hadith book logo

ইখলাসের অপরিহার্যতা ও হজ কবূলে তার প্রভাব

লেখকঃ ড. সালেহ ইবন আবদুল আযীয সিন্দী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল সৎ আমলের ফলাফল:

অন্তরের পরিশুদ্ধতা, তাকওয়া ও তা একমাত্র সৃষ্টিকুলের রবের জন্য নির্ধারণ করার ওপর আমলের ফলাফল নির্ভর করে। এগুলো বাস্তবায়ন হবে না, যদি এসব ক্ষেত্রে আল্লাহই তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না হয়। আল্লাহর বাণী:

﴿وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلۡمُنتَهَىٰ ٤٢﴾ [ النجم : ٤٢ ]

“আর সব কিছুর সমাপ্তি তো তোমার রবের নিকট।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৪২]

যে সব ইবাদতে তাকওয়া প্রতিফলিত হয়, তার মধ্যে হজ একটি অন্যতম ইবাদত। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর একটি ইবাদতের ব্যাপারে বলেন, তা হলো কুরবানী:

﴿لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡ﴾ [ الحج : ٣٧ ]

“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৩৭]

আল্লামা সা‘দী রহ. বলেন, “এর মধ্যে রয়েছে কুরবানী করার ক্ষেত্রে ইখলাসের প্রতি উৎসাহ প্রদান। অর্থাৎ এতে যেন উদ্দেশ্য হয় আল্লাহরই সন্তুষ্টি। যাতে থাকবে না কোনো অহঙ্কার, রিয়া অর্থাৎ অন্যকে দেখান ও শোনানোর মন-মানসিকতা এবং না তা হবে একান্ত অভ্যাস ও স্বভাবগত। এমনই হতে হবে সমস্ত ইবাদতের অবস্থা। পক্ষান্তরে ইবাদতের মধ্যে যদি ইখলাস ও আল্লাহর তাকওয়া-ভয় না থাকে, তবে তা হবে ফলের এমন খোসার মতো যার মধ্যে নেই কোনো মূল জিনিস ও এমন দেহ যার মধ্যে নেই কোনো আত্মা।” [তাইসীরুল কারীমির রহমান: ৫৩৯।]