hadith book logo

কীভাবে স্বাগত জানাব মাহে রমযানকে

লেখকঃ আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আস-সুদাইস • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

রমযানের ফযীলত:

কালের বিবেচনায় এসব উপলক্ষ্যের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট, সম্মানের বিবেচনায় সর্বশ্রেষ্ঠ, প্রভাবের বিবেচনায় সুদূর বিস্তৃত উপলক্ষ্য হল সম্মানিত মাহে রমযান যার টলটলে রস আস্বাদন করে আমরা হই পরিতৃপ্ত। চুমুকে চুমুকে তুলে নিই তার মধু। নাক ভরে শুঁকে নেই তার সুগন্ধি। মাহে রমযান ছাওয়াব-পুণ্য বহুগুণে বেড়ে যাওয়ার মাস। দরজা বুলন্দ হওয়ার মাস। পাপ-গুনাহ মোচন হওয়ার মাস। পদস্খলন থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মাস। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে আবদ্ধ করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি ঈমান ও ছাওয়াব লাভের আশায় এ মাসে সাওম পালন করবে, তারাবীহ পড়বে, তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। সহীহ হাদীসে এভাবেই এসেছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাব তথা আল্লাহর কাছ থেকে ছাওয়াব প্রাপ্তির আশায় সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবসহ রমযানের রাত্রির কিয়াম তথা রাতের সালাত আদায় করবে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ! রমযান মুসলিমদের জন্য বিশাল এক আনন্দের মাস। সময়ের পরিক্রমায় ঘুরে ঘুরে আসে রমযান। আসে এই সম্মানিত মৌসুম। আসে এ মহান মাস। আসে প্রিয় মেহমান হয়ে, সম্মানিত অতিথি হয়ে। এ উম্মতের জন্য মাহে রমযান আল্লাহর এক নেয়ামত। কেননা এ মাসের রয়েছে বহু গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে:

“যখন রমযান আসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

এটা নিঃসন্দেহে বড় সুযোগ। এটা এক সম্মানিত উপলক্ষ্য যেখানে স্বচ্ছতা পায় অন্তরাত্মা। ধাবিত হয় যার প্রতি হৃদয়। যাতে বেড়ে যায় ভালো কাজ করার উৎসাহ-উদ্যম। উন্মুক্ত হয়ে যায় জান্নাত, নাযিল হয় অফুরান রহমত। বুলন্দ হয় দরজা, মাফ করা হয় গুনাহ।

রমযান তাহাজ্জুদ ও তারাবীহর মাস। যিকির ও তাসবিহর মাস। রমযান কুরআন তিলাওয়াত ও সালাতের মাস। দান সাদকার মাস। যিকির-আযকার ও দো‘আর মাস। আহাজারি ও কান্নার মাস।