hadith book logo

মহিলাদের স্রাব ও প্রসূতি অবস্থার বিধিবিধান সংক্রান্ত ৬০টি প্রশ্ন

লেখকঃ আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইব্‌ন সালেহ্‌ আল-উসাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

হজ্জ ও ওমরার ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের বিধিবিধান প্রশ্ন ৪৭: ঋতুবতী মহিলা ইহ্‌রামের দুই রাকআত নামায কিভাবে আদায় করবে? ঋতুবতীর জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ মনে মনে পাঠ করা কি জায়েয?

উত্তরঃ প্রথমতঃ আমাদের একটা জিনিস জানা উচিৎ যে, ইহ্‌রামের কোন নামায নেই। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহ্‌রামের উদ্দেশ্যে তাঁর উম্মতের জন্য আদেশের মাধ্যমে হোক বা নিজে আদায়ের মাধ্যমে হোক অথবা সম্মতির মাধ্যমে হোক কোন নামাযের বিধান করে গেছেন মর্মে কিছুই বর্ণিত হয়নি।

দ্বিতীয়তঃ ইহরামের আগে ঋতুগ্রস্ত হওয়া এই ঋতুবতী ঋতুগ্রস্ত থাকা অবস্থায় ইহরাম বাঁধতে পারবে। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন যুল হুলায়ফাতে [মদীনাবাসীদের মীক্বাত] প্রসূতি হয়েছিলেন, তখন তাকে গোসল করতঃ একটা কাপড় বেঁধে ইহরাম বাঁধার আদেশ করেছিলেন। [1. মুসলিম, 'হজ্জ' অধ্যায়, 'নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)-এর হজ্জ' অনুচ্ছেদ, হা/২১৩৭।] আর ঋতুবতীও এরূপ করবে এবং পবিত্র হওয়া পর্যন্ত ইহ্‌রাম অবস্থায় থাকবে। অতঃপর [পবিত্র হলে] কাবা ঘর তওয়াফ ও ছাফা-মারওয়ায় সাঈ করবে।

প্রশ্নে কুরআন পাঠের বিষয়ে বলা হয়েছে, সে কি কুরআন পড়তে পারবে? হ্যাঁ, জরূরী প্রয়োজনে [যেমন অন্যকে শিক্ষা দেওয়া বা পরীক্ষার জন্য নিজে পড়া ইত্যাদি] ঋতুবতী কুরআন পড়তে পারবে। তবে বিনা প্রয়োজনে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার জন্য কুরআন না পড়াই ভাল হবে।