hadith book logo

আল কোরআন ও আধুনিক যুগের চাহিদা

লেখকঃ জহির উদ্দিন বাবর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

অজ্ঞতার একটি আলামত

অজ্ঞতা ও জাহালতের এটাও একটা আলামত যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশ যখন পেশ করা হয় তখন এর বিপরীতে পুরনো রীতিনীতি উপস্থাপন করা হয়। জাহেলিয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য শুধু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে আরবের জীবনবিধানই নয় বরং প্রতিটি অনৈসলামিক নেজাম ও জীবনই এক একটি জাহেলিয়াত। যার উৎসস্থল নবুওয়ত, কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নতে রাসূলুল্লাহর ভিন্ন অন্য কিছু, তাই জাহালতের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী রীতি-নীতি ও জীবনধারার পরিপন্থী যা কিছু, জাহেলী আরব কিংবা ইরানী প্রথা, ভারতীয় ব্রাক্ষ্মণ্যবাদ কিংবা মিসরীয় ফেরআউনী কাল, পুঁজিবাদী শোষণ কিংবা সাম্যবাদী আগ্রাসন কোনোটিই জাহালতের বাইরে নয়। এক কথায় মুসলমান জাতির শরীয়ত পরিপন্থী জীবন, প্রথা, চরিত্র, আবেগ ও স্পৃহা তা প্রাচীন আধুনিক কিংবা অত্যাধুনিক যাই হোক, সবই জাহেলিয়াতের মাঝে গণ্য হবে। কারণ তা কোরআনী চাহিদার এবং কোরআনী রূহের পরিপন্থী। এটাই কুফরীর হালত। কুফর শুধু আল্লাহর দ্বীনকে অস্বীকার করার নাম নয়। বরং এটাও একটা ধর্মীয় ও চারিত্রিক বিধান, স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দ্বীন, যাতে নিজস্ব ফরজ, ওয়াজিব, মাকরূহ ও হারাম সব রয়েছে। এজন্য কুফর ও ইসলাম দুটি দ্বীন এক স্থানে জমা হতে পারে না। একজন মানুষ একই সাথে উভয়টির অনুগত হতে পারে না। এজন্যই হয়ত কোরআনুল কারীম বর্তমান যুগের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে ইরশাদ করেছে,

(আরবি)

‘হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর। এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন’ ( সূরা বাকারা : ২০৮)

এখানে ওই ঈমানদারদের সম্বোধন করা হয়েছে যারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী নেজাম ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য ধর্মের রীতি-নীতি ও কুসংস্কারের প্রচারক। আল্লাহর নেজামকে পেছনে ফেলে অন্য কোনো মতবাদ ও দর্শনে সফলতা অন্বেষণ করে। এটা নিছক শঠতা ও মূর্খতা। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।