hadith book logo

গান-বাজনার ব্যাপারে ইসলামের বিধান

লেখকঃ আখতারুজ্জামান মুহাম্মাদ সুলাইমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

গান অন্তরে নিফাকী সৃষ্টি করে:

ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, গান অন্তরে মুনাফেকী সৃষ্টি করে, যেমন পানি ঘাস সৃষ্টি করে। যিকির অন্তরে ঈমান সৃষ্টি করে, যেমন পানি ফসল উৎপন্ন করে।

ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সব সময় গান-বাজনায় ব্যস্ত থাকে, তার অন্তরে মুনাফেকীও সৃষ্টি হবে, যদিও তার মধ্যে এর অনুভুতি আসবে না। যদি সে মুনাফেকীর হাকীকত বুঝতে পারত, তবে অবশ্যই অন্তরে তার প্রতিফলন দেখতে পেত। কারণ, কোনো বান্দার অন্তরে কোনো অবস্থাতেই গানের মহব্বত ও কুরআনের মহব্বত একত্রে সন্নিবেশিত হতে পারে না। তাদের একটি অন্যটিকে অবশ্যই দুর করে দিবে। কারণ, আমরা দেখতে পাই যে, গান ও কাওয়ালী শ্রবণকারীদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা খুবই শক্ত ঠেকে আর ক্বারীগণ যে আয়াতই তিলাওয়াত করুক না কেন, তা দ্বারা ঐসব লোক মোটেই উপকৃত হয় না। ফলে শরীরে কোনো নাড়াচড়া ও অন্তরে কোনো উদ্দীপনা আসে না। আর যখনই তারা গান শ্রবণ করে, তখনই তাদের কন্ঠস্বরে ভয়ের এক প্রভাব সৃষ্টি হয়, অন্তরে এক ভাবের সৃষ্টি হয়, সেটার জন্য রাত্রি জাগরণ করা তাদের নিকট মধুর হয়। ফলে দেখতে পাই তারা গান বাদ্য শ্রবণ করাকে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ অপেক্ষা বেশি প্রধান্য দেয়। বেশিরভাগ লোকই যারা গান ও বাদ্যের ফিৎনায় লিপ্ত আছে, তারা সালাত আদায়ে খুব অলসতা দেখায়। বিশেষ করে জামা‘আতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে।

ইবন আকীল রহ. যিনি হাম্বলী মাযহাবের একজন বড় আলেম, তিনি বলেন, যদি কোনো গায়িকা (নিজের স্ত্রী ব্যতিত) গান গায় তবে তা শ্রবণ করা হারাম। এ ব্যপারে হাম্বলী মাযহাবে কোনো মতবিরোধ নেই।

ইবন হাযম রহ. বলেন, মুসলিমদের জন্য কোনো বেগানা মহিলার গান শ্রবণ করে আনন্দ লাভ করা হারাম।