hadith book logo

মহিলাদের স্রাব ও প্রসূতি অবস্থার বিধিবিধান সংক্রান্ত ৬০টি প্রশ্ন

লেখকঃ আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইব্‌ন সালেহ্‌ আল-উসাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

প্রশ্ন ১২: ঋতুবতী অথবা প্রসূতি নারী আছরের সময় পবিত্র হলে তাকে কি আছরের সাথে যোহরের নামাযও আদায় করতে হবে নাকি শুধু আছর পড়লেই চলবে?

উত্তরঃ এই মাস্আলায় অগ্রাধিকারযোগ্য কথা হলো, তাকে কেবল আছরের ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা তার উপর যোহরের নামায ওয়াজিব হওয়ার দলীল নেই। আর মানুষের আসল হলো, সে দায়মুক্ত। তদুপরি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আছরের এক রাকআত পেল, সে পুরো আছরের নামায পেল।” [1. বুখারী, 'নামাযের সময় সমূহ' অধ্যায়, 'যে ব্যক্তি ফজরের এক রাক‌'আত পেল' অনুচ্ছেদ হা/৫৭৯; মুসলিম, 'মসজিদ এবং নামাযের স্থান সমূহ' অধ্যায়, 'যে ব্যক্তি কোন নামাযের এক রাক'আত পেল, সে ঐ নামাযের পুরোটাই পেল' অনুচ্ছেদ হা/১৬৩, ৬০৮।] এখানে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেননি যে, সে যোহরের নামাযও পেল। আর যোহরের নামায যদি তার উপর ওয়াজিবই হত, তাহলে নিশ্চয় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বলে দিতেন।

অনুরূপভাবে কোন মহিলা যদি যোহরের নামাযের সময় শুরু হওয়ার পরে ঋতুবতী হয়, তাহলে [ঋতুমুক্ত হওয়ার পর] তাকে কেবল যোহরের নামাযের ক্বাযা আদায় করতে হবে, আছরের নয়। অথচ যোহরের নামায আছরের নামাযের সাথে জমা করে পড়া হয় [সফরের ক্ষেত্রে]। এই অবস্থা এবং প্রশ্নকৃত অবস্থার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অতএব, অগ্রাধিকারযোগ্য কথা হলো, দলীল এবং ক্বিয়াসের উপর ভিত্তি করে বলা যায়, তাকে কেবল আছরের নামায আদায় করতে হবে। অনুরূপভাবে যদি কেউ এশার সময় শেষ হওয়ার পূর্বে পবিত্র হয়, তাহলে তাকে কেবল এশার নামায আদায় করতে হবে, মাগরিবের নামায নয়।