hadith book logo

প্রতিবন্ধী ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

প্রতিবন্ধীরা ইসলামের ছায়াতলে অনন্য সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী:

ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধীরা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা ভোগ করে থাকেন যা অন্য কোন সমাজে পাওয়া সম্ভব নয়। যেমন,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুমকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধ ও বিদায় হজ্জের সময় তাকে মদীনায় চৌদ্দবার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এ সম্মানিত সাহাবী কাদেসিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সে যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি অন্ধ হওয়া সত্বেও সেদিন তাঁর হাতে মুসলিমগণের ঝাণ্ডা ছিল। তাঁর প্রতিবন্ধী হওয়া তাকে সম্মান ও গুরুত্ব দিতে ইসলাম সংকোচ ও বাঁধা দেয় নি।

আরেক সাহাবী মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামেনের গভর্ণর করে পাঠান। বরং তিনি ইয়ামেনবাসির কাছে লিখে পাঠান যে, “আমি আমার পরিবারের উত্তম একজনকে তোমাদের কাছে পাঠালাম”। অথচ মু‘আয রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন পঙ্গু ছিলেন। তাঁর পঙ্গুত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা লাভে বাঁধা দেয়নি।

আরেক সম্মানিত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি উম্মতের মহাপণ্ডিত, আল কুরআনের ভাষ্যকার ছিলেন, তাঁর যুগে তিনি ইলমের ভাণ্ডার জমা করেছিলেন ফলে শরয়ী ইলমের ব্যাপারে তিনি উম্মতের জন্য রেফারেন্স হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। তার চক্ষু শক্তি না থাকা সত্বেও সব চক্ষুবান তাঁর কাছে ফতওয়া জিজ্ঞেস করতেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বলেন,

যদিও আল্লাহ আমার চোখের আলো নিয়ে গেছেন, তবে আমার জবান ও শ্রবণ শক্তিতে রয়েছে আলো।

আমার অন্তর পবিত্র ও প্রখর, আর আমার বুদ্ধিমত্তা হলো সরল সঠিক, আমার মুখে আছে সত্য বলতে ধারালো তলোয়ারের ন্যায় শক্তি।

বাশশার ইবন বুরদ, যিনি তাঁর যুগের অন্ধ কবিদের অন্যতম ছিলেন। তাঁর অনেক কবিতাই বর্তমান যুগেও বহুল প্রচলিত ও প্রসারিত হয়ে আছে। অনেক চক্ষুবান কবি তার সমকক্ষ এতো সুন্দর কবিতা রচনা করতে পার নি।

‘আতা রহ. একজন কৃষ্ণাঙ্গ, অন্ধ, খাঁদা নাক বিশিষ্ট, হাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও ল্যাংড়া লোক ছিলেন। বলতে গেলে একজন অর্থহীন লোক, কেউই তার থেকে কিছু আশা করতে পারে না, কিন্তু আমাদের চিরন্তন ও উদার শরী‘আত তাকে একজন পূর্ণাংগ মানুষ, বিজ্ঞ আলেম ও ইমাম বানিয়েছে। তিনি মানুষের ফতওয়ার রেফারেন্স ও উৎসস্থল ছিলেন। তার মাদরাসা থেকে হাজার হাজার আলেম বের হয়েছেন। তিনি তাদের কাছে গর্ব-অহংকার, ভালবাসা, সম্মান ও মর্যাদার পাত্র ছিলেন।