সিলসিলা সহিহা
১. উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
سلسلة صحيحة
১/১ পরিচ্ছেদঃ
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
১
সিলসিলা সহিহাআনাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়ের ও আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)- এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা করে দেন। (আস্-সহীহাহ-৩১৬৬)
হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি সহীহ্।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
আল-আদাবুল মুফরাদ হাদীস নং ৫৬৮ (ইফা. ঢাকা হা. ৫৭০) বাইহাক্বী তাঁর ‘আস-সুনান’ -এ ৬/২৬২ নং। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি সহীহ্ মুসলিম ও মুস্তাদরাক হাকিমের শর্তে সহীহ্।
৪
সিলসিলা সহিহাআয়িশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ অতি ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি। (আস্ সহীহাহ-৩৯৭০)
হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি সহীহ্।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীসটি আয়িশা (রাঃ) মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম বুখারী তাঁর “সহীহ বুখারি” হা. ৪৫২৩, ফাতহুল বারী হা. ৭১৮৮; সহীহ মুসলিম- ৮/৫৭; তার -এর(১/৮১) তার কিতাবের ২৭৩; (১২৪৩) তিরমিযী হা. ২৯৭২; নাসাঈ- ২/৩১১ (হা. ৫৪২৩); ইবনু হিব্বান হা. ৫৬৬৭; বায়হাক্বী-১০/১০৮; বায়হাক্বীর ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ হা. ৫০১; আহমাদ ৬/৫৫, ৬৩ ২০৫; মিশকাত (এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ঢাকা) ৭/৩৫৮৯।
২
সিলসিলা সহিহাআবূ মাসউদ বদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আবূ মাসউদ বদরী (রাঃ) হতে মারফূ সূত্রে বর্ণিত। পূর্ববর্তী নাবুওয়াতের বাণীসমূহ হতে মানুষেরা সর্বশেষ যা পেয়েছে তা হলো যখন তোমার লজ্জা-শরম নেই তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই কর। (আস-সহীহাহ-৬৮৪)
হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি সহীহ্।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
ইবনু আকাসীর তাঁর ‘তারীখে দামেশ্ক’-এ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। মুনাভী (রহঃ) ‘ফয়যুল ক্কাদীর’ এ বলেনঃ “এর সানাদটি যঈফ। কেননা এর (সানাদে) ফাতহুল মিসরী বর্ণনাকারী যঈফ। কিন্তু এর সাক্ষ্য রয়েছে ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ)-এর “শু’আবুল ঈমানে”। তিনি (রহঃ) ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে উক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন।
৩
সিলসিলা সহিহাকা’ব ইবনু উজহার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কা’বকে দেখতে না পেয়ে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাহাবীগণ বললেন, তিনি অসুস্থ। অতঃপর মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেঁটে তার নিকট গেলেন। যখন তাঁর কাছে গিয়ে পৌঁছলেন, তখন বললেনঃ হে কা’ব! সুসংবাদ গ্রহণ কর। (তা শুনে) তার মা বললেন, হে কাব! তোমার জন্য জান্নাতের অভিনন্দন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর (ফায়সালার) ব্যাপারে এই তাড়াহুড়াকারিণী কে? সে (কা’ব) বলল,ইয়া রাসুলুল্লাহ! উনি আমার ‘মা’। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে কা’বের মা! তুমি কিভাবে জানবে? হয়ত কা’ব এমন উক্তি করেছে যা তার জন্য সমীচীন ছিল না। অথবা এমন ব্যাপারে নীরব ছিল যা তার জন্য ক্ষতির কারণ হত না। (আস্-সহীহাহ-৩১০৩)
হাদীসটি হাসান।
হাদীসটি হাসান।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
আল্লামা হায়ছামী (রহঃ) বলেনঃ এর সানাদ হাসান (মাজমাউয যাওয়ায়েদ- ১০/৩১৪০০)।
৫
সিলসিলা সহিহাআনাস ইবনু মালিক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমরা জান (চোগলখুরী) কী? তারা (সাহাবীগণ) বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলই (তা) সঠিকভাবে অবগত রয়েছেন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ (তা হলো) বিশৃংখলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অন্যের নিকট লাগানো। (আস্-সহীহাহ-৮৪৫)
হাদীসটি হাসান।
হাদীসটি হাসান।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
আল-আদাবুল মুফরাদ হা. ৪২৫ (ইফা. ঢাকা হা. ৪২৭; সহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা ৩২৭), ত্বহাবী তাঁর “শরহু মুশকিলিল আছার” -এ ৩/১৩৯; সুনানে বায়হাক্বী- ১০/২৪৬-৪৭।
আলবানী (রহঃ) বলেনঃ “হাদীসটির সানাদ হাসান এবং এর সমস্ত বর্ণনাকারী ছিক্বাহ।” তাছাড়া হাদীসটির আরো সাক্ষ্য থাকার কথা তিনি (রহঃ) উল্লেখ করেছেন।
আলবানী (রহঃ) বলেনঃ “হাদীসটির সানাদ হাসান এবং এর সমস্ত বর্ণনাকারী ছিক্বাহ।” তাছাড়া হাদীসটির আরো সাক্ষ্য থাকার কথা তিনি (রহঃ) উল্লেখ করেছেন।
৬
সিলসিলা সহিহামুহাম্মাদ ইবনু জিহাদাহথেকে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু জিহাদাহ বনী আনবারের এর বন্ধুর নিকট থেকে বর্ণনা করেন। আর তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁর উপাধি ছিল, আবুল মুনতাফিক। তিনি বলেন, আমি মক্কায় গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে (সাহাবীগণ) বললেনঃ তিনি আরাফায় অবস্থান করছেন। আমি সেখানে গেলাম। অতঃপর তাঁর নিকট যেতে চাইলে সাহাবীগণ আমাকে বাধা প্রদান করলেন। (এটা দেখে) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও (আসতে দাও)। তখন আমি তাঁর নিকটে গেলাম। (আলোচনার পর) যখন তাঁর উট ও আমার উটের ঘাড় পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে লাগল। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে আল্লাহর আযাব থেকে দূরে রাখবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (উত্তরে) তিনি বললেনঃ (ক) আল্লাহর ইবাদাত করো (কোন কোন বর্ণনায় (আরবি)এর স্থানে (আরবি) ব্যবহার হয়েছে।) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। (খ) ফরজ সালাতসমূহ আদায কর। (গ) ফরজ যাকাত আদায কর। (ঘ) রামাযানের রোজা পালন কর। (ঙ) হাজ্জ ও উমরাহ পালন কর। (চ) মানুষের সাথে ঐরূপ আচরণ কর, যেমন আচরণ তাদের নিকট থেকে তুমি পেতে পছন্দ কর। একইভাবে তাদের সাথে এরূপ আচরণ পরিহার কর; যেরূপ আচরণ তাদের পক্ষ থেকে তুমি অপছন্দ করে থাক। (আস্-সহীহাহ- ৩৫০৮)
হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি সহীহ্।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
ইমাম তাবারানী তার -এর (৪/১৬) পৃষ্ঠা হা. ৩২২২। শাইখ আলবানী (রহঃ) এছাড়া আরো বর্ণনা করেছেন সহীহার হা (৩/১৩৭৭)। বিভিন্ন ভিত্তিতে হাদীসটিকে সহীহ্ গণ্য করা হয়েছে।
৭
সিলসিলা সহিহাআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করা হলো, সর্বোত্তম মানব কে? তিনি বললেনঃ যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু (সেই সর্বোত্তম মানব)। সাহাবীগণ বললেন, আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি (রাসুলুল্লাহ) বললেন, সর্বোত্তম মানব ইউসুফ আলাইহিস সালাম যিনি আল্লাহর নাবী, আবার নাবীর পুত্র অনুরুপভাবে তাঁর পিতাও নাবীর পুত্র। তাঁর দাদা আবার খালিলুল্লাহ [ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম] -এর পুত্র। সাহাবীগণ আরজ করলেন, আমরা এ ব্যাপারেও প্রশ্ন করিনি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তবে আরবের সম্ভ্রান্তদের (মর্যাদার উৎস বা আকর) সম্পর্কে জানতে চাও? মানুষ সম্ভ্রান্ত (মর্যাদার আকর) জাহেলী যুগের সম্ভ্রান্তগণ ইসলামী যুগেও সম্ভ্রান্ত যদি তারা বিদ্যায় অগ্রগামী হয় (অর্থাৎ, ঈলম ও ‘আমালে প্রাবল্যতা লাভ করে)। (আস্-সহীহাহ/৩৯৯৬)
হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি সহীহ্।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীসটি আবূ হুয়ায়রা (রাঃ) মারফূ’ সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটির শায়খাইনের শর্তে সহীহ্। হাদীসটি ইমাম দারেমী তার -এর হা. ২২৩, সহীহ্ বুখারী হা. ৩৩৫৩, ৩৪৯০ এবং সহীহ মুসলিম- ৭/১০৩;
১২
সিলসিলা সহিহাআব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে প্রশ্ন করা হলো, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী (-ই সর্বোত্তম ব্যক্তি)। (আস্-সহীহাহ-১৮৩৭)
হাদীসটি যঈফ।
হাদীসটি যঈফ।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
তাবারানী হাদীস নং ১৩৩২৬। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি যঈফ। কেননা, ফারওয়াতা বিন ক্বায়িস ও নাফি’ বিন আব্দুল্লাহ মাজহুল (অজ্ঞাত)। কিন্তু হাদীসটির সাক্ষ্য রয়েছে ইবনু ‘আমর এর মারফূ হাদীসে ইমাম বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদে’ হা. ২৭১ [ইফা. ঢাকা হা. ২৭২; সহীহ্ আল-আদাবুল মুফরাদ হা. ২০৫] এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহাতে হা. ৬১৭৭ উল্লেখ করেছেন। (আস্-সহীহাহ- ১/২৮৬)
১৩
সিলসিলা সহিহাউসামা ইবনু শারীক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমরা নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এমনভাবে বসে ছিলাম মনে হয় আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। আমাদের কেউই কোন কথা বলছিল না। হঠাৎ কিছু মানুষ এলো এবং বলল, আল্লাহর নিকট কোন্ বান্দা সবচেয়ে প্রিয়? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যে সবচেয়ে বেশি চরিত্রবান (সে-ই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় বান্দা)। (আস্-সহীহাহ- ৪৩২)
হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি সহীহ্।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
হাদীসটি উসামা ইবনু শারীক- এর সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটি ইমাম সুয়ূতী তাঁর ‘আল-জামেউস সগীর’ -এর হা. ১৭৯ এ ইমাম তাবারানীর সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম আলমুনাইয়্যু তাঁর ‘ফাইজুল ক্বাদীর’-এ রিওয়ায়াত করেছেন। আল্লামা সুয়ূতী তাঁর ‘আল-জামেউস সগীর’ -এ (হাদীস নং ১৭৯) তাবারানীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।