hadith book logo

রিয়াদুস সলেহিন: হাদিস ৯২৪

৭. রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ

رياض الصالحين

১/৮ পরিচ্ছেদঃ

দ্বীনে অটল থাকার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ فَٱسۡتَقِمۡ كَمَآ أُمِرۡتَ ﴾ [هود: ١١٢] অর্থাৎ “সুতরাং তুমি যেরূপ আদিষ্ট হয়েছ সেইরূপ সুদৃঢ় থাক।” (সূরা হুদ ১১২ আয়াত) তিনি আরোও বলেন, ﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُواْ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسۡتَقَٰمُواْ تَتَنَزَّلُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُواْ وَلَا تَحۡزَنُواْ وَأَبۡشِرُواْ بِٱلۡجَنَّةِ ٱلَّتِي كُنتُمۡ تُوعَدُونَ ٣٠ نَحۡنُ أَوۡلِيَآؤُكُمۡ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِۖ وَلَكُمۡ فِيهَا مَا تَشۡتَهِيٓ أَنفُسُكُمۡ وَلَكُمۡ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ ٣١ نُزُلٗا مِّنۡ غَفُورٖ رَّحِيمٖ ٣٢ ﴾ [فصلت: ٣٠، ٣٢] অর্থাৎ “নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’ তারপর তাতে অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট ফিরিশতা অবতীর্ণ হয় (এবং বলে), ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ নাও। ইহকালে আমরা তোমাদের বন্ধু এবং পরকালেও; সেখানে তোমাদের জন্য সমস্ত কিছু রয়েছে যা তোমাদের মন চায়, যা তোমরা আকাঙ্ক্ষা কর। চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লার পক্ষ হতে এ হবে আপ্যায়ন’।” সূরা হা-মীম সাজদাহ ৩০-৩২ আয়াত) তিনি অন্যত্রে বলেন, ﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُواْ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسۡتَقَٰمُواْ فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ ١٣ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِ خَٰلِدِينَ فِيهَا جَزَآءَۢ بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٤ ﴾ [الاحقاف: ١٣، ١٤] অর্থাৎ “নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ অতঃপর এই বিশ্বাসে অবিচলিত থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, এটাই তাদের কর্মফল।” (সূরা আহক্বাফ ১৩-১৪ আয়াত)
৯২৪
রিয়াদুস সলেহিন
সহিহ হাদিস
عَن أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبي سَلَمَةَ وَقَدْ شَقَّ بَصَرُهُ، فَأَغْمَضَهُ، ثُمَّ قَالَ: إنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ، تَبِعَهُ البَصَرُ فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أهْلِهِ، فَقَالَ: لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلاَّ بِخَيْرٍ، فَإنَّ المَلاَئِكَةَ يَؤمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ ثُمَّ قَالَ: اَللهم اغْفِرْ لأَبِي سَلَمَة، وَارْفَعْ دَرَجَتْهُ فِي المَهْدِيِّينَ، وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبهِ فِي الغَابِرِينَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ العَالَمِينَ، وَافْسَحْ لَهُ في قَبْرِهِ، وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ . رواه مسلم
উম্মে সালামাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বন্ধ করার পর বললেন, ‘‘যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।’’ (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আর‎ম্ভ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দো‘আ কর। কেননা, ফিরিশ্‌তাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।’’ অতঃপর তিনি এই দো‘আ বললেন,
‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, ওয়াখলুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল ‘আ-লামীন, ওয়াফসাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ করে দাও এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা করে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো।
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
(মুসলিম ৯২০, আবূ দাউদ ৩১১৮, ইবনু মাজাহ ১৪৫৪, আহমাদ ২৬০০৩)