hadith book logo

মসজিদে নববী শরীফের যিয়ারত ও যিয়ারতকারীর জন্য কতিপয় সতর্কতা ও নির্দেশনা

লেখকঃ ড. আব্দুল্লাহ ইবন নাজী আল-মাখলাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

যেসব স্থান যিয়ারত করা জায়েয

মদীনা মুনাওওয়ারাহ ও মসজিদে নববী শরীফের বাইরে

1- আল-বাকী: বাকী হলো মদীনাবাসীদের কবরস্থান যেখানে অনেক সাহাবী, তাবে‘ঈ ও সৎপূর্বসূরীগণকে-আল্লাহুর সন্তুষ্টি ও রহমত তাদের সবার ওপর-দাফন করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকীবাসীদের যিয়ারত করতেন, তাদেরকে সালাম দিতেন এবং তাদের জন্য দু‘আ করতেন।

আপনি যখন বাকীতে যাবেন, তখন বাকীবাসীদেরকে সালাম দিন এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বলতেন আপনিও সেভাবে বলুন: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْـمُؤْمِنِينَ وَالْـمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ لَلَاحِقُونَ، أَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ» হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! আপনাদের ওপর সালাম। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমাদের ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।আর বাকীবাসীদের জন্য দু‘আ ও ইস্তেগফার করুন। এটিই হচ্ছে শরী‘আতসম্মত যিয়ারত।হে মুসলিম ভাই! কোনো কবরকে পা দিয়ে পারানো বা তার উপর বসা থেকে সতর্ক থাকুন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে নিষেধ করেছেন, তাঁর বাণী:“তোমরা কবরের দিকে ফিরে সালাত আদায় করো না এবং তার ওপর বসো না।”ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আরও সতর্ক থাকুন কবর স্পর্শ করা অথবা চুম্বন করা অথবা কবরের মাটি নেওয়া অথবা কবরবাসীদেরকে আহ্বান করা থেকে। কেননা তারা আপনার কোনো উপকার বা ক্ষতির ক্ষমতা রাখে না।

2- উহুদ যুদ্ধের শহীদগণ : এ যুদ্ধটি মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এতে সত্তরজন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম শহীদ হয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের যিয়ারত করতেন, তাদেরকে সালাম দিতেন এবং তাদের জন্য দু‘আ করতেন। জেনে রাখুন, এসব শহীদ দীনের হেফাযত করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, সুতরাং আমাদের উপর তাদের হক হলো আমরা তাদের জন্য দু‘আ করব ও তাদের সকলের জন্যে রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলব। অতএব আপনি যখন তাদের যিয়ারত করতে যাবেন, তাদেরকে সালাম দিন যেভাবে বাকী ও অন্যান্য মৃতদের সালাম দেন।

3- মসজিদে কুবা: মসজিদে কুবার যিয়ারত ও তাতে সালাত আদায় করা শরী‘আতসম্মত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সপ্তাহে সাওয়ারীতে আরোহণ করে অথবা পায়ে হেঁটে সেখানে যেতেন ও তাতে সালাত আদায় করতেন। আর যে ব্যক্তি সেখানে যাবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে তার জন্য রয়েছে উমরার ন্যায় সাওয়াব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,“যে নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করলো, অতঃপর কুবা মসজিদে এসে কোনো সালাত পড়লো, তার জন্য রয়েছে উমরার ন্যায় সাওয়াব।”ইমাম ইবন মাজাহ রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অতএব, হে মুসলিম ভাই! এ মহান কল্যাণ যেন আপনার ছুটে না যায়।