hadith book logo

একজন সফল শিক্ষকের গুণাবলি

লেখকঃ মুহাম্মাদ শামসুল হক সিদ্দিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

যথার্থরূপে পাঠদান কীভাবে সম্ভব তার কিছু কৌশল এক. পাঠপ্রস্তুতি:

পাঠপ্রস্তুতি বলতে আমরা সাধারণত ‘অধ্যয়ন’ প্রক্রিয়াকে বুঝি। অর্থাৎ একজন শিক্ষক যে বিষয়টি পড়াতে যাচ্ছেন তা ক্লাসে ঢোকার পূর্বে অধ্যয়ন করে ভালো করে বুঝে নেয়া, কঠিন টেক্সটগুলোর অর্থ উদ্ধার করে নেয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ব্যাখ্যায় কি কি পয়েন্ট উপস্থাপন করা যায় তা আয়ত্ত করে নেয়া। আমাদের আরবী মাদারাসার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া একটি ঐতিহ্য বলে পরিগণিত হলেও পাঠদানের আধুনিক পদ্ধতির বিবেচনায় তা পর্যাপ্ত নয়। ঐতিহ্যগত অধ্যয়ন পদ্ধতির সাথে আমাদের যোগ করতে হবে আরো কিছু অনুষঙ্গ যা ছাত্রদের মধ্যে ইলমী যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা দিতে পারে। সে হিসেবে পাঠপ্রস্তুতি পর্বে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে,

পাঠপরিকল্পনা: পাঠপরিকল্পনা লিপিবদ্ধ আকারে হতে হবে। সে হিসেবে শিক্ষকের জন্য নোটবুক মেইনটেইন করা জরুরি। প্রতিটি দরসের জন্য আলাদা আলাদা পাঠপরিকল্পনা রচনা করা বাঞ্ছনীয়। পাঠপরিকল্পনায় যেসব পয়েন্ট থাকতে হবে তা হল:

প্রতিটি দরসের পরিসর নির্ণয়: অর্থাৎ শিক্ষাবর্ষের প্লান অনুযায়ী আজকে কতটুকু সবক পড়াতে হবে তা সুনিদিষ্টভাবে নির্ণয় করে নেয়া। পরীক্ষা আসার পূর্বেই যাতে পরিকল্পিত পুরো সিলেবাস ভাল করে পড়িয়ে শেষ করা যায় তা নিশ্চিত করার জন্য এ বিষয়টি খুবই জরুরি। বছরের শুরুতে ছাত্রও বোঝে শিক্ষকও বোঝেন, মাঝখানে শিক্ষক বোঝেন ছাত্র বোঝে না, আর শেষে ছাত্র শিক্ষক কেউ বোঝে না, এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিষয়টি খুবই জরুরি।

প্রতিটি দরসের উদ্দেশ্য নির্ণয় : অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট অধ্যায় বা সবক পড়ানোর পর ছাত্ররা কি কি শিখতে সক্ষম হবে তা স্পষ্টাকারে নির্ণয় করে নিতে হবে। যেমন অযূ বিষয়ক দরসের উদ্দেশ্য হিসেবে লেখা যেতে পারে- দরসের পর ছাত্ররা অযূর গুরুত্ব, কুরআন-সুন্নায় অযূর দলীল, অযূর ফরজ-সুন্নাত-মুস্তাহাব ইত্যাদি বিষয় শিখতে সক্ষম হবে। উদ্দেশ্য নির্ণয় করে নিলে পাঠদানের পর প্রশ্ন করে ছাত্রদের অর্জন মেপে দেখা সম্ভব হয়। কারও কারও কাছে বিষয়টি তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বসহ দেখে।

পাঠদান পদ্ধতি নির্ণয় করে নেয়া: যেমন শিক্ষক ক্লাসে ঢুকে প্রথমে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে নেবেন আজকের দরসে ছাত্ররা কি কি শিখবে। এরপর হয়ত কোনো ছাত্রকে এবারত পড়তে বলবেন। এবারতের মূল বক্তব্য সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেবেন। কঠিন শব্দ বা বাক্যগুলো বিশ্লেষণ করে বোঝাবেন। এরপর হয়ত কোনো ছাত্রকে দরসের মূল পয়েন্টগুলো উল্লেখ করতে বলবেন। অথবা কোনো ছাত্রকে পুরো দরস সংক্ষিপ্ত আকারে বলতে বলবেন। আধুনিক শিক্ষাসরঞ্জাম ব্যবহৃত হলে- যেমন, কম্পিউটার, প্রজেক্টর ইত্যাদি দরসের কোন পর্যায়ে ব্যবহৃত হবে তা নির্ণয় করে নেয়া। পাঠদান শেষে সুনির্দিষ্ট কোনো পয়েন্টের উপর প্রশ্ন করে ছাত্রদেরকে লিখতে বলা হবে কি-না তা নির্ণয় করে নেয়া।