মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।
আসসালামু আলাইকুম,
এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত চালু রাখতে প্রতি মাসেই সার্ভার ও টেকনিক্যাল খরচ বহন করতে হয়। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে এই খরচ বহন করার মতো পর্যাপ্ত ফান্ড আমাদের নেই।
🌿 আপনার একটি দান হতে পারে অসংখ্য মানুষের হিদায়াতের মাধ্যম
Hadith.one–এ প্রতিটি হাদিস পড়া, শেখা ও শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি হতে পারেন সদকাহ জারিয়াহর অংশীদার।
🤲 আল্লাহর রাস্তায় আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে এই দাওয়াহ প্ল্যাটফর্মটি চালু রাখতে সাহায্য করুন।
🔗 আজই দান করুন এবং এই খিদমতের সাথে যুক্ত থাকুন
জাযাকাল্লাহু খাইরান,
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
১. ক্রোধানদ্ধ অবস্থার তালাক : ক্রোধান্ধ অবস্থায় মানুষ স্বাভাবিক চরিত্র হারিয়ে ফেলে। সেকারণে দাম্পত্য জীবনের সিদ্ধান্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ক্রুদ্ধ অবস্থায় দিলে ইসলামী শরী‘আত ঐ তালাককে অগ্রাহ্য করেছে। ক্রোধান্ধ বলতে ঐ ক্রোধকে বুঝতে হবে, যে ক্রোধে স্বামী তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে’।[1]
২. পাগল, মাতাল বা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থার তালাক : এই অবস্থায় দেওয়া কোন তালাক গ্রাহ্য হবে না। এইরূপ এক ব্যক্তিকে খলীফা ওমর বিন আব্দুল আযীয নেশা করার শাস্তি স্বরূপ (আশি) বেত মেরেছিলেন। অতঃপর তার স্ত্রীকে তার কাছে ফেরৎ দিয়েছিলেন।[2] হানাফী মাযহাব মতে এই অবস্থায় তালাক পতিত হবে (কুদূরী পৃঃ ১৭৩)।
৩. যবরদস্তি তালাক : স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করে বা ভয়-ভীতি বা প্রতারণা করে তার নিকট থেকে তালাক আদায় করা নিষিদ্ধ। বরং ঐসব স্ত্রীর জন্য ‘খোলা’ তালাকের ব্যবস্থা প্রদান করা হয়েছে।
ছাহাবায়ে কেরাম যবরদস্তি তালাককে তালাক হিসাবে গণ্য করতেন না (যাদুল মা‘আদ ৫/১৮৯)। জমহূর বিদ্বানগণের নিকটে যবরদস্তি তালাক পতিত হবে না। তবে হানাফী মাযহাব মতে তালাক পতিত হবে। কেননা হাদীছে এসেছে, বিবাহ, তালাক ও রাজ‘আত এই তিনটি বিষয়ে হাসি-ঠাট্টা গ্রহণযোগ্য নয়’। অর্থাৎ তা পতিত হবে।[3]
জবাব: হাসি-ঠাট্টা আর যবরদস্তি এক বস্ত্ত নয়। অতএব যবরদস্তি তালাক পতিত না হওয়াই হাদীছ সম্মত।
৪. ঋতুকালে বা নেফাস অবস্থায় তালাক, সহবাসকৃত পবিত্র অবস্থায় তালাক, সহবাসহীন একই তোহরে একত্রিত বা পৃথক পৃথকভাবে তিন তালাক প্রদান করা। ক্রুদ্ধ, পাগল, বেহুঁশ, যবরদস্তি, অজ্ঞান, নাবালক বা নিন্দ্রাবস্থায় উচ্চারিত বা প্রদত্ত তালাককে তালাক গণ্য না করার দলীল সমূহ নিম্নরূপ :
(১) আল্লাহ বলেন, ... কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যাকে যবরদস্তি করা হয়েছে। অথচ তার অন্তর ঈমানের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত রয়েছে’ (নাহ্ল ১৬/১০৬)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তিনটি ব্যাপারে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে (ক) ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগরিত হয় (খ) নাবালক শিশু যতক্ষণ না বালেগ হয় (গ) জ্ঞানহারা ব্যক্তি যতক্ষণ না সুস্থ জ্ঞান ফিরে পায়’।[4] তিনি আরও বলেন, তালাক নেই ও দাসমুক্তি নেই ‘ইগলাক্ব’ অবস্থায়।[5] আবু দাঊদ বলেন, ‘ইগলাক্ব’ গালাক্ব ধাতু হ’তে উৎপন্ন। যার অর্থ বন্ধ হওয়া। ক্রোধান্ধ, পাগল ও যবরদস্তির অবস্থায় মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তি লোপ পায়। তাই এ অবস্থাকে ‘ইগলাক্ব’ বলা হয় (ঐ, হাশিয়া)।
উপরে বর্ণিত অবস্থার তালাক সমূহকে কুরআন ও সুন্নাহর কোথাও শারঈ তালাক বলে গণ্য করা হয়নি। তথাপি একে পরবর্তীতে ‘তালাক্বে বেদ‘ঈ’ বা বিদ‘আতী তালাক নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং একত্রিতভাবে তিন তালাক দিলে ঐ ব্যক্তি গোনাহগার হবে ( وكان عاصيًا )। কিন্তু তা সত্ত্বেও তালাক হয়ে যাবে বলা হয়েছে।[6]
মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।