সহীহ যাকাত ক্যালকুলেটর ও নিসাব নির্দেশিকা
কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত নিসাব অনুযায়ী আপনার স্বর্ণ, রৌপ্য, নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতের নিখুঁত হিসাব বের করুন। দরিদ্র ও হকদারদের মাঝে সহীহ নিয়মে যাকাত বন্টন করুন।
বর্তমান বাজার মূল্য ও নিসাব মানদণ্ড
দর পরিবর্তনযোগ্য* সাড়ে ৫২ ভরি রূপার বর্তমান বাজারমূল্য = ৳১-১৫-৫০০। আপনার নীট সম্পদ এর সমান বা বেশি হলে যাকাত ফরজ।
১. স্বর্ণ ও রৌপ্য (অলঙ্কার ও ধাতব)
২. নগদ অর্থ ও ব্যাংক সঞ্চয়
৩. ব্যবসায়িক পণ্য ও বিনিয়োগ
৪. দেনা ও দায় (মোট সম্পদ থেকে বাদ যাবে)
আপনার সম্পদ নিসাব পরিমাণ না হওয়ায় যাকাত ফরয নয়।
যাকাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ
কুরআনে সালাতের পাশাপাশি ৮২ বারেরও বেশি যাকাত আদায়ের সুস্পষ্ট তাকীদ দেওয়া হয়েছে।
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ
"আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ করো।"
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا
"তাদের সম্পদ থেকে সদকা (যাকাত) গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন..."
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ
"যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয়..."
যাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলতে সহীহ হাদিস
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনে গভর্নর করে পাঠানোর সময় বলেন: "তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ওপর তাদের সম্পদে সদকা (যাকাত) ফরয করেছেন; যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।"
নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: "সদকা (যাকাত) প্রদান করলে কখনো কোনো মানুষের সম্পদ হ্রাস পায় না। আর ক্ষমা প্রদর্শনের দ্বারা আল্লাহ বান্দার সম্মান বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেন না।"
যাকাতের ৮টি সহীহ খাত (কারা যাকাত পাওয়ার হকদার)
আল্লাহ তাআলা সরাসরি কুরআনে যাকাত বিতরণের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন:
যার জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সম্পদও নেই।
যার কিছু সম্পদ আছে কিন্তু তা দৈনন্দিন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
যাঁরা রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
যাঁরা নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং দ্বীনি সহযোগিতার মুখাপেক্ষী।
বন্দী বা দাসত্ব থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে অর্থ সহায়তা।
যিনি বৈধ প্রয়োজনে ঋণ করে পরিশোধে সম্পূর্ণ অপারগ হয়ে পড়েছেন।
ইসলাম প্রচার, দ্বীনি জ্ঞানার্জন ও আল্লাহর বাণী বুলন্দ করার কাজে।
ভ্রমণকালে পাথেয়হীন হয়ে পড়া পথিক (যদিও নিজ দেশে তিনি ধনী হন)।
