সহিহ ফাযায়েলে আমল
৩. ফাযায়িলে সলাত
صحيح فضايل امل
৩/১ পরিচ্ছেদঃ
সলাত পরিচিতি
সলাত শব্দটি স্থানভেদে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন : (১) আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : অনুগ্রহ, দয়া (২) বান্দার সাথে সম্পর্কিত হলে এ অর্থ হবে : প্রার্থনা, দু’আ (৩) ফিরিশতার সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : ক্ষমা প্রার্থনা (৪) নাবীর সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : দরূদ পড়া (৫) পশু পাখির সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : তাসবীহ পাঠ করা (৬) সলাত আদায় করা- যা একটি বিশেষ ‘ইবাদাত’ আলোচ্য অনুচ্ছেদে এটাই উদ্দেশ্যে।
পরিভাষায় সলাত হলো : কতিপয় নির্দ্দিষ্ট আরকান ও আহকামের সমষ্টি একটি নির্দ্দিষ্ট ‘ইবাদাত। ইসলামী শরীয়তে এর নিদ্দিষ্ট সময়সীমা বর্ণিত হয়েছে। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় ফরয। সলাত ইসলামের শ্রেষ্ঠতম ‘ইবাদাত এবং ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “তোমরা সলাত আদায় করো ঠিক ঐভাবে যেভাববে আমাকে আদায় করতে দেখো।” (সহীহুল বুখারী)
৩/২ পরিচ্ছেদঃ
ফাযায়িলে ত্বাহারাত - উযূ করার ফাযীলাত
৭৩
সহিহ ফাযায়েলে আমলআবু মালিক আল-আশ’আরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৫৬, আহমান শাকির বলেন (হা/২২৮০০, ২২৮০৬) : সানাদ সহীহ।
৭৪
সহিহ ফাযায়েলে আমলইবনু ‘উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নাবী (সাঃ) বলেছেন : পবিত্রতা ছাড়া সলাত কবুল হয় না।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৫৭
৭৫
সহিহ ফাযায়েলে আমল‘আলী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : পবিত্রতা (উযূ) হলো সলাতের চাবি।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাসান সহীহ : তিরমিযী হা/৩, শায়খ আলবানী বলেন : হাসান সহীহ।
৭৬
সহিহ ফাযায়েলে আমল‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি এভাবে (উত্তমরূপে) উযূ করে, তার পূর্বেকার সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়। ফলে তার সলাত ও মাসজিদে যাওয়া অতিরিক্ত ‘আমল বলে গণ্য হয়।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৬৬
৭৭
সহিহ ফাযায়েলে আমলআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি : ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহবান করা হবে যে, পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ করার কারণে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। কাজেই তোমরা যারা সক্ষম তারা অধিক উজ্জ্বলতাসহ উঠতে চেষ্টা করো।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৩৩
৭৮
সহিহ ফাযায়েলে আমলআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমার উম্মাত (ক্বিয়ামাতের দিন) আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর আমি লোকদেরকে তা (হাওয) থেকে এমনভাবে বিতাড়িত করবো, যেভাবে কোন ব্যক্তি তার উটের পাল থেকে অন্যের উটকে বিতাড়িত করে থাকে। লোকেরা বললো, যে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? জবাবে তিনি (সাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তোমাদের এক নিদর্শন হবে যা অন্য কারো হবে না। উযুর প্রভাবে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ের উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়বে। উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত অবস্থায় তোমরা আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর তোমাদের একদল লোককে জোড় করে আমার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। ফলে তারা আমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। তখন আমি বলবো, হে আমার রব! এরা তো আমার লোক। জবাবে ফিরিশতারা আমাকে বলবে, আপনি জানেন না আপনার অবর্তমানে তারা কি কি নতুন কাজ (বিদ’আত) করেছে।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬০৫
৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
উযূর পানির সাথে গুনাহ্সমূহ ঝরে যায়
৭৯
সহিহ ফাযায়েলে আমলআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : কোন মুসলিম বান্দা উযূর সময় যখন মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তার চোখ দিয়ে অর্জিত গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন তার দুই হাতের স্পর্শের মাধ্যমে সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন সে তার পা দু’খানা ধৌত করে তখন তার দুই পা দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে অর্জিত সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়, এভাবে সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬০০