hadith book logo

মহিলাদের স্রাব ও প্রসূতি অবস্থার বিধিবিধান সংক্রান্ত ৬০টি প্রশ্ন

লেখকঃ আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইব্‌ন সালেহ্‌ আল-উসাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

প্রশ্ন ২৪: প্রশ্নকারী বলছেন, একজন মহিলা প্রসূতি অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার দুই মাস পরে রক্তের ছোট ছোট কিছু বিন্দু দেখতে পেয়েছে। এক্ষণে সে কি নামায-রোযা পরিত্যাগ করবে না কি করবে?

উত্তরঃ ঋতুস্রাব ও প্রসূতি অবস্থার ক্ষেত্রে মহিলাদের সমস্যাগুলো কিনারা বিহীন সাগরের মত। আর এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, জন্মবিরতিকরণ এবং ঋতুস্রাব প্রতিরোধক পিল ব্যবহার। আগে মানুষ এ জাতীয় সমস্যা সম্পর্কে তেমন অবগত ছিল না। তবে একথা ঠিক যে, মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাসূল হিসাবে আবির্ভাবের পর থেকে শুধু নয়; বরং মহিলাদের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই তাদের সমস্যা ছিল। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, তাদের সমস্যাগুলো ইদানিং এত পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সেগুলোর সমাধান করতে গিয়ে মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ছে। অবশ্য এসব ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, মহিলা যখন ঋতুস্রাব ও প্রসূতি অবস্থা থেকে নিশ্চিতভাবে পবিত্র হযে যাবে অর্থাৎ ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে সাদা জাতীয় পদার্থ ( القصة البيضاء ) দেখতে পাবে- যা মহিলারা চিনে এবং এরপর ঘোলা বা হলুদ রঙের যা বের হবে অথবা ২/১ ফোটা যে রক্ত আসবে অথবা সামান্য যে সিক্ততা অনুভূত হবে, সেগুলো আসলে ঋতুস্রাব নয়। সে কারণে এগুলো তাকে নামায-রোযা থেকে বিরত রাখবে না এবং স্বামীকে স্ত্রী সহবাস থেকেও বাধা দিবে না। উম্মে আত্বিয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, “ঘোলা বা হলুদ রঙের যা বের হয়, তাকে আমরা কিছুই গণ্য করতাম না।”(বুখারী) [1. 'ঋতুস্রাব' অধ্যায়, 'ঋতুস্রাবের নির্দিষ্ট দিনের বাইরে হলুদ বর্ণের এবং ঘোলা পদার্থ [বের হওয়া]' অনুচ্ছেদ হা/৩২৬।1. 'পবিত্রতা' অধ্যায়, 'পবিত্র হওয়ার পরে যে মহিলা হলুদ ও ঘোলা বর্ণের পদার্থ দেখতে পায়' অনুচ্ছেদ হা/৩০৭।2. ইমাম বুখারী হাদীছটাকে 'মুআল্লাক্ব' হিসাবে বর্ণনা করেছেন, 'ঋতুস্রাব' অধ্যায়, 'ঋতুস্রাব আসা এবং চলে যাওয়া' অনুচ্ছেদ।]। ইমাম আবু দাঊদ কিছু শব্দ বেশী উল্লেখ করে হাদীছটা বর্ণনা করেছেন, “পবিত্র হওয়ার পরে”[অর্থাৎ পবিত্র হওয়ার পরে ঘোলা বা হলুদ রঙের যা বের হয়, তাকে আমরা কিছুই গণ্য করতাম না।]। তাঁর সনদও ছহীহ। [] সেজন্য আমরা বলি, নিশ্চিত পবিত্রতা অর্জনের পরে উল্লেখিত যা কিছু ঘটবে, তাতে মহিলার কোন সমস্যা হবে না এবং তাকে তা নামায-রোযা ও সহবাস থেকেও বিরত রাখবে না। কিন্তু পবিত্রতা অর্জনের পূর্বে বিষয়গুলো নিয়ে তাড়াহুড় না করা আবশ্যক। কেননা কতিপয় মহিলা রক্ত শুকিয়ে গেলে নিশ্চিত পবিত্রতা অর্জনের আগেই তাড়াহুড়া করে গোসল করে নেয়। এই কারণে মহিলা ছাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট রক্তযুক্ত তুলা পাঠাতেন আর তখন তিনি বলতেন, “সাদা জাতীয় পদার্থ না দেখা পর্যন্ত তোমরা তাড়াহুড়া করে কিছু করবে না।” []