১
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
(ঘ) নারী সম্পর্কে ভুল দৃষ্টিভঙ্গির অপনোদন:
ইসলাম আগমনের পূর্বে গোটা দুনিয়া নারী জাতিকে একটি অকল্যাণকর তথা সভ্যতা ও তামাদ্দুনের জন্য অপ্রয়োজনীয় উপাদান মনে করে কর্মক্ষেত্র থেকে অপসারিত করেছিল। তাকে অধঃপতনের এমন এক অন্ধকার গুহায় নিক্ষেপ করেছিল যেখান থেকে তার উন্নতি ও ক্রমবিকাশের আশা করা ছিল বাতুলতা মাত্র। দুনিয়ার এ আচরণের বিরুদ্ধে ইসলাম উচ্চ কন্ঠে প্রতিবাদ করে বললো যে, গতিশীল জীবন নারী ও পুরুষের উভয়ের মুখাপেক্ষী। নারীকে এ জন্য সৃষ্টি করা হয় নি যে, সে ধাক্কা খেতে থাকবে এবং তাকে জীবনের রাজপথ থেকে তুলে কাঁটার মত দূরে নিক্ষেপ করা হবে। কারণ পুরুষকে সৃষ্টি করার যেমন একটা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে তেমনি নারীকে সৃষ্টিরও একটা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। মানুষের এ দু’টো শ্রেণী দিয়ে আল্লাহ অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করেছেন,
﴿ لِّلَّهِ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُۚ يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثٗا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ ٤٩ أَوۡ يُزَوِّجُهُمۡ ذُكۡرَانٗا وَإِنَٰثٗاۖ وَيَجۡعَلُ مَن يَشَآءُ عَقِيمًاۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٞ قَدِيرٞ ٥٠ ﴾ [ الشورى : ٤٩، ٥٠ ]
‘‘আসমানসমূহ ও যমীনের মালিকানা আল্লাহরই, তিনি যা চান তা-ই সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা তাকে কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র-কন্যা উভয় প্রকার সন্তান দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।’’ [সূরা আশ-শুরা: ৪৯–৫০]
ইসলাম নারী জাতিকে লাঞ্ছনা ও অমর্যাদাকর অবস্থান থেকে দ্রুততার সাথে উঠিয়ে এনে এমনই অধিকার ও মর্যাদা দান করেছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,
«كُنَّا نَتَّقِي الْكَلَامَ وَالِانْبِسَاطَ إِلَى نِسَائِنَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَيْبَةَ أَنْ يَنْزِلَ فِينَا شَيْءٌ فَلَمَّا تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَكَلَّمْنَا وَانْبَسَطْنَا»
‘‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে কথা বলতে এবং প্রাণ খুলে মেলামেশা করতেও ভয় পেতাম, এ ভেবে যে, আমাদের সম্পর্কে কোনো আয়াত যেন নাযিল না হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের পর আমরা প্রাণ খুলে তাদের সাথে মিশতে শুরু করলাম।’’ [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১৮৭]
এ নির্যাতিত শ্রেণীটির বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত ছিল না। আল-কুরআন বললো যে, না, তারাও জীবিত থাকবে এবং যে ব্যক্তিই তার অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে, মহান আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
﴿وَإِذَا ٱلۡمَوۡءُۥدَةُ سُئِلَتۡ ٨ بِأَيِّ ذَنۢبٖ قُتِلَتۡ ٩ ﴾ [ التكوير : ٨، ٩ ]
‘‘আর যখন জীবন্ত প্রোত্থিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’’ [সূরা আত-তাকভীর: ৮,৯]
আব্দুল্লাহ ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«مَنْ كَانَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا وَلَمْ يُهِنْهَا وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - قَالَ يَعْنِى الذُّكُورَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّة»
‘‘যে ব্যক্তির কন্যা সন্তান আছে, আর যে তাকে জ্যান্ত কবরস্থ করে নি কিংবা তার সাথে লাঞ্ছনাকর আচরণ করে নি এবং পুত্র সন্তানকে তার উপর অগ্রাধিকার দেয় নি, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’ [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নম্বর: ৫১৪৮]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,
«مَنْ عَالَ ثَلاَثَ بَنَاتٍ فَأَدَّبَهُنَّ وَزَوَّجَهُنَّ وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّة»
‘‘যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান লালন পালন করেছে, তাদেরকে উত্তম আচরণ শিখিয়েছে, বিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সাথে সদয় আচরণ করেছে সে জান্নাত লাভ করবে।’’ [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নম্বর: ৫১৪৯]
নারীদের প্রতি কোমল ব্যবহারের গুরুত্ব প্রকাশ করছে কুরআনের নিম্নোক্ত নির্দেশ,
﴿ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ ﴾ [ النساء : ١٩ ]
‘‘আর নারীদের সাথে সদয় আচরণ কর।’’ [সূরা আন-নিসা: ১৯]
এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ উটের পিঠে সফর করছিলেন। স্ত্রীদের কাঁচের সাথে তুলনা করে তিনি বললেন,
«رُوَيْدًا سَوْقَكَ بِالْقَوَارِير»
‘‘কাঁচগুলোকে (স্ত্রীদেরকে) একটু দেখে শুনে যত্নের সাথে নিয়ে যাও।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১৮২]
এসকল হাদীস থেকে আমরা নারী জাতি সম্পর্কে ইসলাম মানুষের মধ্যে যে মেজাজ, আবেগ ও সহানুভূতি সঞ্চার করতে চেয়েছে তা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি।
﴿ لِّلَّهِ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُۚ يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثٗا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ ٤٩ أَوۡ يُزَوِّجُهُمۡ ذُكۡرَانٗا وَإِنَٰثٗاۖ وَيَجۡعَلُ مَن يَشَآءُ عَقِيمًاۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٞ قَدِيرٞ ٥٠ ﴾ [ الشورى : ٤٩، ٥٠ ]
‘‘আসমানসমূহ ও যমীনের মালিকানা আল্লাহরই, তিনি যা চান তা-ই সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা তাকে কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র-কন্যা উভয় প্রকার সন্তান দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।’’ [সূরা আশ-শুরা: ৪৯–৫০]
ইসলাম নারী জাতিকে লাঞ্ছনা ও অমর্যাদাকর অবস্থান থেকে দ্রুততার সাথে উঠিয়ে এনে এমনই অধিকার ও মর্যাদা দান করেছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,
«كُنَّا نَتَّقِي الْكَلَامَ وَالِانْبِسَاطَ إِلَى نِسَائِنَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَيْبَةَ أَنْ يَنْزِلَ فِينَا شَيْءٌ فَلَمَّا تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَكَلَّمْنَا وَانْبَسَطْنَا»
‘‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে কথা বলতে এবং প্রাণ খুলে মেলামেশা করতেও ভয় পেতাম, এ ভেবে যে, আমাদের সম্পর্কে কোনো আয়াত যেন নাযিল না হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের পর আমরা প্রাণ খুলে তাদের সাথে মিশতে শুরু করলাম।’’ [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১৮৭]
এ নির্যাতিত শ্রেণীটির বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত ছিল না। আল-কুরআন বললো যে, না, তারাও জীবিত থাকবে এবং যে ব্যক্তিই তার অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে, মহান আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
﴿وَإِذَا ٱلۡمَوۡءُۥدَةُ سُئِلَتۡ ٨ بِأَيِّ ذَنۢبٖ قُتِلَتۡ ٩ ﴾ [ التكوير : ٨، ٩ ]
‘‘আর যখন জীবন্ত প্রোত্থিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’’ [সূরা আত-তাকভীর: ৮,৯]
আব্দুল্লাহ ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«مَنْ كَانَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا وَلَمْ يُهِنْهَا وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - قَالَ يَعْنِى الذُّكُورَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّة»
‘‘যে ব্যক্তির কন্যা সন্তান আছে, আর যে তাকে জ্যান্ত কবরস্থ করে নি কিংবা তার সাথে লাঞ্ছনাকর আচরণ করে নি এবং পুত্র সন্তানকে তার উপর অগ্রাধিকার দেয় নি, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’ [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নম্বর: ৫১৪৮]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,
«مَنْ عَالَ ثَلاَثَ بَنَاتٍ فَأَدَّبَهُنَّ وَزَوَّجَهُنَّ وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّة»
‘‘যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান লালন পালন করেছে, তাদেরকে উত্তম আচরণ শিখিয়েছে, বিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সাথে সদয় আচরণ করেছে সে জান্নাত লাভ করবে।’’ [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নম্বর: ৫১৪৯]
নারীদের প্রতি কোমল ব্যবহারের গুরুত্ব প্রকাশ করছে কুরআনের নিম্নোক্ত নির্দেশ,
﴿ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ ﴾ [ النساء : ١٩ ]
‘‘আর নারীদের সাথে সদয় আচরণ কর।’’ [সূরা আন-নিসা: ১৯]
এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ উটের পিঠে সফর করছিলেন। স্ত্রীদের কাঁচের সাথে তুলনা করে তিনি বললেন,
«رُوَيْدًا سَوْقَكَ بِالْقَوَارِير»
‘‘কাঁচগুলোকে (স্ত্রীদেরকে) একটু দেখে শুনে যত্নের সাথে নিয়ে যাও।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১৮২]
এসকল হাদীস থেকে আমরা নারী জাতি সম্পর্কে ইসলাম মানুষের মধ্যে যে মেজাজ, আবেগ ও সহানুভূতি সঞ্চার করতে চেয়েছে তা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি।