Hadith.one
Quran & Sunnah Platform
সাপোর্ট
হিজরি পূর্ণ বছরের বিশেষ দিনসমূহ

ইসলামিক বিশেষ দিন ও রাতের সহীহ ফজিলত

আশুরা, আরাফাহ দিবস, শবে কদর, শবে বরাত, দুই ঈদ ও আইয়ামে বীজ সহ হিজরি বছরের সকল বরকতময় দিন ও রাতের সহীহ হাদিস ভিত্তিক আমল ও সওয়াবের বিস্তারিত গাইড।

২৭শে রজবআর ১০০ দিন বাকি

লাইলাতুল মেরাজ (শবে মেরাজ)

নবীজি ﷺ-এর ঊর্ধ্বগমন, জান্নাত-জাহান্নাম দর্শন ও পাঁচ ওয়াক্ত সালাত উপহার

সম্ভাব্য তারিখ: ৫ জানুয়ারি, ২০২৭সালাতের উপহার
সূরা আল-ইসরা ১, সহীহ বুখারী: ৩৮৮৭, সহীহ মুসলিম: ১৬২

"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: "তখন আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়, অতঃপর তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে নামিয়ে আনা হয়, কিন্তু সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই রাখা হয়।""

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তা যথা সময়ে জামাতে আদায়ের প্রতিজ্ঞা
মিরাজের ঐতিহাসিক ঘটনা ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা ও অধ্যয়ন
নফল সালাত, দরূদ ও তওবা-ইসতিগফার করা
রজব মাসের মর্যাদা রক্ষা করে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবীব ﷺ-কে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে সপ্তাকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত অলৌকিক সফর করান এবং উম্মতকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উপহার দেন।
১৫ই শাবান দিবাগত রাতআর ১১৮ দিন বাকি

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (শবে বরাত)

আল্লাহর অবারিত রহমত ও সাধারণ ক্ষমার মহিমান্বিত রাত

সম্ভাব্য তারিখ: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৭সাধারণ ক্ষমার রজনী
সহীহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫, সিলসিলাতুস সহীহাহ: ১১৪৪

"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: "আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।""

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
অন্তর থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা দূর করে সবাইকে ক্ষমা করা
একাকী নফল নামাজ, ইসতিগফার ও তাহাজ্জুদ আদায় করা
পরের দিন (১৫ই শাবান) নফল রোজা রাখা (আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত)
বিদআত, আতশবাজি বা দলবদ্ধ বাড়াবাড়ি পরিহার করা
সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে মুশরিক এবং অন্তরে বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।
১লা রমজানআর ১৩৪ দিন বাকি

পবিত্র মাহে রমজান শুরু

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস এবং সিয়াম সাধনার সূচনা

সম্ভাব্য তারিখ: ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭সিয়ামের সূচনা
সহীহ বুখারী: ১৮৯৯, সহীহ মুসলিম: ১০৭৯

"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: "রমজান বরকতময় মাস তোমাদের নিকট সমাগত হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের জন্য এর রোজা ফরজ করেছেন।""

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
চাঁদ দেখার পর সুন্নাহ দোয়া পাঠ করা
নিয়ত সহকারে প্রথম তারাবীহ সালাত ও সাহরি খাওয়া
রমজানের সার্বিক ইবাদতের পরিকল্পনা সাজানো
রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।
রমজানের শেষ দশক (২৭শে রাত সম্ভাব্য)আর ১৬০ দিন বাকি

লাইলাতুল কদর (শবে কদর)

হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ পুণ্যময় রজনী, কুরআন অবতীর্ণের রাত

সম্ভাব্য তারিখ: ৬ মার্চ, ২০২৭১০০০ মাসের শ্রেষ্ঠ
সূরা আল-কদর ১-৫, সহীহ বুখারী: ২০১৫, সহীহ মুসলিম: ৭৬০

"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।""

বিশেষ দোয়া:

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী। (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।)

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ঘুম পরিহার করে রাত জেগে নফল সালাত ও কুরআন তিলাওয়াত
আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত কদরের বিশেষ দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা
মসজিদে শেষ ১০ দিনের সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইতিকাফ পালন করা
দান-সদকা ও কান্নাকাটি করে ক্ষমা প্রার্থনা করা
এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব এনে দেয়। পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়।
১লা শাওয়ালআর ১৬৩ দিন বাকি

পবিত্র ঈদুল ফিতর

মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে মুসলিম উম্মাহর মহান পুরস্কার ও আনন্দের দিন

সম্ভাব্য তারিখ: ৯ মার্চ, ২০২৭পুরস্কারের উৎসব
সহীহ বুখারী: ১৯৯০, সহীহ মুসলিম: ১১৩৮

"নবীজি (ﷺ) বলেন: "আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য জাহেলিয়াতের উৎসবের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন উপহার দিয়েছেন: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।""

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
ঈদের সালাতের আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা
ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি বা বেজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া
উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
যাওয়ার পথে তাকবীর পাঠ করা এবং ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
রমজানের দীর্ঘ এক মাস রোজার পর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য এই উৎসবের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ দিনে রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম।
৯ই জিলহজ্জআর ২৩০ দিন বাকি

ইয়াওমে আরাফাহ (আরাফাহ দিবস)

বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন, হাজিদের হজ পালন ও হাজি ব্যতীত অন্যদের দুই বছরের রোজা

সম্ভাব্য তারিখ: ১৫ মে, ২০২৭২ বছরের গুনাহ মাফ
সহীহ মুসলিম: ১১৬২, তিরমিজী: ৩৫৮৫

"নবীজি (ﷺ) বলেন: "আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তা পূর্বের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবে।""

বিশেষ দোয়া:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
হাজি ব্যতীত সবার জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
সর্বোত্তম দোয়া পাঠ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু...
তাকবীরে তাশরীক শুরু (৯ই জিলহজ্জ ফজর থেকে শুরু)
জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও মাগফিরাতের জন্য দীর্ঘ দোয়া করা
আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মোচন করে। আরাফার ময়দানে আল্লাহ অগণিত বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
১০-১৩ই জিলহজ্জআর ২৩১ দিন বাকি

পবিত্র ঈদুল আযহা ও কোরবানি

হযরত ইব্রাহিম (আ:) ও ইসমাইল (আ:)-এর ত্যাগের স্মৃতি এবং পশু কোরবানি

সম্ভাব্য তারিখ: ১৬ মে, ২০২৭কোরবানি ও তাকবীর
সহীহ বুখারী: ৫৫৫৮, তিরমিজী: ১৪৯৩

"নবীজি (ﷺ) বলেন: "কোরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর কোনো আমল মানুষের নেই।""

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
ঈদের সালাতের পর সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কুরবানি আদায় করা
কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয় ও গরিবদের মাঝে বণ্টন
আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের পর তাকবীরে তাশরিক পাঠ
ঈদের দিন সালাতের আগে কিছু না খেয়ে কুরবানির গোশত দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ
ঈদুল আযহার দিনে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহর নিকট কোরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা কবুল হয়ে যায়।
১০ই মহররমআর ২৬১ দিন বাকি

পবিত্র আশুরা ও আশুরার রোজা

হযরত মূসা (আ:) ও বনি ইসরাইলের পরিত্রাণ ও রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত

সম্ভাব্য তারিখ: ১৫ জুন, ২০২৭১ বছরের গুনাহ মাফ
সহীহ মুসলিম: ১১৩৪, সহীহ বুখারী: ২০০৪

"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: "আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার দিনের রোজা বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবে।""

করণীয় সুন্নাত আমলসমূহ:
মহররমের ৯ ও ১০ই মহররম অথবা ১০ ও ১১ই মহররম নফল রোজা রাখা
পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্যমতো উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করা
বেশি বেশি তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা
অন্যায়, পাপাচার ও কুসংস্কার থেকে বিরত থাকা
আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের সগীরা গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। ইহুদিদের বিপরীত করার জন্য ৯ ও ১০ই মহররম রোজা রাখা মোস্তাহাব।