hadith book logo

আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব

লেখকঃ মাজেদ আলি হাসান হাবিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

ভ্রাতৃত্বের সুফল

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন :

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا .

তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো : তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। [সূরা আলে ইমরান : ১০৩]

ভ্রাতৃত্ব আল্লাহ প্রদত্ত এক পরম নেয়ামত, তিনি প্রিয় বান্দা ও নির্বাচিত বন্ধুদের তা দান করেন। ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে ফুল ও পলবে শোভিত এক বরকতপূর্ণ বৃক্ষ, নানাভাবে নিরবধি যা ফলদায়ক। ভ্রাতৃত্বের অন্যতম সুফল এই-

ঈমানের স্বাদ অনুভব, এবং সৌভাগ্যবানদের জীবন উপভোগ করা যায়।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধদের আল্লাহ তাআলা তার করুণা দ্বারা পরিবেষ্টন করে রাখেন। কেয়ামতের ভয়াবহ দিবসে তাদের রক্ষা করেন।

আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্ব ও হৃদ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ যারা, তারা সেদিন শান্ত ও উৎফুল সময় যাপন করে, যেদিন একমাত্র আল্লাহ পাকের আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না, এবং সেদিন যে-সাত শ্রেণির লোকদের ছায়া প্রদান করবেন, তারা তাদের অন্যতম হিসেবে গণ্য হবে। আবু হুরাইরা রা. বর্ণিত এক মুত্তাফাক আলাইহি হাদিসে এসেছে, রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম এরশাদ করেন : সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তার ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত ভিন্ন কোন ছায়া থাকবে না...(তাদের মাঝে তিনি উলেখ করেন)...এমন দু ব্যক্তিকে, যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছে। তার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাকেই কেন্দ্র করে। [মুত্তাফাক আলাইহি]

যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একে-অপরে ভালোবাসায় আবদ্ধ হন, তারা অনুভব করেন এক অনাবিল আন্তর স্বাদ, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এক মজবুত রজ্জু, যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে থাকবে, সে নাজাত পাবে।

আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিগণ কেয়ামতের ভয়াবহ দিবসে আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত প্রাপ্ত নবি, সিদ্দীক, শহীদ ও সালিহীনদের সাথে অবস্থান করবেন।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ব্যক্তির আন্তর শুদ্ধতা, সৌকর্য মন্ডিত আমল, আল্লাহ ভীতি, তাকওয়া, তার কিতাবের প্রতি সম্মান এবং রাসূলের সুন্নতের প্রেমের প্রমাণ বহন করে।

এ ছাড়াও, হে আমার প্রিয় ভাই, আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্বের রয়েছে আরো বিচিত্র সুফল, সঙ্কুচিত কলেবরে উলেখ সম্ভব নয় বলে আমরা এখানে তার উলেখ হতে বিরত থাকলাম। আল্লাহ পাক কেবল তারই উদ্দেশ্যে ভালোবাসা এবং শত্রুতা পোষণকে ইসলামের অন্যতম শক্তিশালী রজ্জু হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যেমন এক রিওয়ায়েতে এসছে-ঈমানের অন্যতম রজ্জু হচ্ছে আল্লাহর জন্য বন্ধুতা, তারই জন্য শত্রুতা, এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, তারই জন্য বিদ্বেষ পোষণ। [সহীহ জামে : ২৫৩৯]

মানবীয় এই আন্তর আবেগের পরিপূর্ণ বিকাশ ও তার সফল রূপায়ণ ব্যতীত, কখনই, ইমান পূর্ণাঙ্গ হবে না। সুতরাং ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে, তারই জন্য ঘৃণার বশবর্তী হবে, দান করবে আল্লাহর জন্য, তারই জন্য দানের হাত গুটিয়ে নিবে, নিশ্চয় তার ইমান পূর্ণতা প্রাপ্ত হবে।’ [সহীহ জামে : ৫৯৬৫]

শয়তানের মন্ত্রণার বিরোধিতা, প্রবৃত্তিকে শাসন করার অনুপম স্বাদ আস্বাদনে যে আগ্রহী, এবং কেবল আল্লাহ, তার রাসূল, এবং মোমিনদের সদর্থে ভ্রাতৃত্ব লালনের অপরিমেয় সৌভাগ্য আহরণে ব্যগ্র, এটিই তার জন্য একমাত্র পথ : হাদিসে এসেছে-তিনটি গুণ যার মাঝে পাওয়া যাবে, সে ঈমানের আস্বাদ লাভ করবে : আল্লাহ ও তার রাসূল তার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বলে গণ্য হবেন, মানুষকে ভালোবাসবে কেবল আল্লাহর জন্য, আল্লাহ তাআলা কুফুর হতে বিমুক্ত করার পর তাতে ফিরে যাওয়া ততটাই অপছন্দ করবে, যেমন অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে। [মুত্তাফাক আলাইহি]