১
নারীর জান্নাত যে পথে
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
পুরুষদের উদ্দেশে দু’টি কথা:
উপরের বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তা‘আলার কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের আলোকে মুসলিম বোনদের জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করার চেষ্টা করেছি মাত্র। তবে এর অর্থ এ নয় যে, কোনো স্ত্রী এ সবগুণের বিপরীত করলে, তাকে শাস্তি দেওয়া স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কোনো মুমিন ব্যক্তি কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা করবে না, তার একটি অভ্যাস মন্দ হলে, অপর আচরণে তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।” [সহীহ মুসলিম: ১০ : ৩১২।] তুমি যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধাচরণ অথবা তার কোনো মন্দ স্বভাব প্রত্যক্ষ কর, তবে তোমার সর্বপ্রথম দায়িত্ব তাকে উপদেশ দেওয়া, নসীহত করা, আল্লাহ এবং তার শাস্তির কথা স্মরণ করে দেওয়া। তার পরেও যদি সে অনুগত না হয়, বদ অভ্যাস ত্যাগ না করে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তার থেকে বিছানা আলাদা করে নাও। খবরদার! ঘর থেকে বের করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঘর ব্যতীত অন্য কোথাও স্ত্রীকে পরিত্যাগ কর না।” এতে যদি সে শুধরে যায়, ভালো। অন্যথায় তাকে আবার নসীহত কর, তার থেকে বিছানা আলাদা কর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱلَّٰتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهۡجُرُوهُنَّ فِي ٱلۡمَضَاجِعِ وَٱضۡرِبُوهُنَّۖ فَإِنۡ أَطَعۡنَكُمۡ فَلَا تَبۡغُواْ عَلَيۡهِنَّ سَبِيلًا﴾ [ النساء : ٣٤ ]
“যে নারীদের নাফরমানির আশঙ্কা কর, তাদের উপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর, প্রহার কর, যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান কর না।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪]
“তাদের প্রহার কর” এর ব্যাখ্যায় ইবন কাসীর রহ. বলেন, যদি তাদের উপদেশ দেওয়া ও তাদের থেকে বিছানা আলাদা করার পরও তারা নিজ অবস্থান থেকে সরে না আসে, তখন তোমাদের অধিকার রয়েছে তাদের হালকা প্রহার করা, যেন শরীরের কোনো স্থানে দাগ না পড়ে। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে বলেছেন, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, তারা তোমাদের কাছে আবদ্ধ রয়েছে। তোমরা তাদের মালিক নও, আবার তারা তোমাদের থেকে মুক্তও নয়। তাদের কর্তব্য, তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে জায়গা না দেওয়া, যাদের তোমরা অপছন্দ কর। যদি এর বিপরীত করে, এমনভাবে তাদের প্রহার কর, যাতে শরীরের কোনো স্থানে দাগ না পড়ে। তোমাদের কর্তব্য সাধ্য মোতাবেক তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা।” প্রহারের সংজ্ঞায় ইবন আব্বাস ও অন্যান্য মুফাসসির দাগ বিহীন প্রহার বলেছেন। হাসান বসরিও তাই বলেছেন। অর্থাৎ যে প্রহারের কারণে শরীরে দাগ পড়ে না।” [ইবন কাসীর: ১ : ৭৪৩।] চেহারাতে প্রহার করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চেহারায় আঘাত করবে না।
﴿وَٱلَّٰتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهۡجُرُوهُنَّ فِي ٱلۡمَضَاجِعِ وَٱضۡرِبُوهُنَّۖ فَإِنۡ أَطَعۡنَكُمۡ فَلَا تَبۡغُواْ عَلَيۡهِنَّ سَبِيلًا﴾ [ النساء : ٣٤ ]
“যে নারীদের নাফরমানির আশঙ্কা কর, তাদের উপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর, প্রহার কর, যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান কর না।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪]
“তাদের প্রহার কর” এর ব্যাখ্যায় ইবন কাসীর রহ. বলেন, যদি তাদের উপদেশ দেওয়া ও তাদের থেকে বিছানা আলাদা করার পরও তারা নিজ অবস্থান থেকে সরে না আসে, তখন তোমাদের অধিকার রয়েছে তাদের হালকা প্রহার করা, যেন শরীরের কোনো স্থানে দাগ না পড়ে। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে বলেছেন, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, তারা তোমাদের কাছে আবদ্ধ রয়েছে। তোমরা তাদের মালিক নও, আবার তারা তোমাদের থেকে মুক্তও নয়। তাদের কর্তব্য, তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে জায়গা না দেওয়া, যাদের তোমরা অপছন্দ কর। যদি এর বিপরীত করে, এমনভাবে তাদের প্রহার কর, যাতে শরীরের কোনো স্থানে দাগ না পড়ে। তোমাদের কর্তব্য সাধ্য মোতাবেক তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা।” প্রহারের সংজ্ঞায় ইবন আব্বাস ও অন্যান্য মুফাসসির দাগ বিহীন প্রহার বলেছেন। হাসান বসরিও তাই বলেছেন। অর্থাৎ যে প্রহারের কারণে শরীরে দাগ পড়ে না।” [ইবন কাসীর: ১ : ৭৪৩।] চেহারাতে প্রহার করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চেহারায় আঘাত করবে না।