hadith book logo

পাপ আকার-প্রকৃতি, প্রভাব ও প্রতিকার

লেখকঃ গবেষণা পরিষদ, আল-মুনতাদা আল-ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যালয় • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

(৪) অনতিবিলম্বে খাঁটি তওবা করা :—

ইরশাদ হয়েছে :—

توبوا إلى الله جميعا أيها المؤمنون لعلكم تفلحون . ( النور : ৩১)

‘হে মুমিনগণ ! তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সূরা নূর : ৩১)

يا أيها الذين آمنوا توبوا إلى الله توبة نصوحا عسى ربكم أن يكفر عنكم سيئاتكم ويدخلكم جنات تجري من تحتها الأنهار يوم لا يخزى الله النبي والذين آمنوا معه نورهم يسعى بين أيديهم وبأيمانهم يقولون ربنا أتمم لنا نورنا واغفر لنا إنك على كل شيء قدير - ( سورة التحريم : ৮)

যারা তওবা করে আল্লাহ রাববুল আলামীন তাদের ভালবাসেন।

তিনি বলেন :—

إن الله يحب التوابين ويحب المتطهرين . ( البقرة :২২২)

‘নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।’[সূরা আল-বাকরা: ২২২]

তওবার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য উল্লিখিত কয়েকটি আয়াত যথেষ্ট। তওবা সম্পর্কিত সবগুলো আয়াত লেখার প্রয়োজন নেই। তওবাকারীর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা কতটা খুশী হন, তা উল্লেখ করাও প্রাসঙ্গিক মনে করি। হাদীসে এসেছে :—

لله أشد فرحا بتوبة عبده المؤمن، من رجل في أرض دوية مهلكة معه راحلته عليها طعامه وشرابه فنام فاستيقظ وقد ذهبت فطلبها حتى أدركه العطش ثم قال : أرجع إلى مكاني الذي كنت فيه فأنام حتى أموت، فوضع رأسه على ساعده ليموت ، فاستيقظ وعنده راحلته وعليها زاده وطعامه وشرابه ، فالله أشد فرحا بتوبة العبد المؤمن من هذا براحلته وزاده

) رواه البخاري -৬৩০৮ ومسلم -২৭৪৪(

‘আল্লাহ তার বান্দার তাওবায় ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী আনন্দিত হন, যে তার উট হারিয়ে ফেলেছে এক জনমানবশূন্য ভয়ংকর প্রান্তরে। উটের পিঠে ছিল খাদ্য ও পানীয়। এরপর সে ঘুমিয়ে পড়ল। জাগ্রত হয়ে সে আবার উটের খোঁজে বের হল। একসময় তার তেষ্টা পেল। সে মনে মনে বলল, যেখানে ছিলাম সেখানে ফিরে যাই। অতঃপর মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকি। মৃত্যু অবধারিত জেনে বাহুতে মাথা রেখে সে ঘুমিয়ে পড়ল। জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল, হারিয়ে যাওয়া উট তার পাথেয়-খাদ্য-পানীয় নিয়ে তার সামনেই দাঁড়িয়ে। এই ব্যক্তি তার উট ও পাথেয় ফিরে পেয়ে যতদূর খুশি হয়েছে তার থেকেও অধিক খুশি হন আল্লাহ তা’আলা বান্দার তাওবায়।’ [বুখারী-৬৩০৮ ও মুসলিম-২৭৪৪]

পাপ সংঘটিত হলে উচিত হল অনতিবিলম্বে তাওবা করা; কারণ হায়াত আল্লাহর হাতে। যে কোন মুহূর্তে মৃত্যুর কঠিন থাবা তার জীবনাবসান ঘটাতে পারে।

অপরদিকে উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ‘পাপ সংঘটিত হলে বিলম্ব না করে তওবা করা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। যে ব্যক্তি তাওবা করতে দেরী করে, সে আরেকটি পাপে জড়িয়ে পড়ে।’

তাওবা করতে হবে মনে-প্রাণে। এমন যেন না হয় যে, মুখে মুখে বললাম, ‘হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর’ আর অন্তর থাকল গাফেল।