১
শিশু সাহিত্যসাধনায় মুসলমান
লেখকঃ মিরাজ রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
পরিশিষ্ট
শিশুসাহিত্য সাধনায় মুসলমানদের অবদান-আলোচনা থেকে বর্তমান শিশুসাহিত্যের ধারা বা বর্তমান মুসলিম শিশুসাহিত্যিকদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্ণনা বিমুখ থাকা হয়েছে তাদের শিশুসাহিত্য অবদান থেকে। শিশুসাহিত্যসাধনায় মুসলমানদের অবদান আলোচনার জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুসলিম মন-মানসের বিচার-বিশেষণ একটি বিশেষ দিক। আমাদের বর্তমান শিশুসাহিত্যিকদের মাঝে যার অভাব অনেকাংশে পরিলক্ষিত এবং যাদের মন-মানস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইসলামের সাথে সাঙ্ঘর্ষিক। কারণ আমাদের সৃজনশীল প্রায় প্রতিটি অঙ্গনই এখন নাস্তিকতা অথবা ধর্মনিরপেক্ষতার জ্বরে ভুগছে। মার্কসবাদে দীক্ষিত হয়ে নিজেদেরকে বিপবী ভাবছে। আবার সেসব মত ও মতাদর্শে প্রভাবিত লেখকরাই কোমলমতি শিশুদের কচি হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে অ্যাঙ্গেলস-লেনিনদের জীবনী গ্রন্থ। যার প্রভাবে আমাদের শিশুদের মাঝে বপিত হচ্ছে ধর্মহীনতার বীজ। আমাদের বাচ্চারা আজ একজন মুহাম্মদ বিন কাসেম, সালাউদ্দিন আয়্যূবীকে যতটুকু না চেনে তার চেয়ে বেশি চেনে চে গুয়েভারাকে। এতো আমাদেরই অবদান। আমাদের উদাসীন সৃজনশীলতার দান। কমিউনিজমে বিশ্বাসী লেখক-সাহিত্যিকদের সাজানো গোছানো চাল। যা কেবল আমাদের শিশুদের জন্য নয়, গোটা শিশু শ্রেণির সুস্থ মন-মানস বিকাশের পথে চরম অন্তরায়। যেসব শিশুসাহিত্যিকরা নিজেদের মুসলমান পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন, মুসলমান বাপ-দাদাদের দেয়া নাম পরিবর্তন করে হিন্দু নাম নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, নিজেদের সাহিত্য মেধার পেছনে মুসলমান পূর্বসূরিদের অবদানের কথা অস্বীকার করেন- শিশুসাহিত্য সাধনায় মুসলমানদের অবদান শীর্ষক আলোচনায় তাদের নাম না আসা এবং তাদের সাহিত্য সম্ভার থেকে বর্ণনাবিমুখ থাকাটাই সমীচীন। একজন মুসলমানের মুসলমানিত্বের দাবি। তাই মুসলমান শিশুসাহিত্যিক নির্বাচনের দৃষ্টিতে আমাদের এসব শিশুসাহিত্যিকদের পরিত্যক্ত এবং অকার্যকর ভাবা হয়েছে।
সমাপ্ত
সমাপ্ত