সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক
সহীহ হাদিসের আলোকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত আদায়ের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" (সহীহ বুখারী: ৬৩১)। তাকবীরে তাহরীমা থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত প্রতিটি রুকন, সঠিক অঙ্গভঙ্গি ও নির্ভরযোগ্য দোয়াসমূহের সচিত্র গাইড।
১
রুকন নম্বর ১
অন্তরের নিয়ত ও তাকবীরে তাহরীমা
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান। অন্তরে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করছেন তা সংকল্প করাই নিয়ত। মুখে মুখে প্রচলিত কোনো শব্দ উচ্চারণ করা বিদআত। এরপর "আল্লাহু আকবার" বলে দুই হাত কাঁধ বা কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে তাহরীমা বাঁধবেন।
পঠিতব্য সহীহ দু’আ
اللهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ:আল্লাহু আকবার
অর্থ:আল্লাহ মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
সহীহ হাদিসের রেফারেন্স(সহীহ বুখারী: ১, ৭৩৫, ৭৩৬; সহীহ মুসলিম: ৩৯০)
"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (বুখারী: ১)"
সতর্কতা ও বর্জনীয় ভুল / বিদআত
মুখে মুখে "নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া..." বলে উচ্চারণ করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়—এটি পরবর্তীকালের বানোয়াট বিদআত। নিয়ত সম্পূর্ণ অন্তরের বিষয়।
শরীয়তের মূলনীতি
নারী ও পুরুষের সালাতে কোনো পার্থক্য আছে কি?
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুস্পষ্ট সাধারণ নির্দেশ: "তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" (বুখারী: ৬৩১)। নারী ও পুরুষের সালাতের রুকন, রুকু, সিজদা ও হাত বাঁধার ধরনে কোনো সহীহ হাদীসে পার্থক্য নির্দেশ করা হয়নি। পার্থক্য কেবল পোশাক ও সতর ঢাকার ক্ষেত্রে।
সহীহ বুখারী: ৬৩১; ইরওয়াউল গালীল: ৩৯৭
সালাতের ৯টি পূর্বশর্ত
- ১. ইসলাম গ্রহণ
- ২. সুস্থ মস্তিষ্ক (বিবেকবান)
- ৩. ভালো-মন্দের বোধ (তময়ীজ)
- ৪. ওযূ বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন
- ৫. শরীর, কাপড় ও স্থান পাক হওয়া
- ৬. সতর আবৃত রাখা
- ৭. নামাজের ওয়াক্ত হওয়া
- ৮. কিবলামুখী হওয়া
- ৯. অন্তরের দৃঢ় সংকল্প (নিয়ত)
