কপিরাইট অফিসের কার্যাবলী সংবিধিবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে। এটি এক বিশেষ ধরনের আইন যার অধীনে কপিরাইটযুক্ত কোন ধী - সম্পদ (Intellectual Property Rights) এর মেয়াদ কত বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে তা কপিরাইট আইন ২০০০ (২০০০ সনে ২৮ নং আইন) অধ্যায়-৫, ধারা-২৪ থেকে ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ধারাসমূহে উল্লেখ রয়েছে। প্রনেতা/রচয়িতা
মৃত্যুর পর ৬০ বছর, ৫০ বছর ও ২৫ বছর বলবৎ থাকে।
কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ১০ ধারায় রেজিস্ট্রারের কার্যাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১১ ও ১২ ধারায় কপিরাইট বোর্ডের গঠন, বোর্ডের ক্ষমতা ও কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কপিরাইট বোর্ড এবং কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ৯৯ ধারা মতে কতিপয় ক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালতে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। কপিরাইট আইনের ৫৬/৫৭ ধারামতে কপিরাইট সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস’কে প্রদান করা হয়েছে। উক্ত আইনের ৯৫ ধারায় কপিরাইট বোর্ডের নিকট আপীল করার বিধান রয়েছে।
রচয়িতা/প্রনেতা/ কপিরাইটের মালিকের অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত কর্মের চুরি উলেলখিত কর্ম কেউ নকল বা অধিকার লংঘন করলে (মুদ্রণ, পূর্ণ মুদ্রণ অনুবাদ, প্রকাশ, পুনঃ প্রকাশ পুনরুৎপাদন, অভিযোজন, প্রচার, সম্প্রচার, প্রদর্শন, রেকর্ডিং ও ভাড়া ইত্যাদি) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪ বছর কারাদন্ড এবং জরিমানা হিসেবে ৩ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড হতে পারে (ধারা-৮২-৮৩)।
আইনগত প্রতিকারের ব্যবস্থা :
প্রতিকার হিসেবে দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয় ক্ষেত্রেই মামলা রুজু করা যায় : (ক) দেওয়ানী মামলা নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরনের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা রুজু করতে হবে। (খ) ফৌজদারী মামলা দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা যাবে।
উচ্চ আদালতে আপীল :
হাইকোর্টে আপীল করা যাবে। কোন কোন ক্ষেত্রে কপিরাইট বোর্ডে আপীল করার বিধান আছে। তবে এ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারের রায়ের বিরুদ্ধে করতে হবে (ধারা-৯৪-৯৬)।
পুলিশের ক্ষমতা :
ইচ্ছাকৃত লংঘনের ক্ষেত্রে কোন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই লংঘিত সকল কপি জব্দ করতে পারবেন (ধারা-৯৩)।
অবৈধ কপি আমদানীর ক্ষেত্রে :
কপিরাইট মালিকের বা তার প্রতিনিধির দরখাস্তের ভিত্তিতে কপিরাইট রেজিস্ট্রার তদন্ত পরিচালনা করতে পারেন এবং কাষ্টমস আইন অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নিতে পারেন (ধারা-৭৪)।
কপিরাইট হস্তান্তর যোগ্য :
কপিরাইটের মালিক ইচ্ছা করলে অন্যকে সম্পূর্ণ বা আংশিক কপিরাইট হস্তান্তর করতে পারেন। তবে তা লিখিত ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলীসহ বৈধ চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে (ধারা-১৮)।
কপিরাইট যৌথ ব্যবস্থাপনা :
বেসরকারীভাবে কপিরাইট সমিতি (সোসাইটি) গড়ে তোলার জন্য আইনে বিভিন্ন ধারা আছে। এই ব্যবস্থাপনা স্থাপিত হলে সৃজনশীল কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে এবং কপিরাইটের মালিকগণ তাদের স্ব-স্ব অধিকার রক্ষা করে নিজেরাই কপিরাইট আইনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন (ধারা-৪১-৪৭)।
বিদেশী কর্মের লাইসেন্স :
বিদেশী বই পুস্তক ও শিল্পকর্মের পুনরুৎপাদন বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বই পুস্তকের বাংলায় অনুবাদ ও পুনরুৎপাদনের লাইসেন্স প্রাপ্তির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ধারা উপধারা আইনে সন্বিবেশিত করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রচয়িতা/কপিরাইট মালিককে র্যয়েলিটি পরিশোধ ও বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে (ধারা-৫২)।
কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন :
বাংলাদেশ কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনযোগ্য তবে এটা বাধ্যতামুলক নয়। ইচ্ছা করলে কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কপিরাইট মালিকের নাম, কর্মটি প্রকাশনার বছর কিভাবে কপিরাইট অর্জন করলেন ইত্যাদি বিষয়ে নির্ধারিত আবেদনপত্রের ফর্মে ঘোষণা দিতে হবে। কপিরাইট অফিস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত রেজিস্ট্রেশনের পর যে সার্টিফিকেট ইস্যু করে তা আইন আদালতে একটি প্রমাণযোগ্য দলিল হিসেবে গৃহীত হয়ে থাকে (ধারা-৫৬)।
বই পুস্তকের জমা :
বই পুস্তকের একটি করে কপি জাতীয় লাইব্রেরীতে এবং ছয়টি বিভাগীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে জমা দিতে হবে (ধারা-৬২)।
বিদেশী কর্মের কপিরাইট :
কপিরাইট বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিদেশী কর্মের কপিরাইট প্রটেকশন দিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (ধারা-৬৮)।