১
সাওম বিষয়ক আধুনিক কিছু মাসআলা
লেখকঃ ফিকহী গবেষণা সেন্টার, আল-ইমাম ইউনিভার্সিটি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২
সাওম পালনকারীর জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিধান [মূল বইয়ের ৪৭০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।]
বিবরণ: বর্তমান যুগের মত আগে এভাবে রক্তদান কর্মসূচীর বন্দোবস্ত ছিল না। বর্তমানে ব্লাড ব্যাংক নির্মিত হয়েছে, যার প্রধান উৎসই হচ্ছে, রক্তদান। কারণ, কিছু কিছু রোগীর রক্তের জরুরি প্রয়োজন পড়ে। এক্ষণে, রক্ত দিলে তা রক্তদানকারীর সাওমে কোনো প্রভাব ফেলবে কি?
হুকুম: সাওম পালনকারীর জন্য শিঙ্গা লাগানোর মাসআলার ওপর স্বেচ্ছায় রক্তদানের এই মাসআলাটি ক্বিয়াস করা যায়। মাসআলা দু’টির মধ্যে হুবহু মিল রয়েছে। কারণ দু’টিতেই শরীর থেকে রক্ত বের করার প্রসঙ্গটি রয়েছে। অবশ্য একটির উদ্দেশ্য চিকিৎসা গ্রহণ এবং অপরটির উদ্দেশ্য অন্যকে সাহায্য। উদ্দেশ্য যাই হোক, মূল বিষয় হচ্ছে, সাওম পালনকারীর দেহ থেকে রক্ত বের হওয়া। পূর্ববর্তী ফকীহগণ সাওম পালনকারীর জন্য শিঙ্গা লাগানোর মাসআলাটি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এক্ষেত্রে তাদের দুই ধরণের মত পাওয়া যায়:
প্রথম মত: হাম্বলী মাযহাব, ইসহাক, ইবনল মুনযির এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিছ ফকীহর মতে, শিঙ্গা লাগালে সাওম নষ্ট হয়ে যাবে। শায়খুল ইসলাম ইবন তায়মিয়া রহ. এই মত গ্রহণ করেছেন। সঊদী আরবের ‘আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ লিল-বুহূছ আল-ইলমিইয়া ওয়াল-ইফতা’ এই পক্ষ সমর্থন করেছেন। [ফাতওয়া নং ১১৯১৭।]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَفْطَرَ الحَاجِمُ وَالـمَحْجُومُ»
“যে শিঙ্গা লাগায় এবং যার লাগানো হয়, তাদের উভয়ের সাওম ভেঙ্গে যাবে”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৭৭৪। ইমাম আহমাদ রহ. বলেছেন, এই বিষয়ে এটি বিশুদ্ধতম হাদীস।]
দ্বিতীয় মত: অধিকাংশের মতে, শিঙ্গা লাগালে সাওম নষ্ট হবে না। কেননা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন,
«احْتَجَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ صَائِمٌ»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সাওম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৩৯।]
তিরমিযীর অন্য বর্ণনায় এসেছে,
«احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ইহরাম এবং সাওম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৭৭৪।] তারা বলছেন, নিচের হাদীস প্রথম হাদীসটিকে মানসূখ বা রহিত করে দিয়েছে। কারণ, শাদ্দাদ ইবন আওস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, শিঙ্গা লাগাচ্ছিলেন এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর রামাযানের ১৮ তারিখে হেঁটে গেলেন এবং বললেন, أَفْطَرَ الحَاجِمُ وَالـمَحْجُومُ “যে শিঙ্গা লাগায় এবং যার লাগানো হয়, তাদের উভয়ের সাওম ভেঙ্গে যাবে”। অপর পক্ষে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বিদায় হজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন এবং ইহরাম ও সাওম অবস্থায় তিনি তাঁকে শিঙ্গা লাগাতে দেখেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, পরের ঘটনা আগের বর্ণনাকে রহিত করে দিচ্ছে।
উপরোক্ত মতানৈক্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, প্রথম মতানুযায়ী স্বেচ্ছায় রক্ত দিলে তা সাওম নষ্ট করবে। তবে দ্বিতীয় মতানুযায়ী, তা সাওম ভঙ্গ করবে না।
হুকুম: সাওম পালনকারীর জন্য শিঙ্গা লাগানোর মাসআলার ওপর স্বেচ্ছায় রক্তদানের এই মাসআলাটি ক্বিয়াস করা যায়। মাসআলা দু’টির মধ্যে হুবহু মিল রয়েছে। কারণ দু’টিতেই শরীর থেকে রক্ত বের করার প্রসঙ্গটি রয়েছে। অবশ্য একটির উদ্দেশ্য চিকিৎসা গ্রহণ এবং অপরটির উদ্দেশ্য অন্যকে সাহায্য। উদ্দেশ্য যাই হোক, মূল বিষয় হচ্ছে, সাওম পালনকারীর দেহ থেকে রক্ত বের হওয়া। পূর্ববর্তী ফকীহগণ সাওম পালনকারীর জন্য শিঙ্গা লাগানোর মাসআলাটি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এক্ষেত্রে তাদের দুই ধরণের মত পাওয়া যায়:
প্রথম মত: হাম্বলী মাযহাব, ইসহাক, ইবনল মুনযির এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিছ ফকীহর মতে, শিঙ্গা লাগালে সাওম নষ্ট হয়ে যাবে। শায়খুল ইসলাম ইবন তায়মিয়া রহ. এই মত গ্রহণ করেছেন। সঊদী আরবের ‘আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ লিল-বুহূছ আল-ইলমিইয়া ওয়াল-ইফতা’ এই পক্ষ সমর্থন করেছেন। [ফাতওয়া নং ১১৯১৭।]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَفْطَرَ الحَاجِمُ وَالـمَحْجُومُ»
“যে শিঙ্গা লাগায় এবং যার লাগানো হয়, তাদের উভয়ের সাওম ভেঙ্গে যাবে”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৭৭৪। ইমাম আহমাদ রহ. বলেছেন, এই বিষয়ে এটি বিশুদ্ধতম হাদীস।]
দ্বিতীয় মত: অধিকাংশের মতে, শিঙ্গা লাগালে সাওম নষ্ট হবে না। কেননা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন,
«احْتَجَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ صَائِمٌ»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সাওম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৩৯।]
তিরমিযীর অন্য বর্ণনায় এসেছে,
«احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ইহরাম এবং সাওম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৭৭৪।] তারা বলছেন, নিচের হাদীস প্রথম হাদীসটিকে মানসূখ বা রহিত করে দিয়েছে। কারণ, শাদ্দাদ ইবন আওস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, শিঙ্গা লাগাচ্ছিলেন এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর রামাযানের ১৮ তারিখে হেঁটে গেলেন এবং বললেন, أَفْطَرَ الحَاجِمُ وَالـمَحْجُومُ “যে শিঙ্গা লাগায় এবং যার লাগানো হয়, তাদের উভয়ের সাওম ভেঙ্গে যাবে”। অপর পক্ষে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বিদায় হজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন এবং ইহরাম ও সাওম অবস্থায় তিনি তাঁকে শিঙ্গা লাগাতে দেখেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, পরের ঘটনা আগের বর্ণনাকে রহিত করে দিচ্ছে।
উপরোক্ত মতানৈক্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, প্রথম মতানুযায়ী স্বেচ্ছায় রক্ত দিলে তা সাওম নষ্ট করবে। তবে দ্বিতীয় মতানুযায়ী, তা সাওম ভঙ্গ করবে না।