hadith book logo

সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ

লেখকঃ ইকবাল হোছাইন মাসুম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

‘আমর বিল মা‘রূফ ও নেহি আনিল মুনকার’ সম্পাদনকারীর কিছু আদব:

১. ইখলাস ও আন্তরিকতা:

কারণ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের বাধা প্রধান একটি অন্যতম শীর্ষ ইবাদত। আর ইবাদত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন:

﴿فَٱعۡبُدِ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ﴾ [ الزمر : ٢ ]

“অতএব আপনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করুন।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২]

২. ইলম তথা প্রয়োজনীয় জ্ঞান:

ইলম ব্যতীত অসৎ কাজে বাধা প্রদান করতে যাবে না। কারণ, এতে শর‘ঈ নিষিদ্ধ কাজসমূহে পতিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِيۖ﴾ [ يوسف : ١٠٨ ]

“বলে দিন, এটিই আমার পথ, আমি আল্লাহর দিকে বুঝে শুনে সজ্ঞানে আহ্বান করি -আমি এবং আমার অনুসারীরা।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮]

৩. ‘আমর বিল মা‘রূফ ও নেহি আনিল মুনকার’-এর ক্ষেত্রে হক স্পষ্ট করার পাশাপাশি হিকমত ও সুকৌশল, সদুপদেশ এবং সূক্ষ্ম পন্থার সাহায্য নেওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ﴾ [ النحل : ١٢٥ ]

“আপনি মানুষদের আপনার রবের পথে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৫]

আল্লাহ তা‘আলা মূসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামকে ফিরআউনকে দাওয়াত দেওয়ার কৌশল শিক্ষা দিয়ে বলেছেন:

﴿فَقُولَا لَهُۥ قَوۡلٗا لَّيِّنٗا لَّعَلَّهُۥ يَتَذَكَّرُ أَوۡ يَخۡشَىٰ ٤٤﴾ [ طه : ٤٤ ]

“অতঃপর তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে এতে করে হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।” [সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ৪৪]

আমাদের নবী মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বলেন:

﴿وَلَوۡ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلۡقَلۡبِ لَٱنفَضُّواْ مِنۡ حَوۡلِكَۖ﴾ [ ال عمران : ١٥٩ ]

“আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯]

৪. ‘আমর বিল মা‘রূফ ও নেহি আমিল মুনকার’-এর ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য সর্বাপেক্ষা জরুরি বিষয় হচ্ছে সবর-ধৈর্য এবং সহনশীলতা। লোকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন:

﴿يَٰبُنَيَّ أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱنۡهَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ١٧﴾ [ لقمان : ١٧ ]

“হে বৎস! সালাত কায়েম কর, সৎ কাজের আদেশ দাও। মন্দ কাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর, এটিই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।” [সূরা লোকমান, আয়াত: ১৭]

৫. কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা। সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ তখনই করবে যখন অকল্যাণের চেয়ে কল্যাণের দিকটি প্রবল থাকে আর যদি অবস্থা বিপরীত হয় যে এটি করতে গেলে কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণের সম্ভাবনাই বেশি তাহলে ‘আমর বিল মা‘রূফ ও নেহি আনিল মুনকার’ জায়েয হবে না। কারণ, এতে অপেক্ষাকৃত ছোট মুনকার দূর করতে গিয়ে আরো বড় মুনকারে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

৬. মুনকার ও অসৎ কাজ দূর করার ক্ষেত্রে সবচে সহজ কাজের সাথে সংগতিপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করা। সুতরাং, সংগতি পূর্ণ পন্থা ও মাধ্যম বাদ দিয়ে আরো বড় মাধ্যম গ্রহণ করা জায়েয হবে না। অর্থাৎ আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের বিন্যাস অনুযায়ী ধারাবাহিকতা ও স্তর বিবেচনায় রেখে মন্দ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের পদক্ষেপ নেওয়া।

আবু সাইদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ মন্দ কাজ হতে দেখলে (শক্তি প্রয়োগ করে) প্রতিহত করবে, সম্ভব না হলে (মুখের মাধ্যমে) প্রতিহত করবে, এও সম্ভব না হলে মন দিয়ে প্রতিহত করবে। আর এটি হচ্ছে ঈমানের সর্ব নিম্ন স্তর।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, সহজ পন্থা ও পদ্ধতিতে কাজ সম্ভব হলে কঠোর পদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। বরং এটি ঠিকও হবে না। যেমন, যে মন্দ কাজ প্রতিবাদের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব সেখানে শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিহত করা শরিয়তের দৃষ্টিতে ঠিক নয়। এ নীতিমালা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।