hadith book logo
হোমদোয়া ভান্ডারঘুম ও জাগরণ
সব ক্যাটাগরি•২০ টি দোয়া

ঘুম ও জাগরণ

أذكار النوم والاستيقاظ

১
ঘুমানোর আগে দোয়াসূরা আস-সাজদাহর ফজিলত

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-মুলক পাঠ না করে ঘুমাতেন না।

الٓمٓ ١ تَنزِيلُ ٱلْكِتَـٰبِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۚ بَلْ هُوَ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًۭا مَّآ أَتَىٰهُم مِّن نَّذِيرٍۢ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ ٣ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ ۖ مَا لَكُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا شَفِيعٍ ۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ ٤ يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ إِلَى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍۢ كَانَ مِقْدَارُهُۥٓ أَلْفَ سَنَةٍۢ مِّمَّا تَعُدُّونَ ٥ ذَٰلِكَ عَـٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ٦ ٱلَّذِىٓ أَحْسَنَ كُلَّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ ٱلْإِنسَـٰنِ مِن طِينٍۢ ٧ ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُۥ مِن سُلَـٰلَةٍۢ مِّن مَّآءٍۢ مَّهِينٍۢ ٨ ثُمَّ سَوَّىٰهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رُّوحِهِۦ ۖ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَشْكُرُونَ ٩ وَقَالُوٓا۟ أَءِذَا ضَلَلْنَا فِى ٱلْأَرْضِ أَءِنَّا لَفِى خَلْقٍۢ جَدِيدٍۭ ۚ بَلْ هُم بِلِقَآءِ رَبِّهِمْ كَـٰفِرُونَ ١٠ ۞ قُلْ يَتَوَفَّىٰكُم مَّلَكُ ٱلْمَوْتِ ٱلَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ ١١ وَلَوْ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا۟ رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ رَبَّنَآ أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَٱرْجِعْنَا نَعْمَلْ صَـٰلِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ ١২ وَلَوْ شِئْنَا لَـَٔاتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَىٰهَا وَلَـٰكِنْ حَقَّ ٱلْقَوْلُ مِنِّى لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ ١٣ فَذُوقُوا۟ بِمَا نَسِيتُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هَـٰذَآ إِنَّا نَسِينَـٰكُمْ ۖ وَذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْخُلْدِ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ١৪ إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِـَٔايَـٰتِنَا ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا۟ بِهَا خَرُّوا۟ سُجَّدًۭا وَسَبَّحُوا۟ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ ۩ ١৫ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ ٱلْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًۭا وَطَمَعًۭا وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ ١৬ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌۭ مَّآ أُخْفِىَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍۢ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١৭ أَفَمَن كَانَ مُؤْمِنًۭا كَمَن كَانَ فَاسِقًۭا ۚ لَّا يَسْتَوُۥنَ ١৮ أَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ فَلَهُمْ جَنَّـٰتُ ٱلْمَأْوَىٰ نُزُلًۢا بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١৯ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ فَسَقُوا۟ فَمَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ ۖ كُلَّمَآ أَرَادُوٓا۟ أَن يَخْرُجُوا۟ مِنْهَآ أُعِيدُوا۟ فِيهَا وَقِيلَ لَهُمْ ذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلنَّارِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ٢٠ وَلَنُذِيقَنَّهُم مِّنَ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَدْنَىٰ دُونَ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ٢١ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِـَٔايَـٰتِ رَبِّهِۦ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَآ ۚ إِنَّا مِنَ ٱلْمُجْرِمِينَ مُنتَقِمُونَ ٢২ وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَـٰبَ فَلَا تَكُن فِى مِرْيَةٍۢ مِّن لِّقَآئِهِۦ ۖ وَجَعَلْنَـٰهُ هُدًۭى لِّبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٢٣ وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةًۭ يَهْدُونَ بِأَمْرিনَا لَمَّا صَبَرُوا۟ ۖ وَكَانُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا يُوقِنُونَ ٢৪ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ٢৫ أَوَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّنَ ٱلْقُرُونِ يَمْشُونَ فِى مَسَـٰكِنِهِمْ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍ ۖ أَفَلَا يَسْمَعُونَ ٢৬ أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا نَسُوقُ ٱلْمَآءَ إِلَى ٱلْأَرْضِ ٱلْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِهِۦ زَرْعًۭا تَأْكُلُ مِنْهُ أَنْعَـٰمُهُمْ وَأَنفُسُهُمْ ۖ أَفَلَا يُبْصِرُونَ ٢৭ وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْفَتْحُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٢৮ قُلْ يَوْمَ ٱلْفَتْحِ لَا يَنفَعُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِيمَـٰنُهُمْ وَلَا هُمْ يُনظَرُونَ ٢৯ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَٱنتَظِرْ إِنَّهُم مُّنتَظِرُونَ ٣٠
উচ্চারণ

১. আলীফ-লা~ম-মী~ম। ২. তানযীলুল কিতা-বি লা- রইবা ফীহি মির রব্বিল ‘আ-লামীন। ৩. আম ইয়াক্বূলূনাফ তারা-হু; বাল হুওয়াল হাক্বক্বু মির রব্বিকা লিতুনযিরা ক্বাওমাম মা~ আতা-হুম মিন নাযীরিম মিন ক্বাবলিকা লা‘আল্লাহুম ইয়াহ্তাদূন। ৪. আল্লা-হুল্লাযী খলাক্বাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বা ওয়া মা- বাইনাহুমা- ফী সিত্ততি আইয়্যা-মিন ছুম্মাস তাওয়া- ‘আলাল ‘আরশি; মা- লাকুম মিন দূনিহী মিঁও ওয়ালিয়্যিঁও ওয়ালা- শাফী‘; আফালা- তাতাযাক্কারূন। ৫. ইউদাব্বিরুল আমরা মিনাস সামা~ই ইলাল আরদ্বি ছুম্মা ইয়া‘রুজু ইলাইহি ফী ইয়াওমিন কা-না মিক্বদা-রুহূ~ আলফা সানাতিম মিম্মা- তা‘উদ্দূন। ৬. যা-লিকা ‘আ-লিমুল গইবি ওয়াশ শাহা-দাতিল ‘আযীযুর রহীম। ৭. আল্লাযী~ আহসানা কুল্লা শাইয়িন খলাক্বাহূ ওয়া বাদাআ খলক্বাল ইনসা-নি মিন তীন। ৮. ছুম্মা জা‘আলা নাসলাহূ মিন সুলা-লাতিম মিম মা~য়িম মাহীন। ৯. ছুম্মা সাওয়া-হু ওয়া নাফাখ ফীহি মির রূহিহী ওয়া জা‘আলা লাকুমুস সাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাহ; ক্বালীলাম মা- তাশকুরূন। ১০. ওয়া ক্বা-লূ~ আ-ইযা- দ্বলা্লনা- ফিল আরদ্বি আ-ইন্না- লাফী খলক্বিন জাদীদ; বাল হুম বিলিক্ব~ই রব্বিহিম কা-ফিরূন। ১১. ক্বুল ইয়াতাওয়াফফা-কুম মালাকুল মাওতিল লাযী উক্কিলা বিকুম ছুম্মা ইলা- রব্বিকুম তুরজা‘ঊন। ১২. ওয়া লাও তারা~ ইযিল মুজরিমূনা না-কিসূ রুঊসিহিম ‘ইনদা রব্বিহিম, রব্বানা~ আবসরনা- ওয়া সামি‘না- ফারজি‘না- না‘মাল স-লিহান ইন্না- মূক্বিনূন। ১৩. ওয়া লাও শি’না- লাআ-তাইনা- কুল্লা নাফসিন হুদা-হা- ওয়া লা-কিন হাক্বক্বাল ক্বাওলু মিন্নী লাআমলাআন্না জাহান্নামা মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-সি আজমা‘ঈন। ১৪. ফাযূক্বূ বিমা- নাসীতুম লিক্বা~আ ইয়াওমিকুম হা-যা- ইন্না- নাসীনা-কুম; ওয়া যূক্বূ ‘আযা-বাল খুলদি বিমা- কুনতুম তা‘মালূন। ১৫. ইন্নামা- ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনাল্লাযীনা ইযা- যুক্কিরূ বিহা- খররূ সুজ্জাদাও ওয়া সাব্বাহূ বিহামদি রব্বিহিম ওয়া হুম লা- ইয়াসতাকবিরূন। [সাজদাহ] ১৬. তাতাজা-ফা- জুনূবুহুম ‘আনিল মাদ্বা-জি‘ই ইয়াদ‘ঊনা রব্বাহুম খওফাও ওয়া তমা‘আঁও ওয়া মিম্মা- রযাক্বনা-হুম ইউনফিক্বূন। ১৭. ফালা- তা‘লামু নাফসুম মা~ উখফিয়া লাহুম মিন ক্বুররাতি আ‘ইউনিং জাযা~আম বিমা- কা-নূ ইয়া‘মালূন। ১৮. আফামান কা-না মু’মিনান কামান কা-না ফা-সিক্বান; লা- ইয়াসতাঊন। ১৯. আম্মাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুস স-লিহা-তি ফালাহুম জান্না-তুল মা’ওয়া- নুযুলাম বিমা- কা-নূ ইয়া‘মালূন। ২০. ওয়া আম্মাল লাযীনা ফাসাক্বূ ফামা’ওয়া-হুমুন না-র; কুল্লামা~ আরা-দূ~ আঁই ইয়াখরুজূ মিনহা~ উ‘ঈদূ ফীহা- ওয়া ক্বীলা লাহুম যূক্বূ ‘আযা-বান না-রিল লাযী কুনতুম বিহী তুকাযযিবূন। ২১. ওয়া লানুযীক্বান্নাহুম মিনাল ‘আযা-বিল আদনা- দূনাল ‘আযা-বিল আকবারি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন। ২২. ওয়া মান আজলামু মিম্মান যুক্কিরা বিআ-য়া-তি রব্বিহী ছুম্মা আ‘রদ্বা ‘আনহা-; ইন্না- মিনাল মুজরিমীনা মুনতাক্বিমূন। ২৩. ওয়া লাক্বাদ আ-তাইনা- মূসাল কিতা-বা ফালা- তাকুন ফী মিরয়াতিম মিল লিক্বা~য়িহী ওয়া জা‘আলনা-হু হুদাল লিবানী~ ইসরা~ঈল। ২৪. ওয়া জা‘আলনা- মিনহুম আ-ইম্মাতাইঁ ইয়াহদূনা বিআমরিনা- লাম্মা- সাবারূ, ওয়া কা-নূ বিআ-য়া-তিনা- ইউক্বিনূন। ২৫. ইন্না রব্বাকা হুয়া ইয়াফছিলু বাইনাহুম ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাতি ফীমা- কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফূন। ২৬. আওয়ালাম ইয়াহদি লাহুম কাম আহলাকনা- মিন ক্বাবলিহিম মিনাল ক্বুরূনি ইয়ামশূনা ফী মাসা-কিনিহিম; ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-ত; আফালা- ইয়াসমা‘ঊন। ২৭. আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না- নাসূক্বুল মা~আ ইলাল আরদ্বিল জুরুযি ফানুখরিজু বিহী যার‘আন তা’কুলু মিনহু আন‘আ-মুহুম ওয়া আনফুসুহুম; আফালা- ইউবসীরূন। ২৮. ওয়া ইয়াক্বূলূনা মাতা- হা-যাল ফাতহু ইন কুনতুম স-দিক্বীন। ২৯. ক্বুল ইয়াওমাল ফাতহি লা- ইয়ানফা‘উল্লাযীনা কাফারূ~ ঈমা-নুহুম ওয়ালা- হুম ইউনযারূন। ৩০. ফাআ‘রিদ্ব ‘আনহুম ওয়ানতাযির ইন্নাহুম মুনতাযিরূন।

অনুবাদ
আলিফ-লাম-মীম। এই কিতাব বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। (পুরো সূরাটি পাঠ করা সুন্নত)
রেফারেন্স:সুনানে তিরমিযী: ২৮৯২, মুসনাদে আহমাদ: ১৪৬৫৯
২
ঘুমানোর সময়ঘুমানোর আগে তাসবীহ পাঠ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে এবং ফাতেমা (রাঃ)-কে বলেছিলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম? যখন তোমরা বিছানায় যাবে তখন তোমরা:

سُبْحَانَ اللَّهِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ

সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার), আল্লাহু আকবার (৩৪ বার)।

অনুবাদ
আল্লাহ অতি পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৩৭০৫
৩
ঘুম থেকে জাগরণঘুম থেকে ওঠার পর যা বলতে হয়

হযরত হুজাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন বলতেন:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
উচ্চারণ

আলহামদু লিল্লাযিল্লাযী আহ্ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।

অনুবাদ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর পুনরায় জীবিত (জাগ্রত) করেছেন এবং তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৬৩১২
৪
ঘুমানোর সময়ঘুমানোর আগে সূরা পাঠ

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালু একত্রিত করতেন এবং তাতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফুঁ দিতেন।

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّـهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾
উচ্চারণ

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম (১) ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। (২) আল্লাহুস্ সামাদ। (৩) লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। (৪) ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

অনুবাদ
(১) বল, তিনিই আল্লাহ্‌, এক-অদ্বিতীয়। (২) আল্লাহ্‌ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই। (সূরা ইখলাস ১১২ঃ ১-৪)
ফযিলত ও গুরুত্ব

অতঃপর দুই হাত দিয়ে শরীরের যতটুকু সম্ভব মুছে নিতেন। মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এভাবে তিনি তিনবার করতেন।

রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৫০১৭
৫
ঘুমানোর আগে দোয়াআযাব থেকে মুক্তি

হযরত হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত গালের নিচে রাখতেন এবং এই দোয়াটি বলতেন:

اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা।

অনুবাদ
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন।
রেফারেন্স:সুনানে আবু দাউদ: ৫০৪৫, সুনানে তিরমিযী: ৩৩৯৮
৬
ঘুমানোর আগে দোয়াশিরক থেকে মুক্তি

নওফাল আল-আশজায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বলেছেন, তুমি ঘুমানোর সময় সূরা আল-কাফিরুন পাঠ করবে।

قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾
উচ্চারণ

কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন। লা আ’বুদু মা তা’বুদুন। ওয়া লা আনতুম আবিদুনা মা আ’বুদ। ওয়া লা আনা আবিদুম মা আবাদতুম। ওয়া লা আনতুম আবিদুনা মা আ’বুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।

অনুবাদ
বলুন, হে কাফিররা! ‘আমি তার ‘ইবাদাত করি না যার ‘ইবাদাত তোমরা কর। ‘এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি। এবং আমি ইবাদতকারী নই তার যার ইবাদত তোমরা করে আসছ। এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্য এবং আমার দ্বীন আমার জন্য।
ফযিলত ও গুরুত্ব

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এটি পাঠ করা শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা।

রেফারেন্স:সুনানে আবু দাউদ: ৫০৫৫, সুনানে তিরমিযী: ৩৪০৩
৭
ঘুম থেকে ওঠার দোয়াঘুম থেকে ওঠার আদব

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে ওঠে সে যেন বলে:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي فِي جَسَدِي وَرَدَّ عَلَىَّ رُوحِي وَأَذِنَ لِي بِذِكْرِهِ
উচ্চারণ

আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফা-নী ফী জাসাদী, ওয়া রদ্দা ‘আলাইয়্যা রূহী, ওয়া আযিনা লী বিযিকরিহী।

অনুবাদ
সব প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমার দেহের সুস্থতা রক্ষা করেছেন। আমার রুহ আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর যিকরের অনুমতি আমাকে দিয়েছেন।
রেফারেন্স:তিরমিযী: ৩৪০১
৮
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে দোয়াবিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন রাতে পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন (এক পাশ থেকে অন্য পাশে ফিরতেন), তখন এই দোয়াটি পড়তেন:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ওয়াহিদুল কাহহার, রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মা বাইনাহুমাল আযীযুল গাফফার।

অনুবাদ
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, মহা প্রতাপশালী। তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব; তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।
রেফারেন্স:সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহঃ ২০৬৬, নাসাঈ: আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ ৮৬৫, হাকেম: ১৯৮৫
৯
ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে দোয়াদুঃস্বপ্ন বা ভয়ের প্রতিকার

আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শিখিয়েছেন, তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে ঘাবড়ে গেলে বা ভয় পেলে যেন এই দোয়াটি পড়ে:

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ

আউযু বিকালিমাতি-ল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইকাাবিহি, ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াতীনি ওয়া আইঁ ইয়াহদুরুনি।

অনুবাদ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
রেফারেন্স:সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৯৩, সুনানে তিরমিযী: ৩৫২৮
১০
ঘুমানোর সময়শয়তান থেকে সুরক্ষার আমল

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে শয়তান তাকে বলেছিল, যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। নবী (সাঃ) এটি শুনে বললেন, সে মিথ্যাবাদী হলেও তোমাকে সত্য কথা বলেছে।

اَللَّهُ لَآ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُۥ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِى يَشْفَعُ عِنْدَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম, লাহূ মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি, মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী, ইয়ালামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ, ওয়াসিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা, ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আযীম।

অনুবাদ
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও কেউ আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, মহান।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ২৩১১
১১
ঘুমানোর সময়অক্ষমতা ও অলসতা থেকে মুক্তি

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) প্রায়ই এই দোয়াটি পড়তেন এবং ঘুমানোর আগেও আশ্রয় প্রার্থনার গুরুত্ব দিতেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল হারামি, ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাতি।

অনুবাদ
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা ও অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি কবরের আযাব থেকে এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৬৩৬৭
১২
ঘুমানোর আগে দোয়াসূরা আল-মুলকের ফজিলত

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-মুলক পাঠ না করে ঘুমাতেন না।

تَبَـٰرَكَ ٱلَّذِى بِيَدِهِ ٱلْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ١ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْمَوْتَ وَٱلْحَيَوٰةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًۭا ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفُورُ ٢ ٱلَّذِى خَلَقَ سَبْعَ سَمَـٰوَٰتٍۢ طِبَاقًۭا ۖ مَّا تَرَىٰ فِى خَلْقِ ٱلرَّحْمَـٰنِ مِن تَفَـٰوُتٍۢ ۖ فَٱرْجِعِ ٱلْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍۢ ٣ ثُمَّ ٱرْجِعِ ٱلْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ ٱلْبَصَرُ خَاسِئًۭا وَهُوَ حَسِيرٌۭ ٤ وَلَقَدْ زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِمَصَـٰبِيحَ وَجَعَلْنَـٰهَا رُجُومًۭا لِّلشَّيَـٰطِينِ ۖ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ ٱلسَّعِيرِ ٥ وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ٦ إِذَآ أُلْقُوا۟ فِيهَا سَمِعُوا۟ لَهَا شَهِيقًۭا وَهِىَ تَفُورُ ٧ تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ ٱلْغَيْظِ ۖ كُلَّمَآ أُلْقِىَ فِيهَا فَوْجٌۭ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَآ أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌۭ ٨ قَالُوا۟ بَلَىٰ قَدْ جَآءَنَا نَذِيرٌۭ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ ٱللَّهُ مِن شَىْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِى ضَلَـٰلٍۢ كَبِيرٍۢ ٩ وَقَالُوا۟ لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِىٓ أَصْحَـٰبِ ٱلسَّعِيرِ ١٠ فَٱعْتَرَفُوا۟ بِذَنۢبِهِمْ فَسُحْقًۭا لِّأَصْحَـٰبِ ٱلسَّعِيرِ ١١ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَأَجْرٌۭ كَبِيرٌۭ ١২ وَأَسِرُّوا۟ قَوْلَكُمْ أَوِ ٱجْهَرُوا۟ بِهِۦٓ ۖ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ١٣ أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ ٱللَّطِيفُ ٱلْخَبِيرُ ١৪ هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ ذَلُولًۭا فَٱمْشُوا۟ فِى مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا۟ مِن رِّزْقِهِۦ ۖ وَإِلَيْهِ ٱلنُّشُورُ ١৫ ءَأَمِنتُم مَّن فِى ٱلسَّمَآءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ ٱلْأَرْضَ فَإِذَا هِىَ تَمُورُ ١৬ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِى ٱلسَّمَآءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًۭا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ ١৭ وَلَقَدْ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ١৮ أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَـٰٓفَّـٰتٍۢ وَيَقْبِضْنَ ۚ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا ٱلرَّحْمَـٰنُ ۚ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَىْءٍۭ بَصِيرٌ ١৯ أَمَّنْ هَـٰذَا ٱلَّذِى هُوَ جُندٌۭ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ۚ إِنِ ٱلْكَـٰفِرُونَ إِلَّا فِى غُرُورٍ ٢٠ أَمَّنْ هَـٰذَا ٱلَّذِى يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُۥ ۚ بَل لَّجُّوا۟ فِى عُتُوٍّۢ وَنُفُورٍ ٢১ أَفَمَن يَمْشِى مُكِبًّا عَلَىٰ وَجْهِهِۦٓ أَهْدَىٰٓ أَمَّن يَمْشِى سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ٢২ قُلْ هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۖ قَلِيلًۭا مَّا تَشْكُرُونَ ٢৩ قُلْ هُوَ ٱلَّذِى ذَرَأَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٢৪ وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٢৫ قُلْ إِنَّمَا ٱلْعِلْمُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٢৬ فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةًۭ سِيٓـَٔتْ وُجُوهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَقِيلَ هَـٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تَدَّعُونَ ٢৭ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِىَ ٱللَّهُ وَمَن مَّعِىَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ ٱلْكَـٰفِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ٢৮ قُلْ هُوَ ٱلرَّحْمَـٰنُ ءَامَنَّا بِهِۦ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٢৯ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَآؤُكُمْ غَوْرًۭا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَآءٍۢ مَّعِينٍۭ ٣٠
উচ্চারণ

১. তাবা-রকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। ২. আল্লাযী খলাক্বাল মাওতা ওয়াল হায়া-তা লিইয়াবলুয়াকুম আইয়্যুকুম আহসানু ‘আমালা-; ওয়া হুয়াল ‘আযীযুল গফূর। ৩. আল্লাযী খলাক্বা সাব‘আ সামা-ওয়া-তিন তিবাক্বান, মা- তারা- ফী খলক্বির রহমা-নি মিন তাফা-উত; ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতূর। ৪. ছুম্মারজি‘ইল বাসারা কাররাতানি ইয়ানক্বালিব ইলাইকাল বাসারু খ-সিয়াঁও ওয়া হুয়া হাসীর। ৫. ওয়া লাক্বাদ যাইয়্যান্নাস সামা-আদ দুনয়া- বিমাসা-বীহা ওয়া জা‘আলনা-হা- রুজূমাল লিশশাইয়া-তীনি ওয়া আ‘তাদনা- লাহুম ‘আযা-বাস সা‘ঈর। ৬. ওয়া লিল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বিহিম ‘আযা-বু জাহান্নাম; ওয়া বি’সাল মাসীর। ৭. ইযা- উলক্বূ ফীহা- সামি‘ঊ লাহা- শাহীক্বাও ওয়া হিয়া তাফূর। ৮. তাকা-দু তামা-ইয়্যাযু মিনাল গইয; কুল্লামা- উলক্বিয়া ফীহা- ফাওজুন সাআলাহুম খাযানাতুহা- আলাম ইয়া’তিকুম নাযীর। ৯. ক্বা-লূ বালা- ক্বাদ জা-আনা- নাযীরুন ফাকাযযাবনা- ওয়া ক্বুলনা- মা- নাযযালাল্লা-হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা- ফী দলা-লিন কাবীর। ১০. ওয়া ক্বা-লূ লাও কুন্না- নাসমা‘উ আও না‘ক্বিলু মা- কুন্না- ফী আসহা-বিস সা‘ঈর। ১১. ফা‘তারাফূ বিযামবিহিম ফাসুহক্বাল লিআসহা-বিস সা‘ঈর। ১২. ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রব্বাহুম বিলগইবি লাহুম মাগফিরাতুঁও ওয়া আজরুন কাবীর। ১৩. ওয়া আসিররূ ক্বাওলাকুম আওয়িজহারূ বিহী; ইন্নাহূ ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর। ১৪. আলা- ইয়া‘লামু মান খলাক্বা ওয়া হুয়াল লাতীফুল খবীর। ১৫. হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদ যালূলান ফামশূ ফী মানা-কিবিহা- ওয়া কুলূ মির রিযক্বিহী; ওয়া ইলাইহিন নুশূর। ১৬. আ আমিন্তুম মান ফিস সামা-ই আঁই ইয়াখসিফা বিকুমুল আরদ ফাইযা- হিয়া তামূর। ১৭. আম আমিন্তুম মান ফিস সামা-ই আঁই ইউরসিলা ‘আলাইকুম হা-সিবান; ফাসাতা‘লামূনা কাইফা নাযীর। ১৮. ওয়া লাক্বাদ কাযযাবাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিহিম ফাকাইফা কা-না নাকীর। ১৯. আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত তাইরি ফাওক্বাহুম সা-ফফা-তিঁও ওয়া ইয়াক্ববিদনা; মা- ইউমসিকুহুন্না ইল্লার রহমা-ন; ইন্নাহূ বিকুল্লি শাইয়িম বাসীর। ২০. আম্মান হা-যাল্লাযী হুয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দূনির রহমা-ন; ইনিল কা-ফিরূনা ইল্লা- ফী গুরূর। ২১. আম্মান হা-যাল্লাযী ইয়ারযুক্বুকুম ইন আমসাকা রিযক্বাহূ; বাল লাজ্জূ ফী ‘উতুওয়িঁও ওয়া নুফূর। ২২. আফামাঁই ইয়ামশী মুকিব্বান ‘আলা- ওয়াজহিহী আহদা- আম্মাঁই ইয়ামশী সাওয়িয়্যান ‘আলা- সিরা-তিম মুসতাক্বীম। ২৩. ক্বুল হুওয়াল্লাযী আনশাআকুম ওয়া জা‘আলা লাকুমুস সাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাহ; ক্বালীলাম মা- তাশকুরূন। ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাযী যারাআকুম ফিল আরদি ওয়া ইলাইহি তুহশারূন। ২৫. ওয়া ইয়াক্বূলূনা মাতা- হা-যাল ওয়া‘দু ইন কুনতুম সা-দিক্বীন। ২৬. ক্বুল ইন্নামাল ‘ইলমু ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ইন্নামা- আনা- নাযীরুম মুবীন। ২৭. ফালাম্মা- রাআওহু যুলফাতান সী-আত উজুহুল্লাযীনা কাফারূ ওয়া ক্বীলা হা-যাল্লাযী কুনতুম বিহী তাদ্দা‘ঊন। ২৮. ক্বুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লা-হু ওয়া মাম মা‘ইয়া আও রহিমানা- ফামাইঁ ইয়ুজীরুল কা-ফিরীনা মিন ‘আযা-বিন আলীম। ২৯. ক্বুল হুওয়ার রহমা-নু আ-মান্না- বিহী ওয়া ‘আলাইহি তাওয়াক্কালনা-; ফাসাতা‘লামূনা মান হুওয়া ফী দলা-লিম মুবীন। ৩০. ক্বুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মা-উকুম গওরান ফামাইঁ ইয়া’তীকুম বিমা-ইম মা‘ঈন।

ফযিলত ও গুরুত্ব

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, কুরআনের একটি সূরা যাতে ৩০টি আয়াত রয়েছে, সেটি এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছিল যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়েছে; সেটি হলো সূরা তাবারাকাল্লাযী (আল-মুলক)।

রেফারেন্স:সুনানে তিরমিযী: ২৮৯১, ২৮৯২
১৩
ঘুমানোর সময়ঘুমানোর আগে সূরা পাঠ

সূরা ফালাক ৩ বার -

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾
উচ্চারণ

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম। (১) ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। (২) মিন শাররি মা খালাক্ব। (৩) ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। (৪) ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। (৫) ওয়া মিন শাররি 'হা-সিদিন ইযা 'হাসাদ।

অনুবাদ
(১) বল, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে, (২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, (৩) আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, (৪) আর গিরায় ফুঁ-দানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে, (৫) আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে’। (সূরা ফালাক ১১৩ঃ ১-৫)
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৫০১৭
১৪
ঘুমানোর সময়ঘুমানোর আগে সূরা পাঠ

সূরা নাস ৩ বার -

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَـٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾
উচ্চারণ

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম। (১) ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। (২) মালিকিন্না-স, (৩) ইলা-হিন্না-স, (৪) মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, (৫) আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-স, (৬) মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।

অনুবাদ
(১) বল, ‘আমি আশ্রয় চাই মানুষের রব, (২) মানুষের অধিপতি, (৩) মানুষের ইলাহ-এর কাছে, (৪) কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে দ্রুত আত্মগোপন করে। (৫) যে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়। (৬) জিন ও মানুষ থেকে। (সূরা নাস ১১৪ঃ ১-৬)
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৫০১৭
১৫
ঘুমানোর সময়রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত

আবু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾ لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾
উচ্চারণ

(২৮৫) আ-মানার রাসূলু বিমা- উনঝিলা ইলাইহি মির রব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা- নুফাররিক্বু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়াক্ব-লু সামি‘না- ওয়া আতা‘না- গুফ্‌রা-নাকা রব্বানা- ওয়া ইলাইকাল মাসীর। (২৮৬) লা ইয়ুকাল্লিফুল্লা-হু নাফ্‌সান ইল্লা উস‘আহা- লাহা- মা- কাসাবাত ওয়া আলাইহা- মাক্তাসাবাত রব্বানা- লা- তুআখিয্‌না- ইন নاسىনা- আও আখ্‌ত্বা’না-। রব্বানা- ওয়ালা- তাহ্‌মিল ‘আলাইনা- ইসরান কামা- 'হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা-। রব্বানা- ওয়ালা- তু'হাম্মিলনা- মা-লা- ত্বা-ক্বাতা লানা- বিহী। ওয়া‘ফু 'আন্না- ওয়াগফির লানা- ওয়ার'হামনা- আনতা মাওলা-না- ফানসুরনা- ‘আলাল ক্বাউমিল কা-ফিরীন।

অনুবাদ
(২৮৫) রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। (২৮৬) আল্লাহ্‌ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা বাকারা ২ঃ ২৮৫-২৮৬)
ফযিলত ও গুরুত্ব

মুহাদ্দিসগণের মতে, 'যথেষ্ট হবে' এর অর্থ হলো বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে অথবা তাহাজ্জুদের স্থলাভিষিক্ত হবে।

রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৫০০৯
১৬
ঘুম থেকে জাগরণরাতে ঘুম ভেঙে গেলে করণীয়

উবাদাহ ইবনে সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে জেগে উঠে এই দোয়াটি পড়বে এবং এরপর বলবে 'আল্লাহুম্মাগফিরলী' (হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন) অথবা কোনো দোয়া করবে, তবে তার দোয়া কবুল করা হবে। আর যদি সে ওযু করে সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত কবুল হবে।

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আলহামদু লিল্লাহি, ওয়া সুবহানাল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অনুবাদ
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
ফযিলত ও গুরুত্ব

অতঃপর বলে, 'আল্লাহুম্মাগফিরলী' ‘‘হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন।’’ বা (অন্য কোন) দু‘আ করে, তাঁর দু‘আ কবূল করা হয়। অতঃপর উযূ করে (সালাত আদায় করলে) তার সালাত কবূল করা হয়।

রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ১১৫৪
১৭
সন্ধ্যা বেলার দুয়া (শোয়ার আগে)ডান কাতে শোয়ার ফজিলত

বারা ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, যখন তুমি বিছানায় শোয়ার ইচ্ছা করবে, তখন নামাযের ওযুর মতো ওযু করবে। তারপর ডান কাতে শুয়ে বলবে...

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যাহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়ালা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আনযালতা ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।

অনুবাদ
হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার সব কাজ আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরালাম এবং আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে আপনার আশ্রয় নিলাম। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং আপনার পাকড়াও থেকে বাঁচার কোনো জায়গা নেই। আপনি যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তার ওপর ঈমান আনলাম এবং আপনি যে নবী পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর ঈমান আনলাম।
ফযিলত ও গুরুত্ব

নবী (সাঃ) বলেছেন, যদি তুমি ওই রাতে মারা যাও, তবে তুমি ফিতরাতের (ইসলামের) ওপর মারা যাবে। আর এগুলোকে তোমার রাতের শেষ কথা বানাও।

রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৬৩১৫
১৮
ঘুমানোর আগে দোয়াঅনিষ্টতা থেকে বাঁচার দোয়া

আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বললেন, আমাকে এমন কিছু দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি সকাল ও সন্ধ্যায় বলব। তখন তিনি এই দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন এবং ঘুমানোর সময়ও এটি পড়তে বললেন।

اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আলিমাল গায়বি ওয়াশ শাহাদাতি ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আউযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়া মিন শাররিশ শায়তানি ওয়া শিরকিহী।

অনুবাদ
হে আল্লাহ! আপনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রতিটি জিনিসের রব ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার নফসের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক (বা ফাঁদ) থেকে।
রেফারেন্স:সুনানে আবু দাউদ: ৫০৬৭, সুনানে তিরমিযী: ৩৩৯২
১৯
ঘুমানোর সময়ঘুমানোর সময় যা বলতে হয়

হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) যখন রাতে বিছানায় যেতেন, তখন তিনি নিজের হাত গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন...

اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বিস্‌মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া

অনুবাদ
হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নামেই জীবিত (জাগ্রত) হই ।
রেফারেন্স:সহীহ বুখারী: ৬৩১৪
২০
ঘুমানোর আগে দোয়াআল্লাহর নিআমতের শুকরিয়া

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন বিছানায় ঘুমানোর জন্য যেতেন, তখন এই দোয়াটি পড়তেন:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ
উচ্চারণ

আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া কাফানা ওয়া আওয়ানা, ফাকাম মিম্মান লা কাফিয়া লাহু ওয়া লা মু’বিয়া।

অনুবাদ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কারণ এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো আশ্রয়দাতাও নেই।
রেফারেন্স:সহীহ মুসলিম: ২৭১৫