hadith book logo

রিয়াদুস সলেহিন: হাদিস ১৫৬৬

১৮. নিষিদ্ধ বিষয়াবলী

رياض الصالحين

১/১১ পরিচ্ছেদঃ

শেষ বয়সে অধিক পরিমাণে পুণ্য করার প্রতি উৎসাহ দান

আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, ﴿ أَوَ لَمۡ نُعَمِّرۡكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ ٱلنَّذِيرُۖ ﴾ [فاطر: ٣٧] অর্থাৎ “আমি কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্রহণ করতে পারত? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীও এসেছিল।” (সূরা ফাত্বির ৩৭ আয়াত) ইবনু আব্বাস ও সত্যানুসন্ধানী আলেমগণ বলেন, আয়াতের অর্থ এই যে, আমরা কি তোমাদেরকে ৬০ বছর বয়স দিইনি? পরবর্তী হাদীসটি এই অর্থের কথা সমর্থন করে। কেউ বলেন যে, এর অর্থ ১৮ বছর। আর কিছু লোক ৪০ বছর বলেন। এটি হাসান (বাসরী) কালবী ও মাসরুকের মত। বরং এ কথা ইবনু আব্বাস থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা বলেন যে, যখন কোনো মদ্বীনাবাসী চল্লিশ বছর বয়সে পদার্পণ করেন, তখন তিনি নিজেকে ইবাদতের জন্য মুক্ত করেন। কিছু লোক এর অর্থ পরিণত বয়স করেছেন। আর আল্লাহর বাণীতে উক্ত ‘সতর্ককারী’ বলতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও বেশীরভাগ আলেমের মতে স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কিছু লোকের নিকট সতর্ককারী হল বার্ধক্য। এটা ইকরিমাহ্, ইবনু ‘উয়াইনাহ ও অন্যান্যদের মত।
১৫৬৬
রিয়াদুস সলেহিন
সহিহ হাদিস
وَعَنْ أَبي بَرْزَةَ نَضْلَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الأَسْلَمِيِّ قَالَ: بَيْنَمَا جَارِيَةٌ عَلَى نَاقَةٍ عَلَيْهَا بَعْضُ مَتَاعِ القَوْمِ . إِذْ بَصُرَتْ بِالنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وَتَضَايَقَ بِهِمُ الجَبَلُ فَقَالَتْ: حَلْ، اَللهم الْعَنْهَا. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تُصَاحِبْنَا نَاقَةٌ عَلَيْهَا لَعْنَةٌ» . رواه مسلم
আবূ বার্যাহ নাযলাহ ইবনে উবাইদ আসলামীথেকে বর্ণিতঃ
একবার এক যুবতী মহিলা একটি উটনীর উপর সওয়ার ছিল। আর তার উপর লোকদের (সহযাত্রীদের) কিছু আসবাব-পত্র ছিল। ইত্যবসরে মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রত্যক্ষ করল। আর লোকদের জন্য পার্বত্য পথটি সংকীর্ণ বোধ হল। মহিলাটি উটনীকে (দ্রুত গতিতে চালাবার উদ্দেশ্যে) বলল, ‘হাঃ! হে আল্লাহ! এর উপর অভিশাপ কর।’ তা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘‘ঐ উটনী যেন আমাদের সাথে না থাকে, যাকে অভিশাপ করা হয়েছে।’’
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
(মুসলিম ২৫৯৬, আহমাদ ১৯২৯১)
জেনে রাখুন যে, দৃশ্যতঃ এই হাদীসের অর্থের ব্যাপারে জটিলতা দেখা দিতে পারে। অথচ এতে কোন জটিলতা নেই। কারণ, এর মর্মার্থ হল যে, উটনীটিকে অভিশাপ করা হয়েছে, অতএব তা যেন তাঁদের সাথে না থাকে। এর মানে এই নয় যে, উটনীটিকে যবেহ করা, বিক্রি করা, তার উপর আরোহন করা ইত্যাদি নিষেধ। বরং এ সকল তথা অন্য সমস্ত প্রকার উপকার তার দ্বারা গ্রহণ করা বৈধ। যা নিষিদ্ধ হল, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাফেলায় থাকা। সুতরাং তা ব্যতীত অবশিষ্ট দিকগুলি পূর্ববৎ বৈধ থাকবে।