hadith book logo

নাবালক ছেলের ইমামতের বিধান

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

মুদ্দাকথা:

ফরয ও নফল উভয় সালাতে নাবালক ছেলের ইমামতি বৈধ, যদি সে উপস্থিত লোকদের মধ্যে অধিক কুরআনধারী হয়। যেমন আমর ইব্‌ন সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইমামতের জন্য সামনে অগ্রসর করা হয়েছে। নবুওয়তী যুগে যারা তাকে ইমামতের দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের সবাই ছিলেন সাহাবি, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে ফরয- নফল ও নাবালক - সাবালকের মধ্যে কোন পার্থক্য বোঝেননি। তাদের এ কর্ম ভুল হলে অবশ্যই আল্লাহ সতর্ক করে দিতেন। বিশেষ করে সালাতের ক্ষেত্রে, যা ইসলামের সবচেয়ে বড় রোকন। যেমন জিবরিল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতের মধ্যে জুতা খোলার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তাতে নাপাক ছিল। হাদিসে এসেছে:

أن النبي صلى الله عليه وسلم صَلَّى بأصحابه فخلع نعليه فوضعهما عن يساره ، فلما رأى ذلك القوم ألقوا نعالهم ، فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته قال : ما حملكم على إلقائكم نعالكم ؟ قالوا : رأيناك ألقيت نعليك فألقينا نعالنا ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن جبريل صلى الله عليه وسلم أتاني فأخبرني أن فيهما قذرا . رواه الإمام أحمد وأبو داود .

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তিনি সালাতে দু’পায়ের জুতো খুলে বাম পাশে রাখলেন। মুক্তাদিরা যখন তা দেখল, তারাও তাদের জুতো খুলে ফেলল। রাসূলূল্লাহ সালাত শেষ করে বললেন তোমরা কি জন্য জুতো খুলেছ? তারা বলল: আমরা আপনাকে জুতো খুলতে দেখেছি, তাই আমরাও আমাদের জুতো খুলে ফেলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন জিবরিল আমার কাছে এসে আমাকে বলেছে জুতোদ্বয়ে নাপাক রয়েছে”। আবু দাউদ ও আহমদ।

এ থেকে আমরা বুঝি নাবালক ছেলে আমর ইব্‌ন সালামার ইমামতি যদি সঠিক না হতো, অবশ্যই ওহি নাযিল করে তা জানিয়ে দেয়া হতো।

যারা বলেন নাবালক ছেলের ইমামতি বৈধ নয় বা তার পিছনে নফল বৈধ, ফরয বৈধ নয়, তারা এর স্বপক্ষে যেসব হাদিস দলিল হিসেবে পেশ করেন তা খুব দুর্বল, দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়। আর যেসব যুক্তি পেশ করেন তাও শ্রবণ যোগ্য নয়, কারণ সহিহ হাদিসের মোকাবেলায় যুক্তির কোন মূল্য নেই। আল্লাহ ভাল জানেন।

সমাপ্ত