hadith book logo

ইসলাম প্রচারক ভাই! প্রথমে তাওহীদের দাওয়াত দিন

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

পরিবর্তনের মূল হল, সংস্কার ও তারবীয়তের প্রদ্ধতি অবলম্বন করা

এ কারণেই আমরা সব সময় - হক প্রতিষ্টার জন্য- দুটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি আহ্বান করি এবং অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর তা হল, সংস্কার ও তারবীয়ত। সংস্কার ও আন্দোলন দুটি এক সাথে হওয়া জরুরি। যদি কোন দেশে আকীদার বিষয়ে সংস্কার পাওয়া যায়, তাহলে তাকে অবশ্যই বড় ও মহান কাজ ধরা হবে যে, ইসলামী সমাজের একটি অংশে বা কতক মুসলিম জন গোষ্টির মধ্যে আকীদার সংশোধন ও সমাজ সংস্কারের মত একটি কাজ চলছে। আর ইবাদাতের ক্ষেত্রে বলতে হয়, ইবাদাতকে মাযহাবীয়ত ও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে রাখতে হবে এবং বিশুদ্ধ হাদীস নির্ভর করতে করতে হবে। বর্তমানে মুষ্টিময় কতক ওলামায়ে কেরাম আছে, যারা ইসলামকে পরিপূর্ণ ও বিশুদ্ধভাবে বুঝতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি, একজন, দুই জন, তিন জন বা দশজন মুষ্টিময় লোকের বিশুদ্ধ বা পরিপূর্ণ ইসলাম বোঝার দ্বারা ইসলামের মধ্যে আকীদা বিশ্বাস, ইবাদাত বন্দেগী বা আখলাকের ক্ষেত্রে যে ময়লা আবর্জনা প্রবেশ করছে, তা পরিস্কার বা সংস্কার করার দায়িত্ব আদায় করা সম্ভব নয়। ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করা কু-সংস্কারের সংস্কার ও ইসলামী সমাজে বসবাসকারী অসংখ্য জন গোষ্টিকে বিশুদ্ধ আকীদার উপর উঠানো ও তাদের সঠিক পথে পরিচালনার মত মহান দায়িত্ব আদায় করার জন্য স্বল্প সংখ্যক লোকের প্রচেষ্টা ও ত্যাগ যথেষ্ট নয়। তাদের দ্বারা এত বড় দায়িত্ব আদায় করা সম্ভব নয়। মোট কথা, সংশোধন ও তারবীয়ত বর্তমানে একে বারে শূন্যের ঘরে অবস্থান করছে।

যে কোন মুসলিম সমাজ যেখানে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সমাজ পরিচালিত হয় না, উল্লেখিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বাস্তবায়ন ছাড়া রাজনৈতিক আন্দোলন করার পরিণতি কখনো শুভ হবে না। বরং এর খারাব প্রভাব মানুষকে পিছিয়ে দেয়। তবে পরামর্শের মাধ্যমে অথবা শরীয়ত সম্মত বিধি বিধানের আলোকে উত্তম পদ্ধতিতে নছিহত করা, কোন প্রকার বাধ্য করা বা মিটিং মিছিল করা ছাড়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। মানুষের নিকট দাওয়াত পৌছে দিলে তাদের বিপক্ষে হুজ্জত কায়েম করা, দায়িত্ব ও জিম্মাদারি আদায় হতে মুক্তি পাওয়া যাবে। আরও উপদেশ হল, মানুষকে এমন সব কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে, যা তাদের উপকারে আসে। তাদের আকীদা শুদ্ধ করতে হবে, ইবাদাত বন্দেগী, আখলাক ও মুয়ামালাত ঠিক করতে হবে। অনেকে বলে আমরা মুসলিম সমাজে বিশুদ্ধ আকীদা ও তালীম তারবীয়ত বাস্তবায়ন করতে চাই! তবে এটি এমন একটি বিষয় যে কাজটি দ্বারা আকীদার বাস্তবায়ন বিষয়ে আমরা কোন চিন্তাও করি না এবং স্বপ্নও দেখি না। কারণ, এ সবের মাধ্যমে বিশুদ্ধ আকীদার বাস্তবায়ন কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে করীমে এরশাদ করে বলেন,

﴿ وَلَوۡ شَآءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ ٱلنَّاسَ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗۖ وَلَا يَزَالُونَ مُخۡتَلِفِينَ ١١٨ ﴾ [ سورة هود : 118].

যদি তোমার রব চাইতেন, তবে সকল মানুষকে এক উম্মতে পরিণত করতেন, কিন্তু পরস্পর মত বিরোধকারী রয়ে গেছে, [সূরা হুদ, আয়াত: ১১৮]

এদের বিষয়ে আমাদের রবের কথা বাস্তবায়ন হয় না, তবে যদি তারা ইসলামকে বিশুদ্ধরূপে বুঝতে পারে এবং তারা তাদের নিজেদের, পরিবার পরিজন এবং তাদের আশ পাশে যারা আছে, তাদেরকে সহীহ ইসলামের উপর লালন-পালন করে, তখন আমাদের রবের কথার প্রতিফলন হবে।