hadith book logo

নারীর জান্নাত যে পথে

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার:

স্বামী যেমন কামনা করে, স্ত্রী তার সব দায়িত্ব পালন করবে, তার সব হক আদায় করবে, তদ্রুপ স্ত্রীও কামনা করে। তাই স্বামীর কর্তব্য স্ত্রীর সব হক আদায় করা, তাকে কষ্ট না দেওয়া, তার অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত, হাকিম ইবন মুয়াবিয়া তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূল, আমাদের ওপর স্ত্রীদের কী কী অধিকার রয়েছে? তিনি বললেন, তুমি যখন খাবে, তাকেও খেতে দিবে। যখন তুমি পরিধান করবে, তাকেও পরিধান করতে দেবে। চেহারায় প্রহার করবে না। নিজ ঘর ব্যতীত অন্য কোথাও তার বিছানা আলাদা করে দেবে না।” অন্য বর্ণনায় আছে, “তার শ্রী বিনষ্ট করো না।” [মুসনাদে আহমদ: ৫ : ৩]

সহীহ বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদীসের কিতাবে আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে আব্দুল্লাহ, আমি জানতে পারলাম, তুমি দিনে সাওম রাখ, রাতে সালাত পড়, এ খবর কি ঠিক? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন, এমন কর না। সাওম রাখ, সাওম ভাঙ্গো। সালাত পড়, ঘুমাও। কারণ, তোমার ওপর শরীরের হক রয়েছে, চোখের হক রয়েছে, স্ত্রীরও হক রয়েছে।” [ফাতহুল বারি: ৯ : ২৯৯]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, যার দু’জন স্ত্রী রয়েছে, আর সে একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে গেল, কিয়ামতের দিন সে একপাশে কাত অবস্থায় উপস্থিত হবে।” [সুনান আবূ দাউদ; সুসান তিরমিযী।]

সম্মানিত পাঠক! আমাদের আলোচনা সংক্ষেপ হলেও তার আবেদন কিন্তু ব্যাপক। এখন আমরা আল্লাহর দরবারে তার সুন্দর সুন্দর নাম, মহিমান্বিত গুণসমূহের উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করি, তিনি আমাকে এবং সকল মুসলিম ভাই-বোনকে এ কিতাব দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমরা এমন না হয়ে যাই, যারা নিজ দায়িত্ব আদায় না করে, স্ত্রীর হক উসূল করতে চায়। আমাদের উদ্দেশ্য কারো অনিয়মকে সমর্থন না করা এবং এক পক্ষের অপরাধের ফলে অপর পক্ষের অপরাধকে বৈধতা না দেওয়া। বরং আমাদের উদ্দেশ্য প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহর সামনে জবাবদিহির জন্য সচেতন করা।