস্ত্র ও দ্বীনের অন্যান্য শাখায় সূক্ষ্ম জ্ঞানের অবতারণায় তার ছিল অগাধ পান্ডিত্য। তিনি ইন্তেকাল করেন ৬৮ হিজরিতে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি একদা রাসূলুল্লাহ স.-এর পশ্চাতে বসা ছিলাম। তিনি বললেন : হে বালক ! আমি তোমাকে কিছু কথা শিখাচ্ছি—শোন! তুমি আল্লাহ (আল্লাহর বিধি-বিধান)-কে সংরক্ষণ কর, তাহলে তিনি তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। আল্লাহর বিধি-বিধানের সুরক্ষায় সচেষ্ট হও, তাহলে তুমি তাকে তোমার কাছে পাবে। যদি তুমি কিছু প্রার্থনা কর, তাহলে আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা কর। আর তুমি সাহায্য প্রার্থনা করলে আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা কর এবং জেনে রেখো, কোন বিষয়ে তোমার উপকারার্থে যদি সমগ্র মানব জাতি একত্রিত হয়, তবে তারা তোমার কোন-রূপ উপকার করতে সক্ষম হবে না। কেবল তাই হবে, যা আল্লাহ তাআলা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এবং যদি তারা সবাই কোন বিষয়ে তোমার অপকারকল্পে সমবেত হয়, তাহলেও তারা তোমার অপকার করতে পারবে না। তবে তা অবশ্যই ঘটবে, যা আল্লাহ তোমার বিপক্ষে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, শুকিয়ে গেছে লিপিকা (সুতরাং, কিছুই পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই)। [ইমাম তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন হাদিসটি হাসান ও সহিহ।]
হাদিস বর্ণনাকারী—হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মহান সাহাবি, উম্মাহর জ্ঞান তাপস ও তাফসির শাস্ত্রের অন্যতম পুরোধা রাসূল সা.-এর চাচা আববাস বিন আ. মুত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহ, তিনি ছিলেন কোরাইশী গোত্রের হাশেমী শাখার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। হিজরতের তিন বছর পূর্বে জন্মলাভ করেন। হিজরতের বছর পিতা-মাতার সাথে হিজরতের পুণ্যভূমি মদিনায় গমন করেন। দ্বীনের জ্ঞানের প্রশস্ততা ও গভীরতার জন্য রাসূল তাকে জিকির">দোয়া করেন। ইমাম বোখারি রহ. তার থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম স. একবার ইস্তেঞ্জায় প্রবেশ করেন। আমি তাঁর জন্য ওজুর পানি রেখে দিলাম। তিনি তা দেখে বললেন : কে রেখে দিল এটা ? তাকে অবহিত করা হলে তিনি এ বলে দোয়া করেন যে—
اللهم فقهه في الدين . وفي رواية : اللهم علمه الكتاب . وفي رواية أنه قال : اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل .
হে আল্লাহ, তাকে দ্বীনের জ্ঞান-প্রজ্ঞা দান করুন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহ ! তাকে কোরআন কারীমের জ্ঞান দান করুন। অপর রেওয়ায়েতে আছে, হে আল্লাহ ! তাকে ইসলাম ধর্মের জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং কোরআন ব্যাখ্যা করার মতো ব্যুৎপত্তি দান করুন। [বোখারি- ১৪৩ মুসলিম -২৪৭৭] মাসরুক র. বলেন :—
كنت إذا رأيت ابن عباس قلت : أجمل الناس، فإذا نطق قلت : أفصح الناس، فإذا تحدث قلت : أعلم الناس .
ইবনে আববাসকে দেখামাত্র আমার মনে যে ভাবনার উদয় হত, তা এই যে, মানুষের মাঝে তিনি অবয়বে-গঠনে সুন্দরতম ব্যক্তি। আর যখন তিনি কথোপকথন ও খুতবায় ব্যাপৃত হতেন, মনে হত, তিনি মানুষের মাঝে বিশুদ্ধতম বচন ও বর্ণনা-ভঙ্গির অধিকারী, অসাধারণ বাগ্মী। যখন দ্বীনের আলোচনায় মগ্ন হতেন, আমার মনে হত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তিনিই শীর্ষস্থানীয়। [যাদুদ দায়িয়াহ : ১১]
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় সাহাবিদের অন্যতম। তাফসীর শাস্ত্র ও দ্বীনের অন্যান্য শাখায় সূক্ষ্ম জ্ঞানের অবতারণায় তার ছিল অগাধ পান্ডিত্য। তিনি ইন্তেকাল করেন ৬৮ হিজরিতে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।